আস্থার আলোকবর্তিকা: ক্রান্তিকালের সাংবাদিক থেকে রাষ্ট্রদূত

আপডেট : ২৭ জুলাই ২০২৫, ০২:১২

জাতীয় সংকটের মুহূর্তে যিনি হয়ে উঠেছেন সকল পক্ষের আস্থার প্রতীক—মুশফিকুল ফজল আনসারীর সাংবাদিকতা থেকে রাষ্ট্রদূত হয়ে ওঠার পথে এক সাহসী অভিযাত্রা। বাংলাদেশের ইতিহাসের এক অন্ধকারতম অধ্যায়ে, যখন গণতন্ত্র বন্দী, ভোটাধিকার পদদলিত, রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় গুম, খুন, নির্যাতনে আতঙ্কিত এক বাংলাদেশ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নিপতিত হয়েছিল গভীর দুঃসময়ে—তখন বিশ্বসভায় এক সাহসী কণ্ঠস্বর ঝলসে উঠে। জাতিসংঘ, হোয়াইট হাউস, স্টেট ডিপার্টমেন্ট কিংবা পেন্টাগনের ব্রিফিং রুমে ভেসে আসে এক নাম—“দিস ইজ মুশফিকুল ফজল”। কূটনৈতিক মহলে বিস্ময়—এ কেমন সাংবাদিক, যিনি তথ্য, যুক্তি আর নির্ভীক প্রশ্নের মাধ্যমে একাই রাষ্ট্রের অন্যায় নীতিকে চ্যালেঞ্জ করেন? আন্তর্জাতিক মহল লক্ষ করতে থাকে, কীভাবে একজন প্রবাসী সাংবাদিক হয়ে ওঠেন মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, মানবাধিকার ও গণতন্ত্রের বলিষ্ঠ মুখপাত্র। আর দেশের মানুষ? তারা তখন তাকিয়ে আছে কোনো আশার প্রতীক খুঁজে, যিনি সংকটে দেখাতে পারেন দিশা।

ঠিক তখনই, স্বৈরাচার পতনের অব্যবহিত পর, যখন সরকার গঠনের প্রশ্নে সবাই কিংকর্তব্যবিমূঢ়—সাংবাদিক মুশফিকুল ফজল আনসারী আবারও ইতিহাসের মঞ্চে আগমন করেন। এগিয়ে আসেন একজন নেপথ্য কারিগর হিসেবে, গড়ে তোলেন ঐক্য, ছাত্রদের কণ্ঠে উচ্চারিত হয় ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নাম—নিরপেক্ষ সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে সম্ভাব্য নেতৃত্ব। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তটির মূলে ছিল তাঁর দূরদর্শিতা, সংযোগ ও বিশ্বাসযোগ্যতা।

তিনি শুধু রাজনৈতিক নেতাদের মাঝে সেতুবন্ধন গড়েননি, বরং সকলকে বুঝাতে সক্ষম হয়েছেন —আস্থা আর গ্রহণযোগ্যতা এখনো সম্ভব, এখনো প্রয়োজন, এবং একজন সাংবাদিকও হতে পারেন একটি জাতির সংকটমুক্তির দূরদর্শী কণ্ঠ।

পুরো জাতি যখন এক চিন্তায় দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে একটি কাঙ্খিত ফলাফলের আশায় থাকে, তখনই বারবার তার উপর আস্থা রেখেছে জনগণ ও রাজনৈতিক পক্ষগুলো। প্রথমত ৫ আগস্টে ড. ইউনূসের নাম প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে ছাত্রদের মাধ্যমে প্রস্তাব ও সকল রাজনৈতিক ও আদর্শিক শক্তির মেনে নেয়ার সিদ্ধান্ত।‌ দ্বিতীয়ত দেশের রাজনীতির আকাশে আবারো যখন কিছুটা মেঘের দেখা, তখনই ময়নাতদন্তে বেরিয়ে আসে তার নাম। বাংলাদেশপন্থী সকল মানুষের আস্থার মানুষ হিসেবে বারবার প্রমাণ করে চলেছেন মুশফিকুল ফজল আনসারী।

আমরা বিষয়টি উদাসীনভাবে ছেড়ে গেলেও এখানে বড় করে নুক্তা দিয়ে রাখা দরকার। আমাদের সবচেয়ে দুশ্চিন্তার মুহূর্তে আমরা যার উপর বিশ্বাস রাখি, তাকে চিনে রাখা দরকার।

