কোহলি-ডি ভিলিয়ার্সের ফোন পেলেন মুদি দোকানদার, একটু পরই হাজির পুলিশ

আপডেট : ১১ আগস্ট ২০২৫, ১৪:১০

মনিশ পেশায় তিনি এক মুদি দোকানের মালিক। ভারতের ছত্তিশগড়ের সেই মুদি দোকানি আচমকাই চলে এসেছেন খবরের শিরোনামে। কারণ তাকে যে ফোন করেছিলেন বিরাট কোহলি, এবি ডি ভিলিয়ার্স, রজত পাতিদাররের মতো তারকা ক্রিকেটার! বিষয়টা বিশ্বাসই হচ্ছিলো না মনিশের। তাই তাদের সঙ্গে পাল্টা মজা করতে শুরু করেছিলেন এই দোকানদার। শেষে মনিশের ভুল ভাঙ্গে বাড়ির দরজায় পুলিশ হাজির হওয়ায়।

ছত্তিশগড়ের গারিয়াবন্দ জেলার দেবভোগ গ্রামের একটি দোকানের মালিক মনিশ বুঝতেও পারেননি তার জীবনে এমন দিন আসবে। রাতারাতি তিনি বিখ্যাত হয়ে গিয়েছিলেন। তবে স্বল্প সময় পরই আবার বাস্তবের মাটিতে ফিরেছেন।

ঘটনার সূত্রপাত গত ২৮ জুন। স্থানীয় দোকান থেকে একটা সিমকার্ড কিনেছিলেন মনিশ। মোবাইলে সিম ভরে হোয়াটসঅ্যাপ ইনস্টল করতেই সেখানে দেখা যায় পাতিদারের ছবি। মনিশ এবং তার বন্ধু খেমরাজ ভেবেছিলেন, বিষয়টা নেহায়েতই মজার। কিন্তু এরপরই একের পর এক ফোন আসা শুরু হয়। কেউ নিজেকে বিরাট কোহলি, আবার কেউ এবি ডি ভিলিয়ার্স বলে পরিচয় দিতে শুরু করেন।

Chhattisgarh man's SIM card mix-up with Rajat Patidar connects him to Virat  Kohli and AB de Villiers - India Today

মনিশ এবং খেমরাজও মজা পেয়ে যান। তারা নিজেদের ‘মহেন্দ্র সিং ধোনি’ বলে পরিচয় দিতে শুরু করেন। এরপর ১৫ জুলাই অপরিচিত একটা নম্বর থেকে ফোন পান মনিশ। উল্টো প্রান্তে থাকা ব্যক্তি বলেন, “ভাই, আমি রজত পাতিদার। এই নম্বরটা আমার। দয়া করে ফেরত দিন।” তখনও মনিশ মজা করে বলেন, “আমি এমএস ধোনি।”

ফোনের ওপাশে থাকা সেই ব্যক্তি বারবার বোঝালেও লাভ হয়নি। শেষে তিনি জানান, পুলিশে অভিযোগ করবেন। দশ মিনিটের মধ্যেই মনিশের বাড়িতে হাজির হয় পুলিশ। তখন বুঝতে পারেন, উল্টো প্রান্তে থাকা ব্যক্তি সত্যিই পাতিদার ছিলেন। সঙ্গে সঙ্গে সিম কার্ড ফিরিয়ে দেন মনিশ।

মূলত কোনো সিম কার্ড ৯০ দিন ধরে নিষ্ক্রিয় থাকলে ভারতের মোবাইল অপারেটর সংস্থাগুলো তা অন্য কাউকে দিয়ে দেয়। পাতিদারের ক্ষেত্রেও তেমনটা হয়েছে। তবে এখন নিজের নম্বর ফেরত পেয়েছেন তিনি।

গারিয়াবান্দ জেলার ডেপুটি পুলিশ সুপার নিশা সিনহা বলেন, ‘রজত পাতিদার ৯০ দিন ধরে একটি সিম কার্ড ব্যবহার করছিলেন না। নিয়মানুযায়ী এত লম্বা সময় বন্ধ থাকলে সিম নিষ্ক্রিয় করা হয়। পরে নতুন করে বাজারে ছাড়ার পর এ সিমটি মনীশ বিসি কিনে নেন।’

নিশা সিনহা আরও বলেন, ‘ইন্দোর সাইবার সেলের সঙ্গে কথা বলার পর মনীশ বিসির অনুমতিতে সিম কার্ডটি রজত পাতিদারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। আগে পাতিদার এই সিম ব্যবহার করায় অন্য ক্রিকেটাররা সেই নম্বরে ফোন করছিলেন। পরে পাতিদার মধ্যপ্রদেশের সাইবার সেলের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিজের সিম ফেরত চান এবং সেই অনুরোধের ভিত্তিতেই আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি। এখানে কারও কোনো আইনি সমস্যা নেই।’

সাংবাদিকের সঙ্গে আলাপচারিতায় খেমরাজ বলেছেন, ‘প্রথমে বিরাট কোহলি স্যারের ফোন পাই। এরপর ফোন করেন যশ দয়াল স্যার। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন কেন আমি রজত পাতিদারের ফোন ব্যবহার করছি। আমি বললাম, এটা তার নম্বর নয়।’

খেমরাজ আরও যোগ করেন, ‘দুই-তিন মিনিট পর কোহলি স্যার ফোন করে জানতে চান, কেন পাতিদারের নম্বর ও তার হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করছি। আমরা বললাম, আমরা তা করিনি। আধা ঘণ্টা পর এবি ডি ভিলিয়ার্স স্যারের ফোনও আসে।’ তবে তারা ইংরেজি বোঝেন না বলেও জানিয়েছেন।

খেমরাজ জানিয়েছেন, বিভ্রান্তি চরমে পৌঁছায়, যখন পুলিশ পরের ১০ মিনিটের মধ্যে গ্রামে এসে হাজির হয়। শুরুতে বিষয়টি বুঝতে না পারলেও পুলিশের মাধ্যমেই খুলতে শুরু করে রহস্যের জট। তারা জানতে পারে, এটা ভিআইপি নম্বর এবং এ নম্বরটি ব্যবহার করতেন বেঙ্গালুরু অধিনায়ক পাতিদার।

ভুলবশত হলেও কয়েক মিনিটের জন্য কিংবদন্তি ক্রিকেট তারকাদের সঙ্গে কথা বলতে পেরে আনন্দিত মনীশ ও খেমরাজ। খেমরাজ বলেন, ‘আমি আরসিবির বড় ভক্ত। আমার দোকান ও বাসায় কোহলি স্যারের ছবিও আছে।’ মনীশের কৃষক বাবা গজেন্দ্র সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘আমার ছেলে বিরাট কোহলির সঙ্গে কথা বলেছে, এটা আমাদের জন্য বড় আনন্দের বিষয়।’

 

ইত্তেফাক/জেডএইচ