তিস্তার পানি কমলেও লালমনিরহাটে দুর্ভোগ চরমে, পানিবন্দি ৫ হাজার পরিবার

আপডেট : ৩০ জুলাই ২০২৫, ২১:১৪

উজান থেকে আসা ঢলের পানি কমতে শুরু করলেও লালমনিরহাট জেলার পাঁচটি উপজেলার তিস্তা তীরবর্তী অন্তত ১৫টি গ্রামের প্রায় ৫ হাজার পরিবার এখনো পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। বসতবাড়ি, ফসলি জমি, রাস্তা-ঘাট ও মাছের ঘের প্লাবিত হয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে স্থানীয়রা।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানায়, বুধবার (৩০ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টার দিকে তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার নিচে নেমে আসে। যদিও পানি কিছুটা হ্রাস পেয়েছে, তবে বন্যার প্রভাব কাটেনি দুর্গত এলাকাগুলোতে।

এর আগে মঙ্গলবার রাতে অতিরিক্ত পানির চাপে হাতীবান্ধা উপজেলার ধুবনী এলাকায় একটি কাঁচা রাস্তা ধসে পড়ে এবং পাশের বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সেই বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢুকে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়। এর ফলে অনেকেই ঘরছাড়া ও অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।

প্লাবিত এলাকার মধ্যে রয়েছে- হাতীবান্ধা উপজেলার: সানিয়াজান, সিন্দুর্না, পাটিকাপাড়া, গড্ডিমারী, কালীগঞ্জ উপজেলার: ভোটমারী, আদিতমারী উপজেলার: মহিষখোচা, সদর উপজেলার: রাজপুর, খুনিয়াগাছ ও গোকুণ্ডা ইউনিয়ন। এছাড়া কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও পুকুরেও পানি ঢুকে পড়েছে, ভেসে গেছে মাছ।

সিন্দুর্না ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আরিফুল ইসলাম বলেন, মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর পানি বাড়তে শুরু করে। এখন পর্যন্ত আমার ইউনিয়নের দেড় হাজার পরিবার পানিবন্দি। কাঁচা রাস্তাগুলো ভেঙে পড়ায় অনেক গ্রাম যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীল কুমার জানান, তিস্তার পানি মঙ্গলবার বিপৎসীমা অতিক্রম করেছিল। ধুবনী এলাকায় বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে বুধবার সকাল থেকে পানি কমতে শুরু করেছে। আশা করা যাচ্ছে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় পানি আরও কমে যাবে।

লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক এইচ এম রকিব হায়দার বলেন, দুর্গত এলাকায় ত্রাণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। চাল, শুকনো খাবারসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। পানিবন্দি মানুষের পাশে আমরা আছি। সার্বক্ষণিক মনিটরিং চলছে।

যদিও পানি কমছে, তবুও ভেঙে পড়া রাস্তাঘাট, প্লাবিত ঘরবাড়ি ও খাদ্য সংকটের কারণে পাঁচ হাজারেরও বেশি পরিবারের দুর্ভোগ লাঘব হয়নি। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত টেকসই বাঁধ নির্মাণ ও জরুরি সহায়তা বাড়ানো প্রয়োজন।

ইত্তেফাক/এএইচপি