লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার চরলক্ষ্মী-বয়ারচর সড়কের মোহাম্মদপুর তেগাছিয়া বাজার এলাকার গাবতলী খালের ওপর নির্মিত সেতুর পশ্চিম পাশের সংযোগ সড়ক পানির স্রোতে ভেঙে পড়েছে। এতে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে এবং আশপাশের কয়েকটি গ্রামের সঙ্গে জেলা ও উপজেলা সদরের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিপাত, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপ ও অমাবস্যার প্রভাবে মেঘনা নদীতে অস্বাভাবিক জোয়ারের পানি খালের মাধ্যমে প্রবাহিত হয়ে সড়কটি ধসে পড়ে। এতে করে চর গাজী ইউনিয়নের বয়ারচরসহ আশপাশের এলাকার মানুষ মারাত্মক ভোগান্তিতে পড়েছেন।
সংযোগ সড়কটি ভেঙে পড়ায় সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১১টি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ৮টি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীসহ অসুস্থ রোগী, ব্যবসায়ী ও যাত্রী সাধারণ। স্থানীয়রা জানান, এই সড়কটি ব্যবহার করে তারা প্রতিদিন ব্রিজঘাট মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র, মোহাম্মদপুর তেগাছিয়া বাজার, চাররাস্তা বাজার, টাংকি বাজার, হাতিয়া বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াত করতেন।
এছাড়াও মালবাহী ট্রাক, পিকআপ, সিএনজি ও মোটরসাইকেল চলাচল করত নিয়মিত। সড়কটি বিচ্ছিন্ন হওয়ায় কোনো বিকল্প পথ না থাকায় যাতায়াতে দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (LGED) ২০০২ সালে চর ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড সেটেলমেন্ট প্রজেক্ট (সিডিএসপি) প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৪০ মিটার দৈর্ঘ্যের এই সেতুটি নির্মাণ করে। মেঘনার পানি গাবতলী খাল দিয়ে তীব্র স্রোতে প্রবাহিত হওয়ায় প্রায় ১৫ মিটার দৈর্ঘ্যের এপ্রোচ সড়ক ভেঙে গেছে বলে নিশ্চিত করেছে উপজেলা প্রকৌশল দপ্তর।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ধসে পড়া অংশটি পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। দুর্ঘটনা এড়াতে স্থানীয়রা সেতুর দুই পাশে গাছের ডাল দিয়ে ব্যারিকেড দিয়েছেন। সেতুর দুই পাশে বড় বড় ফাটলও দেখা দিয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদি বিপদের আশঙ্কা তৈরি করেছে।
রামগতি উপজেলা প্রকৌশলী স্নেহাল রায় বলেন, মেঘনার অস্বাভাবিক জোয়ারের স্রোতে সড়কটি ধসে পড়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দ আমজাদ হোসেন বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। এলজিইডি ইতোমধ্যে সড়ক সংস্কারের কাজ শুরু করেছে।
