নির্বাচন বানচালে গণ্ডগোলের আশঙ্কা দেখছেন মেজর হাফিজ

আপডেট : ০৮ আগস্ট ২০২৫, ১৭:১৭

জাতীয় নির্বাচন বানচালে দেশে অনেক গণ্ডগোলের আশঙ্কা করছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর অব. হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের আগে কিন্তু দেশে অনেক গণ্ডগোল হবে। ভারতে আশ্রয় নিয়ে শেখ হাসিনা দেশকে লণ্ডভণ্ড করার জন্য, নির্বাচনকে বানচাল করার জন্য অনেক সহিংস ঘটনার অবতারণা করবেন। আমাদের সবাইকে সর্তক থাকতে হবে।’ 

শুক্রবার (৮ আগস্ট) জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘অগ্নি সোশ্যাল ফাউন্ডেশন’ ও ‘আমাদের নতুন বাংলাদেশ’ এর যৌথ উদ্যোগে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ‘দ্রুত বিচার সম্পন্ন, মৌলিক সংস্কার ও সংসদ নির্বাচন’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এ আশঙ্কা প্রকাশ করেন। 

হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, আমরা দলমত নির্বিশেষে দেশবাসী সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধভাবে এই মাফিয়াদের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডকে প্রতিহত করবো- আজকের দিনে এই হোক অঙ্গীকার। এবারের নির্বাচন হবে গণতন্ত্রকে সুপ্রতিষ্ঠিত করার জন্য, অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জন করার জন্য, এই হাসিনা মার্কা-আওয়ামী লীগ মার্কা দুঃশাসনকে চিরতরে নির্বাসনে দেবার জন্য। 

তিনি বলেন, ‘সরকারের কাছে আহ্বান রইলো, আপনারা এমন একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করেন যা নিয়ে দেশবাসী গর্ব করতে পারে। বর্তমান নির্বাচন কমিশনের প্রতি আমাদের আস্থা রয়েছে, নিরপেক্ষ ব্যক্তিরা সেখানে রয়েছেন। আমি আশা করব, একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমেই গণরায় প্রতিফলিত হবে। এই নির্বাচনের জন্য দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের মানুষ অপেক্ষা করে আছে। অনেক মানুষ জীবন দিয়েছে গণতন্ত্র ফেরানোর জন্য, সুষ্ঠু নির্বাচন পাওয়ার জন্য।’

হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, নির্বাচন পদ্ধতি পরিবর্তনে বিএনপি কোনো যুক্তিযুক্ত কারণ দেখে না। নির্বাচন বিলম্বিত করতেই কিছু কিছু দল সংখ্যানুপাতিক বা পিআর পদ্ধতির কথা বলছে।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ নিজেদের শাসন ব্যবস্থা পাকাপোক্ত করতে হত্যা গুম খুনসহ এক বিভিষিকাময় রাজত্ব কায়েম করেছিলো। তাদের নেত্রী মুখে সুন্দর সুন্দর কথা বললেও লুটপাটে বিশ্ব রেকর্ড করে গেছেন। সাধারণ মানুষ ভোটের বাক্সের কখনও নাগাল পায়নি। দুঃশাসনের বিরুদ্ধে ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানে হাসিনাকে দেশ ছেড়ে পালাতে হয়েছে।

তিনি বলেন, বিএনপি আন্দোলন করেছে ক্ষমতায় যাবার জন্য নয়, জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা বলেছেন। তিনি আশা করেন জনগণের রায়ের ওপর সকল রাজনৈতিক দল আস্থা রাখবে।  

ইত্তেফাক/এমএস