নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত সড়কে ভয়াবহ ভাঙন, যোগাযোগ বিচ্ছিন্নের আশঙ্কা

আপডেট : ২৯ জুলাই ২০২৫, ১৬:১৯

টানা বর্ষণে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সীমান্ত সড়কের বিভিন্ন অংশে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। নাইক্ষ্যংছড়ি সদর থেকে আমতলী মার্ট পর্যন্ত প্রায় ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ জনবহুল এই সড়কের অধিকাংশ স্থানেই মাটিধসে চলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে সদর ইউনিয়নের চাকঢালা এলাকার প্রবেশপথে বড় ধরনের ধস দেখা দেওয়ায় ভারী যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রয়েছে। এতে চাকঢালা ও সদর উপজেলার মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।

এই সড়ক দিয়েই প্রতিদিন সীমান্তবর্তী চাকঢালা এলাকার হাজারো মানুষ, স্কুল-কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, বাজারের ব্যবসায়ী ও কৃষক যাতায়াত করে থাকেন। ফলে সাধারণ মানুষের চরম দুর্ভোগের পাশাপাশি কৃষিপণ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় মালামাল পরিবহন কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ছোট যানবাহন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করলেও বড় ধরনের কোনো যান চলাচল করতে পারছে না।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কটি দুই বছর আগে সড়ক ও জনপদ বিভাগ (সওজ) কর্তৃক সংস্কার করা হলেও তা ছিল অপর্যাপ্ত এবং পরিকল্পনাহীন। ফলে অল্প সময়েই আবারও ভাঙনের কবলে পড়ে সড়কটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সচেতন মহলের মতে, যথাযথ ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও গাইডওয়াল নির্মাণের অভাবেই এই বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।

চাকঢালা ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ, স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. কামাল ও মহিছুন্নাহ দাখিল মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম জানান, প্রতি বছর বর্ষায় সড়কের পাশের ছড়াগুলোর পানি বেড়ে গিয়ে সড়কের মাটি সরে যায়। গাইডওয়াল না নির্মাণ করলে এক সময় পুরো সড়ক বিলীন হয়ে যাবে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

তারা আরও জানান, এই সড়কটি সীমান্তে অবস্থিত ১১ বিজিবির নিকুছড় ও চাকঢালা বিওপি ক্যাম্পের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিজিবি সদস্যদের যাতায়াত, রসদ সরবরাহ ও প্রশাসনিক কার্যক্রম এই সড়কের ওপর নির্ভরশীল।

নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়নের প্রশাসক মাহবুব এলাহী বলেন, চাকঢালা এলাকার গ্রামগুলো থেকে উপজেলায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ খাদ্যশস্য সরবরাহ করা হয়। সড়ক ভাঙনের কারণে ওইসব পণ্য পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে, ফলে সরকার লক্ষ লক্ষ টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, সড়কের বেশ কয়েকটি অংশ ইতিমধ্যেই ভেঙে পড়ার মুখে। যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ১১ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস. এম. কফিল উদ্দিন কায়েস বলেন, বিষয়টি আমরা গুরুত্ব সহকারে পর্যবেক্ষণ করছি। দ্রুত সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে অবহিত করা হবে।

তবে বারবার চেষ্টা করেও বান্দরবান জেলা সড়ক ও জনপদ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাখায়ত হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

চাকঢালা বাজার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং বিজিবির ক্যাম্পের সংযোগ রক্ষাকারী এই গুরুত্বপূর্ণ সড়ক দ্রুত সংস্কার ও গাইডওয়াল নির্মাণের দাবিতে এলাকাবাসী ও সচেতন মহল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

ইত্তেফাক/এএইচপি