সাবেক সাংবাদিক মুশফিকুল ফজল আনসারীর প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা দীর্ঘদিনের। ‌হাসিনা বিরোধী আন্দোলন যখন থেকে দানা বেঁধেছে, তখন সকল মানুষের সর্বোচ্চ আস্থার জায়গায় ছিলেন সে সময়ে জাতিসংঘ, হোয়াইট হাউস, স্টেট ডিপার্টমেন্টে বাংলাদেশের মুক্তিকামী মানুষের প্রতিনিধিত্বকারী মুশফিকুল ফজল আনসারী। বাংলাদেশের মানুষ যে বিষয়ে আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাইতো, সেটাই প্রতিধ্বনিত হতো মুশফিকুল ফজল আনসারীর কন্ঠে। তিনি হাসিনার সকল অপশাসনের কথা আন্তর্জাতিক মহলকে জানাতেন। হোক সেটা প্রথম আলোর অফিসে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীদের উৎপাত কিংবা রাজনৈতিক কর্মসূচিগুলোতে পুলিশ লীগ কর্তৃক দমন-পীড়ন। গুম, খুন, দুর্নীতি, প্রহসনে নির্বাচন কিংবা নিষিদ্ধ সংগঠনের প্রভুদের দ্বারা সীমান্ত হত্যা, সকল বিষয় উচ্চারিত হতো মুশফিকুল ফজল আনসারীর কন্ঠে।

মুশফিকুল ফজল আনসারী কেবল দেশের সংকটে নয়, বরং আন্তর্জাতিক পরিসরেও গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও ন্যায়ের এক নির্ভীক কণ্ঠ। জাতিসংঘ, হোয়াইট হাউস, স্টেট ডিপার্টমেন্টসহ পশ্চিমা নীতিনির্ধারকদের কাছে তিনি বাংলাদেশের নিপীড়িত মানুষের প্রতিনিধি হয়ে ওঠেন। গুম, খুন, ভুয়া মামলা, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, প্রহসনের নির্বাচন কিংবা রাজনৈতিক দমন—সবই তাঁর কণ্ঠে পৌঁছে যায় বিশ্বের দরবারে। জাতিসংঘের শীর্ষ কর্মকর্তারাও যখন স্বৈরাচার সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হতেন, তখনও তিনি প্রশ্ন তুলেছেন।

শুধু বাংলাদেশ নয়, দক্ষিণ এশিয়ার গণতন্ত্র সঙ্কটে তাঁর কণ্ঠ ছিল প্রাসঙ্গিক ও প্রভাবশালী। শ্রীলঙ্কার গণঅভ্যুত্থানের সময় আনসারী আন্তর্জাতিক মহলে শ্রীলঙ্কার জনগণের পক্ষে সরব হন। প্রেসিডেন্ট গোটাবায়ার পদত্যাগের পেছনের গণতান্ত্রিক চেতনা বিশ্বের কাছে তুলে ধরেন তিনি। ভারতের উগ্র হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির বিরুদ্ধে তাঁর অবস্থান ছিল অকুতোভয়। এনআরসি-সিএএ ইস্যু, দিল্লির মুসলিম গণহত্যা এবং কংগ্রেস ও আম আদমি পার্টির নেতাদের দমন—এইসব বিষয় জাতিসংঘ ও স্টেট ডিপার্টমেন্টে তাঁর সরব অবস্থান ভারতীয় কট্টর ডানপন্থী মিডিয়ার মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

এএনআই-এর সম্পাদক স্মিতা প্রকাশ তাকে ‘পাকিস্তানি এজেন্ট’ বলে টুইট করেন, রিপাবলিক টিভির অর্ণব গোস্বামী ঘণ্টাব্যাপী অপপ্রচার চালান। তবুও তিনি অবস্থানে অটল থাকেন। সেসময়ে কংগ্রেস, আম আদমি পার্টি এবং অল ইনডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমীনের নেতারা তাঁর সাহসী সাংবাদিকতার প্রসংসা করেন দ্যা ওয়ার এর লখক ও ওসিসিআর-এর ফেলো মুশিফকুল ফজল আনসারীর।

মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের উপর জাতিগত নির্মূল অভিযান যখন ভয়াবহ আকার ধারণ করে, তখন গোটা বিশ্ব এক ধরনের বিব্রত নীরবতায় নিপতিত ছিল। শুরুতে শেখ হাসিনার সরকার রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় দিতে দ্বিধা ও অনীহা প্রকাশ করলে, সাংবাদিক মুশফিকুল ফজল আনসারী সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন ও জাতিসংঘের নীতিনির্ধারকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট এবং জাতিসংঘে প্রশ্ন তোলেন—বাংলাদেশ সরকার কেন শরণার্থীদের মানবিক আশ্রয় দিতে পিছপা হচ্ছে, এবং কেন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপ কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে না? এই প্রশ্ন ও চাপের ফলে জাতিসংঘ ও ওয়াশিংটনে বিষয়টি অগ্রাধিকার পায়। পরিস্থিতি পাল্টে যায়, এবং বাংলাদেশ সরকার জাতিগত নিধনের শিকার রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে সীমান্তে আশ্রয় দিতে বাধ্য হয়। এটি ছিল কূটনৈতিক চাপ ও মানবিক মূল্যবোধের এক যৌথ বিজয়—যার মূলে ছিল একজন সাংবাদিকের সাহসী কণ্ঠস্বর।

