যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় মার্কিন-সমর্থিত সহায়তা কেন্দ্রগুলোর বাইরে ইসরায়েলি বাহিনী ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের নিয়মিতভাবে হত্যা করছে বলে শুক্রবার (১ আগস্ট) জানিয়েছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, ক্ষুধাকে যুদ্ধাস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের সংকট ও সংঘাতবিষয়ক সহপরিচালক বেলকিস উইলে বলেন, গাজায় মার্কিন-সমর্থিত ইসরায়েলি বাহিনী ও বেসরকারি ঠিকাদাররা একটি ত্রুটিপূর্ণ, সামরিক নিয়ন্ত্রিত ত্রাণ বিতরণ ব্যবস্থা চালু করেছে, যা সহায়তা বিতরণকে নিয়মিত রক্তপাতের ঘটনায় পরিণত করেছে।
প্রায় ২২ মাস ধরে ইসরায়েলি আগ্রাসনে ধ্বংসপ্রাপ্ত গাজায় জাতিসংঘ নিযুক্ত বিশেষজ্ঞদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফিলিস্তিনি এই ভূখণ্ডটি দুর্ভিক্ষের দ্বারপ্রান্তে এবং বেসামরিক মানুষেরা অনাহারে মৃত্যুবরণ করছে।
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন (জিএইচএফ)-এর তাদের কার্যক্রম শুরু করে মে মাসের শেষ দিকে। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে পরিচালিত জাতিসংঘ-নেতৃত্বাধীন মানবিক সহায়তা ব্যবস্থাকে পাশ কাটিয়ে যাওয়া হয়।
এরপর থেকে গাজায় সহায়তার আশায় জিএইচএফ কেন্দ্রের কাছে জড়ো হওয়া অসহায় ফিলিস্তিনিদের ওপর দখলদার সেনারা গুলি চালিয়েছে। জাতিসংঘ মানবাধিকার হাইকমিশনারের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২৭ মে থেকে ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে অন্তত ৮৫৯ জন ফিলিস্তিনি জিএইচএফ-এর ত্রাণকেন্দ্রগুলোর আশেপাশে খাদ্য সংগ্রহের চেষ্টা করার সময় নিহত হয়েছেন— যাদের অধিকাংশই ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে মারা গেছেন।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের গবেষক বেলকিস উইলে বলেন, ইসরায়েলি বাহিনী শুধু ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের ইচ্ছাকৃতভাবে অনাহারে রাখছে না, বরং তারা এখন প্রায় প্রতিদিনই ওই মানুষগুলো যখন তাদের পরিবারের জন্য খাবার সংগ্রহের চেষ্টা করছে, তখন তাদের গুলি করে হত্যা করছে।’
তবে ইসরায়েল বরাবর একই দাবি করে আসছে যে, তারা নিরস্ত্র বেসামরিক নাগরিকদের গুলি করছে না এবং 'দুর্ঘটনাজনিত হতাহত' এড়াতে যথাসাধ্য চেষ্টা করে।
