রাজধানীর হাজারীবাগে পূর্ব শত্রুতার জেরে রওশন আরা (৬৫) নামে এক নারীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুক্রবার (১ আগষ্ট) ভোর ৪টার দিকে ওই নারীকে মুমূর্ষু অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে আসলে জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন তাকে। এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
নিহত রওশন আরা হাজারীবাগের বেড়িবাঁধ সংলগ্ন ৫নং কালু নগর এলাকার আমজাদ হোসেনের স্ত্রী।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গতকাল দিবাগত রাত দুইটার দিকে তিন-চারজন দুর্বৃত্ত রওশন আরার বাসায় ঢোকে। এ সময় তারা রওশন আরার ছেলেকে মারধর করে। রওশন আরা তার ছেলেকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে তাকে লাঠি দিয়ে পেটানো হয়। দুর্বৃত্তদের লাঠির আঘাতে রওশন আরার মাথা ফেটে যায়। রক্তাক্ত অবস্থায় প্রথমে তাকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় সেখান থেকে আজ শুক্রবার ভোর চারটার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে দায়িত্বরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন তাকে।
নিহতের মেয়ে রুনা আক্তার জানান, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে তাদের বাড়ির সামনেই পূর্ব শত্রুতার জেরে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে ৩-৪ জন দুর্বৃত্ত তার মাকে লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করেন। এতে রওশন আরা গুরুতর আহত হন। প্রথমে তাকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভোররাতে ঢামেকে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
রুনা আরও জানান, দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবেশীদের সঙ্গে তাদের পারিবারিক বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধের জের ধরেই এ হামলার ঘটনা ঘটে।
এ বিষয়ে ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, নিহত নারীর মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি হাজারীবাগ থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে।
হাজারীবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, রওশন আরা কালুনগরে এক ব্যক্তির জমিতে ঘর তুলে স্বামী-সন্তান নিয়ে থাকতেন। দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবেশীদের সঙ্গে তাদের বিরোধ চলছিল। গতকাল রাতে দুই পক্ষই বিষয়টি সুরাহার জন্য হাজারীবাগ থানায় এসেছিলেন। সেখান থেকে রওশন আরার প্রতিপক্ষের কয়েকজন লোক কালুনগরে যান এবং ঘরে ঢুকে তার পরিবারের ওপর হামলা চালান। হত্যায় জড়িত অভিযোগে এখন পর্যন্ত পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে।
