আস্ত ছাগল খেতে গিয়ে প্রাণ গেল অজগরের

আপডেট : ০২ আগস্ট ২০২৫, ১৮:০৯

আস্ত একটি ছাগল খাওয়ার চেষ্টা করছিল একটি অজগর। এটি দেখে প্রাণীটিকে লাঠিসোঁটাসহ যে যা পেয়েছেন, তা দিয়ে পিটিয়ে মেরেছেন।

বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) বিকেলে  মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকা বোবারথল (করইছড়া) গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ঘটনার কিছু ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি স্থানীয় পরিবেশকর্মীদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে দেখা গেছে, একটি মৃত অজগর পড়ে আছে। সঙ্গে কালো রঙের মৃত ছাগলটি। অজগর ও ছাগলটিকে ঘিরে আছেন বিভিন্ন বয়সের স্থানীয় কিছু লোক। তাদের কারও হাতে লাঠি, কেউ মোবাইল ফোনে ছবি তুলছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক দিনের মধ্যে বোবারথল (করইছড়া) গ্রামের বিভিন্ন বাড়ি থেকে ৫–৬টি ছাগল নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা ঘটে। গ্রামের লোকজন ধারণা করেছিলেন, ছাগলগুলো হয়তো কেউ চুরি করে নিয়ে গেছে। কিন্তু বৃহস্পতিবার স্থানীয় কয়েকজন দেখতে পান, একটি বিশাল অজগর একটি ছাগল গিলে খাওয়ার চেষ্টা করছে। খবরটি দ্রুত এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় লোকজন লাঠিসোঁটাসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ঘটনাস্থলে জড়ো হন, অজগরকে ঘিরে ফেলেন। একপর্যায়ে এটিকে পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়। বন বিভাগের বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ ঘটনাস্থলে লোক পাঠিয়ে সাপটি মারার সঙ্গে কারা জড়িত, তা জানার চেষ্টা করছে।

বড়লেখার দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবদুল মান্নান বলেন, তিনি জানতে পেরেছেন গ্রামের কয়েকটি ছাগল খেয়ে ফেলেছে অজগর। সাপটিকে ছাগল খেতে দেখে স্থানীয় লোকজন মেরে ফেলেন।

স্থানীয় পরিবেশকর্মী সাঈব আহমদ ইয়াসের বলেন, একটি ছাগল খাওয়াকে কেন্দ্র করে অজগরের মতো একটি সাপকে পিটিয়ে মারা সত্যিই দুঃখজনক। এটি শুধু অমানবিক নয়, আইনগতভাবেও অপরাধ।

বন বিভাগের বড়লেখা রেঞ্জের দায়িত্বে থাকা সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. রেজাউল মৃধা বলেন, ঘটনাটি দুর্গম এলাকার। বৃষ্টি-বাদলে তো যাওয়াই যায় না। বিষয়টি দ্রুত বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগকে জানানো হয়েছে।

বন বিভাগের বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ সিলেটের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, তাদের লোকজন সেখানে (বোবারথল) গিয়েছিলেন। কারা অজগর হত্যায় জড়িত, তাদের নাম জোগাড় করার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি এলাকায় বন্য প্রাণী সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরির কার্যক্রম নেওয়া হবে।

ইত্তেফাক/এমএএস