পরবর্তীতে জাতিসংঘে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি সরাসরি রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভকে প্রশ্ন করেন—মিয়ানমারের সামরিক জান্তাকে রাশিয়ার সমর্থন এবং নিরাপত্তা পরিষদে ভেটোর ব্যবহার কি জাতিসংঘ সনদের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ?

ল্যাভরভ জবাব দেন কূটনৈতিক ভাষায়, কিন্তু আন্তর্জাতিক মহলে এই প্রশ্ন আলোড়ন তোলে। মুশফিকুল ফজল আনসারী এভাবে রোহিঙ্গা সংকটকে শুধু একটি স্থানীয় উদ্বেগ নয়, বরং একটি বৈশ্বিক মানবিক ইস্যু হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হন।

জুলাইয়ের ছাত্র অভ্যুত্থান কেবল ঢাকায় নয়, ছড়িয়ে পড়ে সারাদেশে। এই আন্দোলনে আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায়ে তাঁর ভূমিকা ছিল অনন্য। স্টেট ডিপার্টমেন্টের প্রতিশ্রুতি, জাতিসংঘে সচেতনতা সৃষ্টি—সবই তাঁর কৌশলী যোগাযোগের ফল।

ডিবি কার্যালয় থেকে ছাত্রনেতাদের মুক্তির পরপরই তিনি প্যারিসে থাকা ড. ইউনূসের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করেন। কয়েক দিনের মধ্যেই ড. ইউনূস স্বৈরাচার সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ বার্তা দেন। এটি ছিল নতুন সূর্যের উদয়ের পূর্বাভাস।

আন্দোলনের সর্বশেষ অধ্যায় তথা জুলাই অভ্যুত্থানের সময় তার ভূমিকা তাকে বাংলাদেশের ইতিহাসে গৌরবের আসনে সমাসীন করেছে। ছাত্র আন্দোলনে আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায়ে তার ভূমিকা ছিল অনন্য। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে তিনি সেই আন্দোলনে ছাত্রদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি এনে দিয়েছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট যখন ছাত্রদের সঙ্গে থাকার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে, তখন থেকেই সেই আন্দোলন তীব্র হতে থাকে। ছড়িয়ে পড়ে দেশের প্রতিটি জেলায়। এর আগ পর্যন্ত আন্দোলনের সীমানা ছিল শুধুমাত্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

প্রতিনিয়ত ছাত্র হত্যার বিষয়টি আন্তর্জাতিক মহলের কাছে তুলে ধরেছিলেন সাংবাদিক মুশফিকুর ফজল আনসারী। ‌ফলে জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র বিষয়টি কোনোভাবেই এড়িয়ে যেতে পারেনি।

আন্দোলন যখন সরকারের পদত্যাগ পর্যন্ত পৌঁছে গেছে, তখন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পরামর্শ ও সাহস দেয়ার কাজটি সফলভাবে করতে সক্ষম হয়েছেন মুশফিকুল ফজল আনসারী। ডিবি অফিস থেকে সমন্বয়করা ছাড়া পাবার সঙ্গে সঙ্গে প্যারিসে অবস্থানরত অধ্যাপক ড. মুহাম্মাদ ইউনূসের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি করে দেন তিনি। বাংলাদেশের মুক্তিকামী মানুষের সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করে প্রফেসর ইউনূস স্বৈরাচার সরকারকে লাল কার্ড দেখান। আমি মনে করি এটি ছিল চূড়ান্ত বিজয়ের পূর্বে সূর্যদেয়র শুরু। এর কয়েক দিনের মধ্যেই বাংলাদেশের আকাশে নতুন এক সূর্য উঠে।

