গাজায় দুর্ভিক্ষ লুকাতে বিমান থেকে ত্রাণ ফেলার অপপ্রচারের নিন্দা হামাসের

আপডেট : ২৭ জুলাই ২০২৫, ১৭:০৫

গাজায় ইসরায়েলের বিমান হামলা এবং আকাশ থেকে ত্রাণ ফেলার নামে সীমিত মানবিক করিডোরকে 'দখলদারদের ভাবমূর্তি সাদা করার' লক্ষ্যে 'প্রতারণামূলক কৌশল' বলে বর্ণনা করেছে হামাস। সেই সঙ্গে তারা অবরোধ তুলে নেওয়ার এবং ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে অনাহার অভিযান বন্ধ করার আন্তর্জাতিক দাবিকে অগ্রাহ্য করার নিন্দা জানিয়েছে।

একটি সরকারি বিবৃতিতে ফিলিস্তিনি মুক্তিকামী সংগঠনটি তথাকথিত ত্রাণ ফেলাকে 'দুর্ভিক্ষ পরিচালনা, জবরদস্তিমূলক বাস্তবতা চাপিয়ে দেওয়া এবং বেসামরিক নাগরিকদের বিপদ ও অপমানের শিকার করার জন্য একটি পরিকল্পিত নীতির' অংশ হিসাবে বর্ণনা করেছে।

হামাস বলেছে, 'গাজায় খাদ্য ও ওষুধ পৌঁছানো কোনো অনুগ্রহ নয়, এটি একটি প্রাকৃতিক অধিকার এবং নাৎসির মতো দখলদারিত্বের আরোপিত বিপর্যয় বন্ধ করার জন্য একটি জরুরি প্রয়োজন।'

এতে জোর দেওয়া হয়েছে, 'আগ্রাসন বন্ধ করা, অবরোধ ভেঙে ফেলা এবং সমস্ত সীমান্ত ক্রসিং খুলে দেওয়া হলো গাজায় অনাহারের অপরাধ বন্ধ করার একমাত্র উপায়।'

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি অবরোধ ভাঙতে এবং ক্ষুধা ও গণহত্যার ইচ্ছাকৃত অভিযান বন্ধ করার জন্য সরকারি এবং জনসাধারণের চাপ বৃদ্ধি করার আহ্বান জানিয়েছে হামাস।

হামাসের বিবৃতিতে চলমান নৃশংসতা থেকে মনোযোগ সরাতে ইসরায়েলি প্রচারণার ফাঁদে না পড়ার জন্যও সতর্ক করা হয়েছে।

২৭ মে থেকে ইসরায়েল জাতিসংঘ এবং আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থাগুলোকে এড়িয়ে গাজা হিউম্যানিটেরিয়ান ফাউন্ডেশন-এর মাধ্যমে একটি পৃথক সাহায্য বিতরণ উদ্যোগ শুরু করেছে। এই পদক্ষেপ বিশ্বব্যাপী ত্রাণ সম্প্রদায় ব্যাপকভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। এটি মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের একটি ত্রাণ ব্যবস্থা।

ইসরায়েলি বাহিনী বিতরণ কেন্দ্রের কাছে জড়ো হওয়া ফিলিস্তিনিদের ওপর গুলি চালিয়ে যাচ্ছে। এর ফলে শত শত মানুষ নিহত হচ্ছে।

যুদ্ধবিরতির আন্তর্জাতিক আহ্বান প্রত্যাখ্যান করে ইসরায়েল ২০২৩ সাল থেকে গাজায় নৃশংস গণহত্যা চালিয়ে যাচ্ছে। অঞ্চলজুড়ে এখন পর্যন্ত ৫৯ হাজার ৭০০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে, যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। এই অবিরাম বোমাবর্ষণে অঞ্চলটি ধ্বংস হয়ে গেছে এবং খাদ্য সংকটে দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছে।

গত নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত গাজায় যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য নেতানিয়াহু ও তার প্রাক্তন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। উপত্যকাজুড়ে যুদ্ধের জন্য ইসরায়েল আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গণহত্যার মামলার মুখোমুখি।

ইত্তেফাক/এসকে