নারী ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনাল

স্পেনের ইতিহাস নাকি ইংল্যান্ডের পুনরাবৃত্তি

আপডেট : ২৭ জুলাই ২০২৫, ১১:৪৬

'আসিতেছে শুভদিন, দিনে দিনে বহু বাড়িয়াছে দেনা শুধিতে হইবে ঋণ।' কাজী নজরুল ইসলামের 'কুলি-মজুর' কবিতার লাইনটি ইংলিশ নারী ফুটবলাররা শুনেননি, শোনার কথাও না। তবে লাইনটির সঙ্গে বর্তমান ইংল্যান্ড নারী দলের সঙ্গে মিল খুঁজে পাবেন। অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত হওয়া সবশেষ ২০২৩ বিশ্বকাপের ফাইনালে এই ইংল্যান্ডকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ের স্বাদ পেয়েছে স্পেনের মেয়েরা। মঞ্চ ভিন্ন হলেও প্রায় দুই বছর পর আবারও ফাইনালে একে অপরের বিপক্ষে মাঠে নামবে দুই ইউরোপ জায়ান্ট। তাতে পুরোনো হিসেব-নিকেশ মেটানোর সুযোগ পাচ্ছে ইংল্যান্ড।

ম্যাচটি সুইজারল্যান্ডের বার্নের সেন্ট জ্যাকব-পার্ক স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় আজ রাত ১০টায় অনুষ্ঠিত হবে। এই টুর্নামেন্টের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড। গেল আসরের ফাইনালে জার্মানিকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল ইংলিশ মেয়েরা। এবার দলটির সামনে টানা দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা জয়ের হাতছানি। অন্যদিকে ইউরোপ ফুটবলের পরাশক্তি দল স্পেন হলেও দেশটির মেয়েরা এখনো জয় করতে পারেনি ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা। চলমান আসরে প্রথমবারের মতো টুর্নামেন্টের ফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছেন স্প্যানিশ মেয়েরা। এবার তাদের লক্ষ্য প্রথম বারের মতো ইউরোপের নারীর মুকুট পরা। 

তবে কাজটি যে মোটেও সহজ হবে না সেটাই জানেন দুইবারের ব্যালন ডি'অর জয়ী তারকা বনমাতি। যার কারণে ফাইনালে ইংলিশদেরই ফেভারিট মানছেন তিনি। ফাইনালে মাঠে নামার আগে গতকাল সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, 'ইংল্যান্ড বর্তমান ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়ন। তাই শিরোপা ধরে রাখার সমস্ত চাপ তাদের ওপর। আমরা তাদের থামানোর চেষ্টা করবো। আমরা ম্যাচের ওপর মনোযোগ দিচ্ছি, কিন্তু তারাই ফেভারিট।' 

তবে সাম্প্রতিক নিজেদের পারফরম্যান্সের ওপর আস্থা রেখে লড়াই চালিয়ে যাবেন বলে জানান এই স্প্যানিশ তারকা মিডফিল্ডার। তিনি বলেন, 'আমরা ঠিক জানি না, তারা কী করবে। তবে আমরা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাদের বিরুদ্ধে যে খেলাগুলো খেলেছি তার মতোই একটি খেলা আশা করছি। যেগুলোতে সমানে সমান লড়াই হয়েছে। যেমনটি আমি বলেছি তারা যেভাবেই খেলুক না কেন, আমরা প্রস্তুত।'

যদিও দুই দলের অতীত পরিসংখ্যানে স্প্যানিশদের চেয়ে এগিয়ে আছে ইংলিশ মেয়েরা। এখন পর্যন্ত ১৪ বার মুখোমুখি হয়েছে ইংল্যান্ড ও স্পেন। যেখানে ইংলিশদের সাত জয়ের বিপরীতে স্প্যানিশদের জয় চারটি এবং বাকি তিনটি ম্যাচ ড্র হয়।

ইত্তেফাক/জেডএইচ