আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাগেরহাট জেলার চারটি সংসদীয় আসনের একটি কমিয়ে তিনটি আসনে রূপান্তরের প্রস্তাব দিয়েছে নির্বাচন কমিশনের কারিগরি কমিটি। এই প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে জেলাজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও ক্ষোভ।
বুধবার নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানান, বাগেরহাট-২ ও বাগেরহাট-৩ আসনের সীমানা পুনর্গঠন করে নতুনভাবে বাগেরহাটকে তিনটি আসনে ভাগ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। নতুন বিন্যাস অনুযায়ী,
বাগেরহাট-১: চিতলমারী, ফকিরহাট ও মোল্লাহাট; বাগেরহাট-২: বাগেরহাট সদর, কচুয়া ও রামপাল; বাগেরহাট-৩: মোরেলগঞ্জ, শরণখোলা ও মোংলা
এই ঘোষণার পরই শুরু হয় জেলাব্যাপী তীব্র প্রতিক্রিয়া। বুধবার রাত থেকেই বাগেরহাট শহর এবং উপজেলাগুলিতে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
বাগেরহাট জেলা বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জেলা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি, যুবদল, এবং স্থানীয় সাধারণ মানুষ বিষয়টির বিরুদ্ধে একযোগে প্রতিবাদ জানায়।
বৃহস্পতিবার দুপুরে বাগেরহাট প্রেসক্লাবে যৌথ সংবাদ সম্মেলন করে বিএনপি ও জামায়াত নেতারা প্রস্তাব প্রত্যাহারের দাবি জানান। এর আগে শরণখোলা, মোরেলগঞ্জ, রামপাল ও মোংলা উপজেলায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করে স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
বাগেরহাট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সভাপতি শেখ শাহেদ আলী রবি বলেন, বাগেরহাট এমনিতেই অবহেলিত জেলা। একটি আসন কমিয়ে দিলে জেলার উন্নয়ন আরও বাধাগ্রস্ত হবে। আমরা আগামী শনিবার থেকে জেলার সব মহাসড়ক অবরোধ করে মোংলা বন্দরকে সারাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেব।
বাগেরহাট জেলা বিএনপির আহ্বায়ক এটিএম আকরাম হোসেন তালিম বলেন, ১৯৮৪ সাল থেকে বাগেরহাটে চারটি আসন রয়েছে। এটি শুধু ঐতিহাসিক নয়, সাংবিধানিক গুরুত্বপূর্ণও। ইসির এই প্রস্তাব পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমরা শুক্রবারের মধ্যে প্রস্তাব প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি, না হলে গণআন্দোলনের মাধ্যমে জবাব দেওয়া হবে।
জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা রেজাউল করিম বলেন, মোংলা বন্দর, সুন্দরবন ও ষাটগুম্বুজ মসজিদের মতো বিশ্বঐতিহ্যের জেলা বাগেরহাট। এখানে আসন কমিয়ে দুর্বল করার চেষ্টা জনগণ কখনো মেনে নেবে না। প্রয়োজনে জীবন দিয়ে হলেও জেলার চারটি আসন রক্ষা করা হবে।
