রাঙ্গামাটির কাপ্তাই উপজেলার চন্দ্রঘোনা ইউনিয়নের বারঘোনিয়া পাহাড়ি এলাকায় দাঁড়িয়ে আছে এক স্থাপত্য বিস্ময় ‘কর্ণফুলী পেপার মিল জামে মসজিদ’। আট হাজার ৪০০ বর্গফুটের এই বিশাল মসজিদটির বিশেষত্ব হচ্ছে এতে নেই কোনো পিলার। চার দেয়ালের উপর দাঁড়িয়ে থাকা ছাদই যেন ইতিহাসের এক নীরব সাক্ষী। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে হারিয়ে যাচ্ছে মসজিদটির জৌলুস ও প্রাণচাঞ্চল্য।
১৯৬৭ সালের ৮ ডিসেম্বর পাকিস্তানভিত্তিক দাউদ গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান আহমেদ দাউদ এইচ কে-এর মা হাজীয়ানী হানিফা বাঈ মসজিদটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। কর্ণফুলী পেপার মিল (কেপিএম)-এর মুসল্লি শ্রমিক-কর্মচারীদের জন্য নির্মিত এই মসজিদ আজ শুধু একটি ধর্মীয় স্থান নয়, বরং একটি স্থাপত্য নিদর্শন।
মসজিদটির দৈর্ঘ্য ১২০ ফুট ও প্রস্থ ৭০ ফুট। একসঙ্গে দেড় হাজারের বেশি মুসল্লি এখানে নামাজ আদায় করতে পারেন। ছাদের বিশেষ নকশা অনুযায়ী মসজিদের ভেতরে কোনো স্তম্ভ নেই, ফলে সকল মুসল্লি সরাসরি খতিব ও মুয়াজ্জিনকে দেখতে পান। ৯টি ঢেউটিন আকৃতির বিম পূর্ব-পশ্চিম দেয়ালের উপর স্থাপিত ছাদকে ধারণ করছে, যা সেই সময়কার প্রকৌশলীদের প্রযুক্তিগত দূরদর্শিতার পরিচয় বহন করে।
এছাড়া কাঠের তৈরি দরজা, মোজাইক করা মেঝে, চোখধাঁধানো দেয়াল, গম্বুজ, মিম্বর ও প্রাকৃতিক আলো-বাতাস চলাচলের সুব্যবস্থা মসজিদটিকে করে তুলেছে অনন্য ও প্রশান্তিদায়ক।
স্থানীয় বাসিন্দা ও সাংবাদিক মাসুম বাবুল বলেন, মসজিদটি দীর্ঘদিন ধরে জীর্ণশীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। কেপিএম লোকসানে থাকায় সংস্কারের জন্য পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ দিতে পারছে না।
মসজিদের খতিব এ টি এম আব্দুল্লাহ বলেন, দেয়ালে ফাটল ধরেছে, বর্ষায় ছাদ থেকে পানি চুইয়ে পড়ে। মেঝেতে পানি জমে মুসল্লিদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। অর্থের অভাবে আমরা কিছুই করতে পারছি না।
চন্দ্রঘোনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আকতার হোসেন মিলন বলেন, মসজিদটি ঐতিহাসিক ও স্থাপত্যশৈলীতে অনন্য। সংস্কারে কয়েক কোটি টাকার প্রয়োজন। স্থানীয় সরকার পর্যায়ে তা সম্ভব নয়। সরকার চাইলে একে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন হিসেবে সংরক্ষণ করতে পারে।
একসময় কর্ণফুলী পেপার মিল থেকে সমৃদ্ধ এই মসজিদ আজ দাঁড়িয়ে আছে অবহেলা ও অযত্নে। স্থানীয়রা চান, সরকার মসজিদটিকে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন ঘোষণা করে সংরক্ষণের উদ্যোগ নিক, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম জানে এই পিলারবিহীন স্থাপত্য এক সময় কেমন ঐতিহ্য বহন করত।
