এক সময় যেখানে পাহাড়ি জনপদের দুর্গম কাদামাটির পথে ছিল যাতায়াতের একমাত্র ভরসা, সেখানে আধুনিকতার ছোঁয়ায় বদলে যাচ্ছে বান্দরবানের থানচির মেকহা পাড়া, মায়ারাম পাড়া ও হানারাম পাড়ার চিত্র। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ‘গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প’-এর আওতায় নির্মিত হয়েছে প্রায় ৩ কোটি টাকার কার্পেটিং গ্রামীণ সড়ক।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, এক সময় এই তিন গ্রামে পৌঁছাতে হতো মাটির উঁচু-নিচু পথে হেঁটে, মুষলধারে বৃষ্টিতে সেই পথ হতো প্রায় অদৃশ্য। এখন উন্নত সড়কের কারণে পরিবহন, চলাচল ও পণ্য পরিবহনে এসেছে গতি। তবে সুখবরের মাঝেও রয়েছে একটি বড় প্রতিবন্ধকতা। তা হচ্ছে ক্যৌউক্ষ্যং ঝিড়িতে সেতুর অভাব।
বর্ষা এলেই ওই ঝিড়িতে পাহাড়ি ঢলে পানি বেড়ে যায়। তখন পুরো তিনটি পাড়া কার্যত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েন শিক্ষার্থী, কৃষক ও অসুস্থ রোগীরা।
স্থানীয় শিক্ষার্থী রিপন মারমা জানায়, শুষ্ক মৌসুমে আমরা হেঁটে স্কুলে যাই, কিন্তু বর্ষায় ঝিড়ির পানির স্রোত এত তীব্র হয় যে, স্কুলে যাওয়া সম্ভব হয় না। পরীক্ষাও মিস করতে হয়।
একাধিক ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, প্রতিদিন এই সড়ক ব্যবহার করেন শতাধিক মানুষ। কৃষিপণ্য বাজারজাত করা, চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে যাওয়া এবং শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজে যাওয়া-আসা এই সড়কের উপর নির্ভরশীল। বর্ষা এলেই এসব কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী মো. আবু হানিফ বলেন, মেকহা বা রর্বাট পাড়ার ঝিড়িতে সেতুর চাহিদা সম্পর্কে এখন অবগত হয়েছি। ইতোমধ্যে প্রকল্পের আওতায় সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়েছে। তবে কাজ শুরু হতে কিছুটা সময় লাগবে।
