নার্সিং লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও প্রায় সাড়ে চার হাজার রোগীকে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার অভিযোগে ২৯ বছরের এক তরুণীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের অ্যাডভেন্টহেলথ পাম কোস্ট পার্কওয়ে হাসপাতালে।
বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি। অভিযুক্ত নারীর নাম এটাম বারডিসা। বর্তমানে তাকে শেরিফ পেরি হল ইনমেট ডিটেনশন সেন্টারে বন্দী করে রাখা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, তার প্রকৃত কোনো নার্সিং লাইসেন্স নেই। নার্স সেজে স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে রোগীদের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন।
পুলিশ আরও জানায়, ভুয়া নার্স হিসেবে কাজ করার সময় পদোন্নতির প্রস্তাবও পেয়েছিলেন তিনি। তার বিরুদ্ধে লাইসেন্স ছাড়া চিকিৎসাসেবা দেওয়ার এবং প্রতারণার বেশ কয়েকটি অভিযোগ আনা হয়েছে।
সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ প্রসঙ্গে জানিয়েছে, ২৯ বছর বয়সী ওই নারী নিবন্ধিত নার্স পরিচয়ে ফ্ল্যাগলারের অ্যাডভেন্টহেলথ পাল্ম কোস্ট পার্কওয়ে হাসপাতালে ২০২৩ সালের জুলাই থেকে ২০২৫ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত চাকরি করেন। ওই সময় পর্যন্ত তিনি অন্তত ৪ হাজার ৪৮৬ জন রোগীর চিকিৎসা দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন তদন্তকারীরা।
সংবাদমাধ্যমটি আরও জানায়, চলতি বছরের জানুয়ারিতে হাসপাতাল থেকে তাকে পদোন্নতির প্রস্তাব দেওয়া হয়। তখনই তার এক সহকর্মী খেয়াল করেন, বারডিসার নার্সিং সহকারী লাইসেন্সটি আগেই মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে গেছে। এরপর সাত মাস ধরে তদন্ত চলে।
তদন্তে জানা যায়, তিনি অন্য একজন নার্সের লাইসেন্স নম্বর ব্যবহার করছিলেন। কারণ ওই নার্সের প্রথম নামের সঙ্গে তার নামের মিল রয়েছে। তবে বারডিসা দাবি করেছিলেন, বিয়ের পর তিনি নাম পরিবর্তন করেছেন। তবে বিয়ের সনদ দেখাতে বলা হলেও তিনি তা দেননি।
পরে গত ৫ আগস্ট চিকিৎসকের পোশাক পরে থাকার সময় বারডিসাকে তার বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে লাইসেন্স ছাড়া চিকিৎসাসেবা দেওয়া এবং ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণার সাতটি অভিযোগ আনা হয়েছে।
ফ্ল্যাগলার কাউন্টির শেরিফ রিক স্ট্যালি বলেন, এই ঘটনাটি চিকিৎসা বিষয়ক প্রতারণার সবচেয়ে উদ্বেগজনক একটি ঘটনা। এই নারী হাজার হাজার মানুষের জীবনকে হুমকির মুখে ফেলেছেন।
এদিকে যারা বারডিসার কাছে চিকিৎসাসেবা নিয়েছেন, তাদের জন্য একটি ই-মেইল চালু করেছে স্থানীয় শেরিফ অফিস।
এমএইচএস

