ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর-বিজয়নগর) আসনের তিনটি ইউনিয়নকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনের সঙ্গে যুক্ত করে নির্বাচন কমিশনের সীমানা পুনর্বিন্যাসের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বিজয়নগরে বিক্ষোভ মিছিল ও মহাসড়ক অবরোধ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
শুক্রবার (১ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিজয়নগর উপজেলা জামায়াতের উদ্যোগে চান্দুরা এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভকারীরা প্রায় আধা ঘণ্টা মহাসড়কে অবস্থান নেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের ৩৯টি সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্বিন্যাস করে প্রাথমিক গেজেট প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের বিজয়নগর উপজেলার হরষপুর, চান্দুরা ও বুধন্তি ইউনিয়নকে বিচ্ছিন্ন করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সঙ্গে যুক্ত করা হয়।
সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা জামায়াতের সভাপতি লুৎফুর রহমান। বক্তব্য রাখেন উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক রাষ্ট্রু সরকার, চান্দুরা ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি সোহাগ খন্দকার, হেফাজতে ইসলামের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শিহাব সিদ্দিকী, যুব খেলাফত মজলিসের সাধারণ সম্পাদক তানভীর আহমদ প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, বিজয়নগরের মোট ১০টি ইউনিয়নের মধ্যে এই তিনটিতে প্রায় ৯৬ হাজার ভোটার রয়েছে, যা উপজেলার মোট ভোটারের প্রায় অর্ধেক। তারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে বিজয়নগর রাজনৈতিকভাবে অবহেলিত। কখনও সদর, কখনও সরাইল, কখনও নাসিরনগরের সঙ্গে জুড়ে দিয়ে উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত রাখা হচ্ছে।
তারা আরও বলেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরও বিজয়নগরে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। নতুন সীমানা পুনর্বিন্যাস জনগণের সাথে অন্যায় ও ষড়যন্ত্রমূলক। অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়।
এদিকে, তিনটি ইউনিয়নকে আগের আসনে বহাল রাখার দাবিতে উপজেলার কয়েকজন নেতা—গোলাম মোস্তফা, এ.কে.এম গোলাম মুফতি ওসমানী, মো. জাহিদুজ্জামান চৌধুরী ও মো. বায়েজিদ মিয়া বৃহস্পতিবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরাবর একটি লিখিত আবেদন জমা দিয়েছেন।
বিজয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম জানান, বিক্ষোভ মিছিল চলাকালে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে ছিল। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
