চোখের দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে এসেছে সাবিয়া খাতুন বকুলের (৮০), কানেও শোনেন কম। কথা ছিল গাজীপুরে তার চোখের অপারেশন করাবেন ছোট ছেলে আসাদুজ্জামান তুহিন। কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাস, যেখানে মায়ের অপারেশন করানোর কথা সেখান থেকেই এলো ছেলের নিথর দেহ।
এমন নির্মম গল্পটা গাজীপুরে হত্যাকাণ্ডের শিকার সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিনের।
শুক্রবার (৮ আগস্ট) গাজীপুর থেকে ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের ভাটিপাড়া গ্রামে ফিরে মাকে নিয়ে ডাক্তার দেখানোর কথা ছিল তুহিনের। অথচ সেদিন সন্ধ্যায় তুহিনের মরদেহ আনা হয় বাড়িতে। তুহিনের মরদেহ বাড়িতে পৌঁছাতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজনরা।
ছেলের হত্যাকাণ্ডের পর একেবারেই ভেঙে পড়েছে তুহিনের বাবা হাসান জামালও (৯০)।
স্থানীয়রা জানান, সাংবাদিক তুহিন ছিল পাঁচভাইয়ের মধ্যে সবার ছোট। তারা মোট ৭ ভাইবোন। দুই বোনের বিয়ে হয়ে গেছে। নিহত তুহিনের বড় ভাই জসিম উদ্দিনও ১৫ বছর আগে মারা যান। দরিদ্র পরিবারের ছেলে আসাদুজ্জামান তুহিন জীবিকার তাগিদে গাজীপুরে বসবাস করতেন। দীর্ঘ দিন ধরে দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ নামের একটি পত্রিকায় স্টাফ রিপোর্টার হিসাবে কাজ করতেন তিনি।
বাড়িতে থাকা বৃদ্ধ বাবা-মাকে তিনিই দেখাশোনা করতেন বলে জানান তুহিনের ভাবী জোহরা খাতুন। তিনি বলেন, তার তৌকিব (৭) ও ফাহিম (২) নামে দুজন শিশু সন্তান রয়েছে। পরিবারের সবকিছু তুহিনই করতো। শুক্রবার মাকে নিয়ে গাজীপুরে যাওয়া কথা ছিল। বলেছিল মায়ের চোখের অপারেশন করাবেন। দরিদ্র পরিবারটিকে এখন কে দেখে রাখবে? বলতে বলতে আঁচলে চোখ মুছলেন জোহুরা।
এর আগে বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে গাজীপুর নগরের চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় তুহিনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। তিনি দৈনিক প্রতিদিনের কাগজের গাজীপুরের স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে কাজ করতেন। তার বাড়ি ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার ভাটিপাড়া গ্রামে। পরে হত্যার সেই দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। অভিযোগ ওঠে, রাজনৈতিক দলের চাঁদাবাজরা তুহিনকে কুপিয়ে হত্যা করেছে।
তবে প্রাথমিক তদন্তের পর শুক্রবার সকালে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (অপরাধ উত্তর) মো. রবিউল ইসলাম জানান চাঁদাবাজি নয়, বাদশা নামে এক যুবকের ওপর হামলার ঘটনার ভিডিও ধারণ করায় তুহিনকে হত্যা করা হয়েছে।
