উচ্চকক্ষে পিআর পদ্ধতিতে একমত হলেও বাস্তবায়নের সুস্পষ্ট রূপরেখা চায় এনসিপি

আপডেট : ৩১ জুলাই ২০২৫, ২৩:২০

সংসদের উচ্চকক্ষে সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতির (পিআর) প্রস্তাবে নীতিগত সমর্থন জানালেও এর বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে সুনির্দিষ্ট রূপরেখা চেয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলের সদস্যসচিব আখতার হোসেন বলেন, ‘ঐকমত্যের বিষয়গুলোর বাস্তবায়ন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এখনো তা স্পষ্টভাবে বলা হয়নি। ফলে অস্পষ্টতা থেকেই যাচ্ছে।’

বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের দ্বিতীয় পর্যায়ের সংলাপের ২৩তম দিনের বিরতিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ মন্তব্য করেন তিনি।

আখতার হোসেন বলেন, ‘উচ্চকক্ষে সংবিধান সংশোধনের জন্য টু-থার্ডস মেজরিটি বাধ্যতামূলক করার দাবি জানিয়েছি। পিআর পদ্ধতিকে কেউ কেউ ‘অপ্রতিনিধিত্বশীল’ বললেও, বৈশ্বিকভাবে এটি বৈধ ও জনপ্রতিনিধিত্বমূলক। ১ শতাংশ ভোট পেলেও যেন একটি দল একজন প্রতিনিধি পাঠাতে পারে, সেটিই গণতন্ত্রকে বহুবাদী করবে।’

তিনি কমিশনের প্রস্তাবিত বাস্তবায়ন সময়সীমা প্রত্যাখ্যান করে বলেন, ‘আমরা চাই সিদ্ধান্তগুলো তাৎক্ষণিক কার্যকর হোক। আইন পাসের আগে উচ্চকক্ষে আলোচনা হলে ভুল ধরার সুযোগ বাড়বে, একই সঙ্গে জনপরিসরেও আইন নিয়ে আলোচনা হবে।’

সংবিধান সংশোধনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের কর্তৃত্ব রোধে উচ্চকক্ষে বিভিন্ন দলের প্রতিনিধিত্ব জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি। ‘এতে গণতন্ত্রে বৃহত্তর জনসম্পৃক্ততা নিশ্চিত হবে,’ বলেন আখতার হোসেন।

উচ্চকক্ষ প্রতিষ্ঠা নিয়ে বিতর্কের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘অনেকে বলছেন, পিআর হলে তারা উচ্চকক্ষ চান না। তাহলে প্রশ্ন ওঠে, আদৌ তারা উচ্চকক্ষ চান কি না। ১০০ আসনের প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে একদলীয় আধিপত্য থেকে বেরিয়ে বহু দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে।’

এনসিপি সদস্যসচিব জানান, সংলাপে সরকারি কর্ম কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন এবং মহাহিসাব নিরীক্ষক নিয়োগ নিয়েও আলোচনা হয়েছে। কিছু দল ভিন্নমত দিলেও সার্বিকভাবে কমিশন একটি ঐকমত্যের পথে এগোচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।

কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী, ১০০ আসনের উচ্চকক্ষে প্রতিনিধিরা পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচিত হবেন। সেখানে নিম্নকক্ষ থেকে পাঠানো বিল সর্বোচ্চ দুই মাস আটকে রাখা যাবে। সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে ‘সিম্পল মেজরিটি’র প্রস্তাব করা হয়েছে।

ইত্তেফাক/এএম