মাইলস্টোন ক্যাম্পাসে ট্রমা কাটিয়ে উঠতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কাউন্সেলিং

আপডেট : ২৯ জুলাই ২০২৫, ১৭:৪৯

রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়িতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনার পর মানসিক আঘাতে ভুগছে বহু শিক্ষার্থী। তাদের ট্রমা কাটিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে অভিভাবকরা সন্তানদের নিয়ে আসছেন কাউন্সেলিং সেন্টারে। অনেক অভিভাবকও নিজে ট্রমায় আক্রান্ত হয়ে নিচ্ছেন চিকিৎসকদের পরামর্শ।

মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) সকাল ১১টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত ক্যাম্পাসে সরেজমিনে দেখা যায়, শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের ভিড় রয়েছে ব্র্যাক ও বিমানবাহিনীর যৌথ ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত কাউন্সেলিং কক্ষে। ঘটনাস্থলে অস্থায়ী চিকিৎসা ক্যাম্পও চালু রেখেছে বাংলাদেশ বিমানবাহিনী।

অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী দেবস্মিতা রায়কে নিয়ে এসেছিলেন তার বাবা মনোজ রায়। তিনি জানান, মর্মান্তিক সেই দৃশ্য চোখের সামনে দেখার পর থেকে মেয়ে আতঙ্কে রয়েছে। এখন মেঘের গর্জনেও কেঁপে ওঠে সে। কাউন্সেলিংয়ে তাকে ভয় কাটানোর পরামর্শ ও ‘ডিপ ব্রেদিং’ ব্যায়াম শেখানো হয়েছে।

চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী অভ্র সাধু এখনো বাকরুদ্ধ। তার মা সুস্মিতা সাধু বলেন, ছেলের মানসিক অবস্থা দেখে ভীষণ উদ্বিগ্ন হয়ে তিনি চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়েছেন।

শুধু শিক্ষার্থী নয়, ঘটনাস্থলের পাশেই থাকা অনেক অভিভাবকও ভুগছেন মানসিক বিপর্যয়ে। জেসমিন বেগম বলেন, তার সন্তান এখন ক্যাম্পাসে ঢুকতেই চায় না। তিনি নিজেই পরিস্থিতি দেখতে এসেছেন, যদিও সেই দিনের স্মৃতি এখনো তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে তাকে।

২১ জুলাইয়ের ওই ঘটনায় ৩৪ জন নিহত হন বলে সোমবার রাতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যে জানানো হয়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন আরও অন্তত ৪৫ জন।

ঘটনার পর থেকে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে পাঠদান ও পরীক্ষা বন্ধ রয়েছে। তবে কাউন্সেলিং চলমান। শিক্ষক আবু জাফর বলেন, সহপাঠীদের হারিয়ে অনেক শিক্ষার্থী গভীর শোক ও বিষণ্নতায় ডুবে আছে। তাদের মানসিকভাবে সাপোর্ট দেওয়ার চেষ্টা করছেন তিনি।

বিমানবাহিনীর স্কোয়াড্রন লিডার ওয়ালিউল্লাহ খান জানান, অভিভাবকদের সঙ্গে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষার্থী আজ কাউন্সেলিং সেবা নিয়েছে।

এদিকে ক্যাম্পাসে রাখা হয়েছে আহত ও নিহত শিক্ষার্থীদের স্কুলব্যাগ। প্রতিটি ব্যাগে লেখা রয়েছে তাদের নাম ও শ্রেণির পরিচয়। অনেকেই সেই ব্যাগ দেখে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ছেন, কেউ কেউ কান্নায় ভেঙে পড়ছেন পুরনো বন্ধুদের দেখে।

ইত্তেফাক/কেএইচ