শাবিপ্রবিতে ‘প্রকৌশল অধিকার আন্দোলন’-এর বিক্ষোভ, ৩ দফা দাবিতে সরব শিক্ষার্থীরা

আপডেট : ১২ আগস্ট ২০২৫, ১৭:৪৭

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) প্রকৌশল বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ‘প্রকৌশল অধিকার আন্দোলন’-এর ব্যানারে তিন দফা দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন। বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারদের প্রতি চাকরির ক্ষেত্রে বৈষম্য এবং ডিপ্লোমাধারীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার অভিযোগ এনে এই সমাবেশ করা হয়। এ সময় আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, উপ-উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষ।

মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) দুপুর ১টার দিকে বিক্ষোভ সমাবেশটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বর থেকে শুরু হয়ে প্রধান ফটক অতিক্রম করে সিলেট-সুনামগঞ্জ মহাসড়কে প্রদক্ষিণ করে। প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থী এতে অংশ নেন।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে, চাকরির ক্ষেত্রে ডিপ্লোমাধারীদের জন্য অবৈধ কোটা, রাজনৈতিক প্রভাবে পদোন্নতি, গেজেটের অপব্যবহার, পদের জন্য ঘুষ ও লবিং, এবং বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারদের নিয়োগে বাধা ও আবেদনের সুযোগ না দেওয়াসহ নানা কারণে বিএসসি ইঞ্জিনিয়াররা বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। যা বাংলাদেশের জন্য লজ্জাজনক।

বিক্ষোভ চলাকালে শিক্ষার্থীরা ‘চব্বিশ এর বাংলায়, বৈষম্যের ঠাঁই নাই’, ‘সাস্টিয়ান সাস্টিয়ান, এক হও, এক হও’, ‘বৈষম্যের কালো হাত, ভেঙে দাও, গুঁড়িয়ে দাও’, ‘অ্যাকশন টু অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, ‘বৈষম্যের বিরুদ্ধে ডাইরেক্ট অ্যাকশন, ‘কোটা না মেধা, মেধা মেধা’, ‘সবার মুখে এক বয়ান, ডিপ্লোমারা টেকনিশিয়ান’ ইত্যাদি স্লোগান দেন।

সমাবেশে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী তানভির রহমান বলেন, ‘যারা মেধার স্বাক্ষর রেখে দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তির সুযোগ পায় না, তারাই ডিপ্লোমাতে ভর্তি হয়। ডিপ্লোমাতে যারা পড়ে তাদের অধিকাংশই দুর্বল। ক্লাসের সেরা শিক্ষার্থীরা কেউ ডিপ্লোমাতে ভর্তি হয় না। ডিপ্লোমাতে ক্লাসের পেছনের সারির শিক্ষার্থীরাই পড়ে। এটাই বাস্তবতা।’

তিনি আরও বলেন, ‘শাবির কথা বাদই দিলাম। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ব্যাচ থেকে একজন গুগলে চাকরি পেয়েছে। আমাকে একটা উদাহরণ দেখান যে ডুয়েট থেকে কেউ গুগলে গিয়েছে? পাবেন না। ডিপ্লোমার জন্য বাংলাদেশে সবচেয়ে বড় হচ্ছে ডুয়েট। তারাই ভালো কিছু করতে পারে নাই। তাহলে তাদেরকে কেন এত সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হবে?’

সমাবেশে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা তাদের তিন দফা দাবিগুলো হলো-

১. ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ৯ম গ্রেড বা সহকারী প্রকৌশলী বা সমমানের পদে প্রবেশের জন্য সবাইকে নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে এবং ন্যূনতম বিএসসি ইন ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি থাকতে হবে। কোটার মাধ্যমে কোনো পদোন্নতি নয়, এমনকি অন্য কোনো নামে সমমানের পদ তৈরি করেও পদোন্নতি দেওয়া যাবে না।

২. টেকনিক্যাল ১০ম গ্রেড বা উপ-সহকারী প্রকৌশলী বা সমমানের পদের নিয়োগ পরীক্ষা ডিপ্লোমা এবং একই ডিসিপ্লিনে উচ্চতর যোগ্যতাসম্পন্ন বিএসসি ইন ইঞ্জিনিয়ারিং উভয় স্নাতকের জন্য উন্মুক্ত করতে হবে।

৩. বিএসসি ইন ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি ছাড়া প্রকৌশলী পদবি ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে অন্যান্য দেশের মতো যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নিতে হবে। নন-অ্যাক্রিডিটেড বিএসসি ইন ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সগুলোকে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে IEB-BATE অ্যাক্রিডিটেশনের আওতায় আনতে হবে।

ইত্তেফাক/এসজেএস/এমএএস