গাইবান্ধায় বাঁধের ৩৭ পয়েন্টে ধস, ক্ষতিগ্রস্ত ৯৯ কি.মি

আপডেট : ২৫ জুলাই ২০১৯, ২০:২৬
উজানের ঢল ও অবিরাম বৃষ্টিতে এবারের বন্যায় ব্রহ্মপুত্র, ঘাঘট, আলাই, করতোয়া নদী বেষ্টিত গাইবান্ধা জেলার ২৪২ দশমিক ৫৫ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ৩৭টি পয়েন্ট ধসে গেছে। এতে ফুলছড়ি, গাইবান্ধা সদর, সাঘাটা, সাদুল্লাপুর ও গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এর মধ্যে ব্রহ্মপুত্র নদের বাঁধে ১৪টি পয়েন্টে, ঘাঘটের শহর রক্ষা বাঁধের ৬টি পয়েন্টে, করতোয়ার ৩টি পয়েন্টে ও আলাইসহ অন্যান্য নদীর ১৪টি পয়েন্টে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ধসে গেছে। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৯৯ কিলোমিটার বাঁধ। 
 
এলাকাবাসী জানান, এই বাঁধ গুলোর কোনো সংস্কার না করায় একদিকে যেমন উচ্চতা কমেছে তেমনি প্রশস্ততাও কমে সরু বাঁধে পরিণত হয়েছে। বাঁধের ওপরে ও পাশে মানুষ বাড়িঘর তৈরি করে যেমন বাঁধের ক্ষতি করেছে তেমনি ইঁদুরের গর্ত তৈরি করায় বাঁধ গুলো ভঙ্গুর হয়ে পড়ে। বর্ষা মৌসুম এখনও শেষ না হওয়ায় আবারও বন্যার সম্ভাবনা আছে। তাই স্থানীয়রা এখনই বাঁধ গুলো সংস্কার করার দাবি জানিয়েছেন।
 
সিপিবি’র জেলা কমিটির সভাপতি কমরেড মিহির ঘোষ জানান, গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের গাফিলতি ও সময় মত বাঁধ সংস্কার না করার কারণে একসঙ্গে এত গুলো এলাকায় বাঁধ ভেঙ্গে গেছে।
 
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, এই বাঁধ গুলো ১৯৬২ সাল থেকে ১৯৯০ সালের মধ্যে নির্মিত হলেও পরবর্তীতে আর কোনো বরাদ্দ না থাকায় রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়নি। বিভিন্ন সময় বন্যায় শুধু ক্ষতিগ্রস্ত স্থানগুলো সাময়িকভাবে মেরামত করা হয়েছিল। 
 
গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান বলেন, বাঁধের এসব স্থান মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ করার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট পত্র প্রেরণ করা হয়েছে।
 
 
তিনি আরও জানান, বৃহস্পতিবার গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র নদের পানি ১০ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপদসীমার ৪৭ সেন্টিমিটার ওপর ও ঘাঘট নদীর পানি ৬ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপদসীমার ২৫ সেন্টিমিটার  ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অন্যদিকে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। করতোয়া নদীর পানি বৃদ্ধি পেলেও এখনও বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। 
 
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, এই বন্যায় জেলার সাত উপজেলার ২টি পৌরসভাসহ ৫১টি ইউনিয়নের ৪২৪টি গ্রামের ৫ লাখ ৯৩ হাজার ৯৭ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাদের ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ির সংখ্যা ৫৯ হাজার আটশ ৭০টি। ৩৯টি ব্রিজ ও কালভার্ট ধসে গেছে। ২৬৬ কিলোমিটার পাকা সড়ক ও ৫৯৩ কিলোমিটার কাঁচা সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে ১৪ হাজার ২১ হেক্টর বিভিন্ন ফসল। ৩৪৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ১০৫টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান বন্ধ আছে। ৬ হাজার ২৯০টি পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। ১০ হাজার ৫৯টি নলকূপ নিমজ্জিত রয়েছে।
 
ইত্তেফাক/অনি