সরকারি গেজেট অনুযায়ী জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে এখন পর্যন্ত শহিদ হয়েছেন ৮৩৬ জন। তবে শহিদের সংখ্যা আরো বেশি। এক রায়েরবাজার কবরস্থানে বেওয়ারিশ ১১৪ জনকে গণকবর দেওয়া হয়েছে। রাজধানীর বাইরে সাভার, টঙ্গী, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামে আরো বেশ কয়েকজন শহিদকে বেওয়ারিশ হিসেবে আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলাম দাফন করেছে।
শহিদদের তালিকা: চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত জাতিসংঘ মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের (ওএইচসিএইচআর) ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং রিপোর্টে বলা হয়, জুলাই-আগস্ট সংঘটিত ঘটনায় ১ হাজার ৪০০ জনকে নির্বিচারে হত্যা করা হয়। এর মধ্যে ১১৮ জনই শিশু।
আহতদের সংখ্যা: জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে সারা দেশে অন্তত ১৪ হাজার ব্যক্তি আহত হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমের (এমআইএস) মতে, আহত ১৩ হাজার ৮১১ জন। তবে 'জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহিদ পরিবার এবং জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসন অধ্যাদেশ, ২০২৫'-এ বলা হয়েছে, আহত হয়েছে ১২ হাজার ৮৮৭ জন।
বেওয়ারিশ দাফন: রায়েরবাজার কবরস্থানে আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলাম গত বছরের ২২ জুলাই থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত ১১৪টি বেওয়ারিশ লাশ দাফন করেছে। ঢামেক মরচুয়ারিতে ছয় লাশ: জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে নিহতদের মধ্যে ছয় জনের লাশ এখনো ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মরচুয়ারিতে সংরক্ষণ করা আছে।
৪৪ জন পুলিশ নিহত: পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা যায়, গণঅভ্যুত্থানে নিহত হয়েছেন ৪৪ জন পুলিশ সদস্য।
আহতদের চিকিৎসা: ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ) জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট, জাতীয় অর্থপেডিক্স ও পুনর্বাসন হাসপাতাল (পঙ্গু হাসপাতাল), ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল, শহিদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় নিউরোসায়েন্স ইনস্টিটিউট ও জাতীয় নাক কান গলা ইনস্টিটিউটে আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হয়।
জুলাই যোদ্ধা ১৪০১ জন: জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে আহত ১ হাজার ৪০১ জনকে 'জুলাই যোদ্ধা' হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে গেজেট প্রকাশ করেছে সরকার।
শহিদ ১০ নারী: শহিদ ১০ জন নারীর মধ্যে সাত জন ঢাকায়, দুই জন নারায়ণগঞ্জে ও এক জন সাভারে গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন। তাদের মধ্যে সাত জনই গুলিবিদ্ধ হন নিজ বাসার বারান্দা ও ছাদে। তিন জন গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন সড়কে।
ঢাকায় পাঁচ এলাকায় ৩২৪ জন শহিদ: জুলাই গণঅভ্যুত্থানে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, উত্তরা, মিরপুর, মোহাম্মদপুর ও রামপুরায় নিহত হয়েছে অন্তত ৩২৪ জন।
শহিদদের মধ্যে শ্রমজীবী বেশি: জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যারা জীবন দিয়েছেন, তাদের মধ্যে শীর্ষে রয়েছেন শ্রমজীবী মানুষরা। কমপক্ষে ২৮৪ জন শ্রমজীবী মানুষ গণঅভ্যুত্থানে শহিদ হয়েছেন। দিনমজুর, রিকশাচালক, ভ্যানচালক, সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক, ট্রাকের চালক-সহকারী, দোকানের কর্মী, রেস্তোরাঁর কর্মচারী ও পোশাককারখানার শ্রমিকরা গণঅভ্যুত্থানে জীবন দিয়েছেন। শ্রমজীবীদের পর সবচেয়ে বেশি নিহত হয়েছেন শিক্ষার্থীরা। ২৬৯ জন শিক্ষার্থী শহিদ হয়েছেন। আবার শিক্ষার্থীদের মধ্যে যারা নিহত হয়েছেন, তাদের উল্লেখযোগ্য অংশের বয়স ১৮ বছরের নিচে। মোট মৃত্যুর ৩৩ শতাংশই শিক্ষার্থী।
ছয় সাংবাদিক শহিদ: পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ছয় সাংবাদিক। আহত হয়েছেন অন্তত পাঁচ শতাধিক সাংবাদিক। নিহতরা হলেন-ঢাকা টাইমসের স্টাফ রিপোর্টার হাসান মেহেদী, দৈনিক ভোরের আওয়াজের প্রতিবেদক শাকিল হোসাইন, নয়াদিগন্তের সিলেট প্রতিনিধি আবু তাহের মুহাম্মদ তুরাব, ফ্রিল্যান্সার ফটোসাংবাদিক তাহির জামান প্রিয়, সিরাজগঞ্জে দৈনিক খবরপত্রের প্রতিবেদক প্রদীপ কুমার ভৌমিক ও হবিগঞ্জে বানিয়াচং থানার সামনে নিহত হন স্থানীয় সাংবাদিক হোসেন আখুঞ্জি।
