মান্দা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শিক্ষক দম্পতিকে লাঞ্ছনা, ভিডিও ভাইরাল

আপডেট : ০২ আগস্ট ২০২৫, ১৭:২০

নওগাঁর মান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে গিয়ে এক শিক্ষক দম্পতি কর্তব্যরত চিকিৎসকসহ হাসপাতালের পাঁচজন কর্মীর হাতে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

ভুক্তভোগী শিক্ষক তাজিবুল হক স্থানীয় একটি মাদ্রাসার শিক্ষক এবং তার স্ত্রী নাজনীন আক্তার একজন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা।

ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার (১ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে। প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীদের ভাষ্যমতে, তাজিবুল হক তার রক্তচাপ পরিমাপ করাতে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে মান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে যান। সেখানে গিয়ে তারা দেখতে পান, কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. রিফাত বিনতে জান্নাত লিয়া এক ওষুধ কোম্পানির রিপ্রেজেন্টেটিভের সঙ্গে চেম্বারে গল্প করছিলেন।

চিকিৎসা না পেয়ে বিষয়টি ছবি তুলে রাখেন শিক্ষক দম্পতি। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ডা. লিয়া ওয়ার্ডবয় বাপ্পী, নাজমুল, সোহেল ও অ্যাম্বুলেন্স চালক ইমনকে ডেকে আনেন। তারা সবাই মিলে শিক্ষক দম্পতিকে টেনে-হিঁচড়ে জরুরি বিভাগের ভেতরে নিয়ে গিয়ে মারধর করেন ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন বলে অভিযোগ করেন।

পরবর্তীতে ঘটনাস্থলে আসেন ডা. লিয়ার স্বামী তামিম এবং মান্দা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সাবেক টিএইচএ ডা. বিজয় কুমার রায়। অভিযোগ রয়েছে, তারাও ভুক্তভোগীদের কথা না শুনে উল্টো রূঢ় ও অপমানজনক আচরণ করেন।

এই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষক সমাজ, নাগরিক সংগঠন ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। তারা অভিযুক্তদের অপসারণ ও শাস্তির দাবি জানান।

এদিকে স্থানীয় শিক্ষক, নাগরিক সমাজ ও সামাজিক সংগঠনগুলো ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে বলেছেন, বিচার না হলে আমরা প্রতিবাদ কর্মসূচিতে নামতে বাধ্য হব।

এ বিষয়ে ডা. রিফাত বিনতে জান্নাত লিয়ার বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

তবে মান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. তাসনিম হোসাইন আরিফ বলেন, ঘটনার বিষয়ে আমরা অবগত হয়েছি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নওগাঁ জেলা সিভিল সার্জন ডা. আমিনুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইত্তেফাক/এএইচপি