জিপিএ-৫ পেয়েও কলেজে ভর্তি অনিশ্চিত মায়ার

আপডেট : ২৫ জুলাই ২০২৫, ১৫:৫৮

এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে ভালো কলেজে ভর্তির সুযোগ থাকলেও টাকার অভাবে সেই স্বপ্ন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার ধরঞ্জী কুতুবিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থী মারুফা আক্তার মায়ার। 

জানা যায়, মারুফা আক্তার মায়া ধরঞ্জী ইউনিয়নের নন্দইল গ্রামের বাসিন্দা মুরশিদুল ইসলামের কন্যা। পেশায় তিনি একজন ভ্যানচালক। দিনমজুরির ভিত্তিতে আয় হয় তার; যেদিন আয় হয়, সেদিন ভাত জোটে পরিবারের পাতে—না হলে উপোসে কাটে দিন। এই প্রতিকূলতার মাঝেও ছোটবেলা থেকেই অত্যন্ত মেধাবী ছাত্রী হিসেবে পরিচিত মায়া। এসএসসি পর্যন্ত শুধুমাত্র ইচ্ছাশক্তি আর অধ্যবসায়ের জোরে সে পড়ালেখা চালিয়ে গেছে এবং বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে।

মায়ার বাবা মুরশিদুল ইসলাম বলেন, ছোটবেলা থেকেই মায়া পড়ালেখার প্রতি আগ্রহী। কিন্তু টাকার অভাবে ওকে তেমন কিছুই দিতে পারিনি। অনেকদিন না খেয়ে স্কুলে গেছে। আমি যেটুকু আয় করি, তা দিয়ে পাঁচ সদস্যের পরিবারের খাওয়া-দাওয়া চালাই। তার ওপর কিছু ঋণও আছে। মেয়েটার এমন ভালো রেজাল্ট দেখে খুব খুশি হয়েছি, কিন্তু এখন ভালো কলেজে ভর্তি করাতে না পারার চিন্তায় চোখে অন্ধকার দেখছি।

নিজের স্বপ্নের কথা বলতে গিয়ে মারুফা বলেন, ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন ছিল বড় হয়ে ডাক্তার হবো, মানুষের সেবা করবো। কিন্তু এখন কলেজে ভর্তি নিয়েই শঙ্কায় আছি। সরকারি সহায়তা পেলে আমি নিশ্চয়ই পড়ালেখা চালিয়ে যেতে পারবো।”

প্রতিবেশী গোলাম মোস্তফা বলেন, মায়া আমাদের গ্রামের গর্ব। কিন্তু তাদের পরিবারে সবসময় অভাব লেগেই থাকে। মেয়েটির পড়াশোনা থেমে গেলে সেটা খুবই দুঃখজনক হবে।”

ধরঞ্জী কুতুবিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, মায়া অত্যন্ত মেধাবী ও পরিশ্রমী ছাত্রী। সীমাহীন কষ্টের মাঝেও সে ভালো ফলাফল করেছে। তার জন্য আমরা গর্বিত। আমি তার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করি।

ইত্তেফাক/এএইচপি