নওগাঁ জেলার রাণীনগর উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পালশা কৃষ্ণপুর উচ্চ বিদ্যালয়। ১৯৬৮ সালে স্থানীয় শিক্ষানুরাগী মোহাম্মদ আবু তাহের শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন। দীর্ঘদিন ধরে ১২-১৫টি গ্রামের শিক্ষার্থীদের একমাত্র ভরসাস্থল হয়ে আছে এই বিদ্যালয়। তবে বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি চরম শ্রেণীকক্ষ সংকটে ভুগছে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, পর্যাপ্ত শ্রেণীকক্ষ না থাকায় প্রতিদিন একই কক্ষে গাদাগাদি করে ১২০-১৩০ জন শিক্ষার্থীকে পাঠদান করতে হচ্ছে। ফলে শিক্ষার্থীরা যেমন সুশৃঙ্খল, মনোরম পরিবেশে পাঠগ্রহণ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, তেমনি শ্রেণি শিক্ষকরাও পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনায় চরম হিমশিম খাচ্ছেন।
বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী মোছা. সুন্দরী আক্তার প্রিয়া জানান, শতাধিক শিক্ষার্থীর সঙ্গে এক কক্ষে বসে পড়ালেখা করা খুবই কষ্টকর। মনোযোগ ধরে রাখা যায় না। শিক্ষকরাও ঠিকভাবে পড়াতে পারেন না।
বর্তমানে বিদ্যালয়ে মোট শিক্ষার্থী ৫৬২ জন, আর কক্ষ মাত্র ৬টি। এই কক্ষে প্রতিদিন পাঠগ্রহণ করে প্রায় ৪০০ জন শিক্ষার্থী। শ্রেণীকক্ষে উপচে পড়া ভিড়ের কারণে মানসম্মত শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষকদের মতে, যদি বিদ্যালয়ের একতলা ভবনের উপর আরও একটি তলা নির্মাণ করা হয়, তাহলে শ্রেণীকক্ষ সংকট দূর হবে এবং পাঠদানের পরিবেশ উন্নত হবে।
প্রধান শিক্ষক মো. খোরশেদ আলম বলেন, বিদ্যালয়ের এসএসসি ফলাফল প্রতিবছরই ভালো হলেও শ্রেণীকক্ষ সংকট আমাদের পিছিয়ে দিচ্ছে। মেয়েদের কমনরুম ভেঙে যাওয়া টিনের ঘরে, প্রচণ্ড গরমে সময় কাটাতে হয়। শহীদ মিনারও জরাজীর্ণ। এমনকি প্রধান শিক্ষক ও অন্যান্য শিক্ষকরা বসার জন্য মানসম্মত কক্ষ না পাওয়ায় একই রুমে দাপ্তরিক কার্যক্রম চালাতে হয়।
তিনি আরও জানান, শ্রেণীকক্ষ সংকটের কারণে নতুন শাখা খোলা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে অনেক শিক্ষার্থী দূরবর্তী বিদ্যালয়ে যেতে না পেরে ঝরে পড়ছে। যদি সরকারের সহায়তায় একটি আধুনিক ভবন নির্মাণ করা যায়, তাহলে শিক্ষার্থীরা নিরাপদ, মানসম্পন্ন ও মনোরম পরিবেশে শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পাবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাকিবুল হাসান বলেন, বিদ্যালয়ের শ্রেণীকক্ষ সংকট সম্পর্কে অবগত হয়েছি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে দ্রুত একটি নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
অতএব, অত্র অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধ এবং মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে পালশা কৃষ্ণপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে একটি আধুনিক শিক্ষাভবন নির্মাণ এখন সময়ের দাবি।
