দেশের ফুটবলে নিম্ন স্তরের লিগ পাইওনিয়ার লিগ। প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে ফুটবলার তুলে আনার জন্য লিগটির বাড়তি কদর ছিল। দেশব্যাপী জনপ্রিয়তা লাভও করেছিল লিগটি। তবে অজানা কারণে গেল চার বছর ধরে বন্ধ রয়েছে এই লিগের খেলা। তাতে অনেক ফুটবলারের স্বপ্ন ভেঙে গিয়েছে। অনেকে ফুটবল ছেড়ে অন্য পেশা বেছে নিয়েছেন। অনেকে দিনমজুরের কাজ করছেন। অনেকে হতাশায় পড়ে মাদকে আসক্ত হচ্ছেন।
দেশের ঐতিহ্যবাহী লিগটি পুনরায় চালু করতে গতকাল বাফুফে ভবনের সামনে মানববন্ধন করেছেন খেলোয়াড়, কোচ এবং ক্লাবগুলোর কর্তারা। সেখানে উপস্থিত ছিলেন গাজী সেলিম ফুটবল একাডেমির কর্ণধার গাজী সেলিম, লাইজু কিডস ফুটবল একাডেমির সহ-সভাপতি শাহাদাত হোসেন, প্রভাতী ফুটবল একাডেমির সাধারণ সম্পাদক শরীফুল ইসলাম, পদ্মা মোহামেডান স্পোর্টস একাডেমির সাধারণ সম্পাদক শাহরিয়ার আহমেদ, মহানগর ক্রীড়া চক্রের সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন প্রমুখ।
মানববন্ধনে গাজী সেলিম ফুটবল একাডেমির গাজী সেলিম জানান, পাইওনিয়ার লিগ কমিটির চেয়ারম্যান হাজী টিপু সুলতান টুর্নামেন্ট চালু করার আশ্বাস দিলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন ছিল না। তিনি বলেন, '১০ দিন আগেও টিপু সুলতান আমাদের সঙ্গে সভা করে সাত দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত জানাবেন বলেছিলেন। ১০ দিন শেষ হয়ে গেলেও এখনো তিনি কথা বলেননি। সবাই সিনিয়র ফুটবল নিয়ে ব্যস্ত। কিন্তু খেলোয়াড় তৈরির কারিগর পাইওনিয়ার নিয়ে তাদের কোনো মাথাব্যথা নেই। আমাদের দাবি দ্রুত এই লিগ চালু করা হোক।'
অন্যদিকে পাইওনিয়ার লিগ কমিটির চেয়ারম্যান হাজী টিপু সুলতান লিগ দ্রুত চালু হওয়ার আশ্বাস দেন। গতকাল ইত্তেফাককে জানিয়েছেন, পুনরায় লিগ শুরু করতে কাজ করছেন তারা। অক্টোবরের মধ্যে চার বছর ধরে বন্ধ থাকা লিগটি চালু করার সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।
এর আগে পাইওনিয়ার লিগ থেকে উঠে এসেছেন শেখ মোহাম্মদ আসলাম, রুম্মান বিন ওয়ালী সাব্বির, সম্রাট হোসেন এমিলি, প্রয়াত মোনেম মুন্না ও ছাইদ হাছান কাননের মতো ফুটবলাররা। আগামীতেও এই লিগ থেকে তারকা ফুটবলার উঠে আসবেন বলে মনে করছেন ক্লাব কর্তারা।
