সদরঘাটে জবি শিক্ষার্থীদের মারধর: আহত ৯, গ্রেপ্তার ১

আপডেট : ০৮ আগস্ট ২০২৫, ২১:৩৯

পুরান ঢাকার সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে সুন্দরবন-১২ লঞ্চের কর্মীদের সঙ্গে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ আশপাশের বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ৯ শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। ঘটনার পর শিক্ষার্থীরা লঞ্চটিতে ভাঙচুর চালান। এর ফলে ঢাকা-বরিশাল রুটে লঞ্চ চলাচলে বিঘ্ন ঘটে এবং যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েন।

বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) রাত আটটার দিকে সদরঘাটের ১ নম্বর ঘাটে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করেছে যৌথবাহিনী।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী নাবিল সুন্দরবন-১২ লঞ্চে উঠলে লঞ্চকর্মীরা তাকে কেবিন ভাড়া নিতে চাপ দেন। নাবিল তা প্রত্যাখ্যান করলে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে কয়েকজন স্টাফ মিলে তাকে মারধর করেন। খবর পেয়ে তার সহপাঠী ও সিনিয়ররা ঘটনাস্থলে গেলে তাদেরকেও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়।

আহত শিক্ষার্থীদের মধ্যে রয়েছেন—নাবিল (ফিন্যান্স), শের আলী (আইএমএল), ব্রজ গোপাল রায় (সংগীত), জিলন (এমসিজে), ইমরোজ সিদ্দিক (আইন), আনিছ (থিয়েটার), টিঙ্কু (ফিলোসফি), মাকসুদুল হক (ইসলামিক স্টাডিজ), রিহাব (কবি নজরুল কলেজ) ও মুজাহিদ (সোহরাওয়ার্দী কলেজ)। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে পুরান ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে।

এ ঘটনায় সদরঘাটের ইজারাদার ও দক্ষিণাঞ্চল শ্রমিক দলের আহ্বায়ক সুমন ভূঁইয়ার অনুসারীদের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষার্থীদের ভাষ্যমতে, সুমনের ঘনিষ্ঠ কিরণের নেতৃত্বে আজিজুল, রমজান, আনিছ, রফিক, কাদের, রাব্বি ও সাগর নামের লঞ্চকর্মীরা হামলায় অংশ নেন। পরে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা সুন্দরবন-১২ লঞ্চ ঘেরাও করে ভাঙচুর করেন। এতে যাত্রীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।

লঞ্চটির যাত্রী বরিশালের রাজীব জানান, ‘রাতে ৮টার দিকে লঞ্চে এক শিক্ষার্থীকে মারধর করা হয়। কিছুক্ষণ পর শতাধিক শিক্ষার্থী এসে লঞ্চে ভাঙচুর চালায়। আমরা আতঙ্কে পড়ি। টিকিট কেটেছি, এখন ফেরত পাব কি না তা নিয়ে শঙ্কা আছে।’

এ ঘটনার পর সদরঘাট এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। কোতোয়ালি থানা পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত চারজনকে আটক করা হয়েছে। তবে কোনো মামলা হয়নি। পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

কোতোয়ালি থানার ওসি মনিরুজ্জামান বলেন, ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা-কাটাকাটির জেরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। চারজনকে আটক করা হয়েছে। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. তাজাম্মুল হক বলেন, ‘ঘটনার খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। শিক্ষার্থীরা পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছে। এসব দাবি মেনে নেওয়ার শর্তে পরিস্থিতির শান্তিপূর্ণ সমাধান হবে।’

শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো হলো:
১. কিরণকে দ্রুত গ্রেপ্তার করতে হবে
২. তার সহযোগীদের গ্রেপ্তার
৩. সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ
৪. ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের মোবাইল ও মানিব্যাগের ক্ষতিপূরণ
৫. সাধারণ যাত্রীদের হয়রানি ও কুলিদের অতিরিক্ত টাকা আদায় বন্ধ

ইত্তেফাক/এনএন