এরপর শুরু হয় নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া। সেখানেও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন আমাদের প্রিয় মুশফিকুল ফজল আনসারী। সরকার প্রধান কে হবেন, এটা নিয়ে যখন পুরো জাতি দুশ্চিন্তাগ্রস্ত, তিনি আবারও সামনে আসলেন। প্রফেসর মুহাম্মাদ ইউনূসকে রাজি করাতে এগিয়ে এলেন। নতুন বাংলাদেশে সর্বজন শ্রদ্ধেয় হিসেবে তার নাম ছাত্রদের মুখ দিয়ে ঘোষণা করিয়েছেন মুশফিকুল ফজল আনসারী। তখনকার সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিওতে স্পষ্ট করেছে। নতুন সরকার গঠনের সময়, যখন অধ্যাপক ইউনূসকে প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে জাতি গ্রহণ করে, তখন মন্ত্রিসভায় আনসারীকে চাওয়া হয়। কিন্তু তিনি প্রস্তাব গ্রহণে অপরাগতা প্রকাশ করে তার নাম না জড়ানোর অনুরোধ জানিয়ে ফেসবুকে পোস্ট ও টুইট করেন। তখন আন্তর্জাতিক মহলে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ছড়ানো “হিন্দু গণহত্যা” সংক্রান্ত মিথ্যাচার রুখে দেওয়াই ছিল তাঁর অগ্রাধিকার।

পরবর্তীতে ড. ইউনূসের আহ্বানে সাড়া দিয়ে মেক্সিকোতে রাষ্ট্রদূত হিসেবে তাঁর দায়িত্বগ্রহণ নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে। স্বল্প সময়ে তিনি প্রমাণ করেছেন, কূটনৈতিক দায়িত্ব মানে শুধু রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা নয়—এটি আস্থা, মর্যাদা ও জাতীয় নৈতিকতা রক্ষার দায়িত্ব।

এখন পর্যন্ত ল্যাইটন আএমিরকাএত যে কজন রাষ্ট্রদূত দায়িত্ব পালন করেছেন, তিনি মাত্র কয়েক মাসে তার অপিরিহার্যতা প্রমাণে সক্ষম হয়েছেন।

এবার আসি বাংলাদেশের সমসাময়িক প্রসঙ্গে। ‌বিএনপি ও সরকারের সঙ্গে যখন কিছুটা দূরত্ব তৈরি হয়েছিল এবং উভয় পক্ষই অভিমানে জড়িয়ে পড়েছিলেন তখন আবারো দেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণে সামনে এগিয়ে আসেন সবার প্রিয় রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী।

ড. ইউনূস কি পদত্যাগ করতে চলেছেন, কে নিবেন দায়িত্ব, আবারো কি ফিরে যাচ্ছি সেই স্বৈরশাসনে নাকি বিরাজনীতিকরণের দিকে অনন্তকালের যাত্রা? -প্রশ্ন যখন রাজনীতির আকাশে কালো মেঘ জড়ো করেছিল, তিনি উদ্যোগ নিলেন দেশের নির্বাহী প্রধান ড. মুহাম্মাদ ইউনূস ও রাজনৈতিক প্রধান জনাব তারেক রহমানের বৈঠকের। লন্ডনে সফল একটি বৈঠক হলো। নির্বাচন নিয়ে ধোঁয়াশা কেটে গেলো। সরকার ও বিএনপির মধ্যে দূরত্ব কমে গেলো। জাতি আবারও বুঝতে পারলো, মুশফিকুল ফজল আনসারী সকলের পরিক্ষিত আস্থার জায়গা।

একজন মানুষকে দেশের সকল মানুষ বিশ্বাস করে, এটা সত্যিই বিরল। পৃথিবীতে যত জাতি এগিয়ে গেছে, তাদের এগিয়ে যাওয়ার যাত্রায় এমন একজন মানুষকে তারা পেয়েছিলেন। যার উপর সকল মানুষের আস্থা আছে।

এজন্যই শিরোনামে আমি তাকে ক্রান্তিকালের সাংবাদিক থেকে রাষ্ট্রদূত বলেছি। যাকে দেশের প্রতিটি ক্লান্তিকালে আমরা পেয়েছি। বাংলাদেশপন্থী সকল মতাদর্শের মানুষের কাছে তিনি আস্থার প্রতীক। বিশ্বাসের ঠিকানা। পরীক্ষিত যোদ্ধা। আজ পর্যন্ত তার কোনো বক্তব্য কিংবা কর্ম বাংলাদেশপন্থী মানুষকে হতাশ করেনি। তাকে নিয়ে কারো কোনো প্রশ্ন নেই। বাংলাদেশের আগামীর ইতিহাসে একজন কিংবদন্তি হিসেবে জায়গা করে নিয়েছেন।

তিনি প্রমাণ করেছেন, একজন সাংবাদিকও হতে পারেন জাতির কূটনীতিক, একজন কূটনীতিকও হতে পারেন জাতীয় নীতিনির্ধারকের আস্থার জায়গা। অইস্থর বাঙলাএদেশর এই সময়ে তিনি হয়ে উঠেছেন গ্রহণযোগ্য—বিশ্বস্ত, ঐক্য ও নির্ভরযোগ্যতার প্রতীক।

ইত্তেফাক/এমএএম