মোহামেডানের ইংলিশ কোচ ছিলেন শন ব্রেন্ডন লেন, তিনি ২০১৯-২২ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেছেন। সেই সময় তার হাতে মোহামেডানের বেশ কিছু তরুণ খেলোয়াড়ের ভিত তৈরি হয়েছিল। যারা পরবর্তীকালে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স করেছেন। শন লেন দায়িত্ব গ্রহণের পরই মোহামেডান ৪-১ গোলে বসুন্ধরা কিংসের কাছে হেরেছিল, মোহামেডান ৪-০ গোলে হারায় আবাহনীকে।
শন লেন চলে যাওয়ার পরও তার কাজের দক্ষতার কথা মোহামেডান স্মরণ করেছিল। অন্যান্য ক্লাব ফুটবল দলও ভালো কোচ হিসেবে মন্তব্য করেছিল। সম্প্রতি এই ইংলিশ কোচের নাম ফের একবার উঠে এসেছে দেশের ফুটবলে। গেল কিছু দিন ধরে বাফুফের অন্দর মহলে আলোচনা উঠেছিল শন লেনকে জাতীয় দলের কোচ নিয়োগ দেওয়া যায় কি না, সেটা নিয়ে। শুধু তা-ই নয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও শন লেনের নামটি ঘুরে বেড়িয়েছিল। তবে শন দায়িত্ব নিতে চান না জামালদের। নিজে থেকেই বিষয়টি জানিয়ে দিয়েছেন বাফুফেকে।
বাংলাদেশ ফুটবল দলের জন্য কোচ লাগবে। সম্প্রতি সময়ে দলে একাধিক তারকা প্রবাসী খেলোয়াড় যুক্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে সবচেয়ে বড় নাম ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের খেলোয়াড় হামজা দেওয়ান চৌধুরী। তবে এত বড় নাম দলে থাকার পরও ফলাফলটা আশানুরূপ আসছে না। ভালো পারফরম্যান্স করেও হতাশ হচ্ছে দল। যার দায় পড়ছে দলের স্প্যানিশ কোচ হ্যাভিয়ের কাবরেরার কাঁধে।
সমর্থকরা দেখতে চান নতুন কোচ, হঠাতে চান কাবরেরাকে। সবখানেই এমন আলোচনা চলছে, শোনা গিয়েছে বাফুফের কর্তাদেরও চাওয়া এটি। তবে চাইলেই হুট করে বদলানো যায় না কোচ। বর্তমান কোচ কাবরেরার মেয়াদ এশিয়ান কাপের বাছাইয়ের শেষ ম্যাচ পর্যন্ত; অর্থাৎ আগামী বছরের মার্চে। তারপর বাফুফে কী করবে? নতুন কোচের সন্ধান চেয়েছিল মুখে মুখে। সেখান থেকেই কারো মুখ থেকে মোহামেডানের সাবেক কোচ শন লেনের নাম ওঠানো হয়।
জানা গেছে ১০ হাজার ডলার বেতনে নেওয়া যেতে পারে, এমন একটি প্রস্তাব মুখে মুখে নীতিনির্ধারণী কর্মকর্তার আলোচনায় উঠেছিল। কিন্তু বাফুফে সূত্রের খবর হচ্ছে, শন লেনকে তারা নিচ্ছে না। আগ্রহ নেই বাফুফের, শুধু তা-ই নয়, ইংলিশ কোচেরও আগ্রহ নেই এই দায়িত্ব নেওয়ার। বাফুফের নির্ভরযোগ্য সূত্রের খবর হচ্ছে, তার কথা যখন কর্তারা ভাবছিলেন, তখন শন লেন নিজেই বাফুফের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তিনি বাফুফেকে জানিয়েছেন, বর্তমান বাংলাদেশ জাতীয় দলের দায়িত্ব নিতে রাজি না তিনি। এ সময় কেন রাজি না সেটিও ব্যাখ্যা করেছেন তিনি।
শন লেন বাফুফেকে জানিয়েছেন, বাংলাদেশ ফুটবল দলের বর্তমান পারফরম্যান্স অন্য একটি উচ্চতায় উঠেছে। এ অবস্থায় আরও উচ্চমানের কোচ দরকার। বাংলাদেশ যদি তাদের ফুটবলকে আরও উচ্চতায় নিয়ে যেতে চায়, তাহলে কাবরেরার চেয়েও ভালো মানের কোচ আনা দরকার।
সব থেকে বড় বিষয় হচ্ছে, যখন বাফুফের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন শন লেন, সেই সময় তিনি একটি গোপন কথাও জানিয়ে দেন। এই ইংলিশ কোচকে ১০ হাজার ডলারের কথা বলা হলেও আদতে তিনি পেতেন ৬ হাজার ডলার। এমন তথ্য বাফুফেকে আহত করেছে। যদি ১০ হাজার ডলার চুক্তি হতো, ৬ হাজার ডলার পেতেন কোচ আর বাকি ৪ হাজার ডলার তাকে ফিরিয়ে দিতে হতো, কাকে? কে নিতে চেয়েছিলেন সেই ৪ হাজার ডলার। এরপরই শন লেনকে বাংলাদেশ দলের কোচ করার প্রস্তাবটি মাটি চাপা পড়ে যায়।
