ভরা বর্ষায় পানির দেখা নেই, লোকসানে নৌকার কারিগররা

আপডেট : ১৫ আগস্ট ২০২৫, ১৪:১৩

শ্রাবণের শেষ প্রান্তে এসেও সিরাজগঞ্জের নদ-নদী ও চলনবিলে এখনও পানির স্বাভাবিক প্রবাহ দেখা যায়নি। ভরা বর্ষায় যেখানে বিল-নদীতে টইটম্বুর পানি থাকার কথা, সেখানে এবছর পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। ফলে বিপাকে পড়েছেন নৌকা তৈরির সঙ্গে যুক্ত কারিগররা

এ অঞ্চলের যমুনা, বড়াল, গুমানি, হুরাসাগর ও চলনবিলের বিভিন্ন এলাকায় প্রতি বছর জুন-জুলাইয়ে পানি প্রবেশ করে এবং তা থাকে নভেম্বর পর্যন্ত। এই সময়টায় নৌকা হয়ে ওঠে যোগাযোগের অন্যতম প্রধান বাহন। ফলে বর্ষাকালেই বাড়ে নৌকার চাহিদা এবং ক্রয়-বিক্রয়।
তবে এবার নদীতে পানি না বাড়ায় গ্রামাঞ্চলে নৌকার তেমন প্রয়োজন পড়ছে না। অনেক কারিগর এপ্রিল থেকে কাঠ ও টিন দিয়ে নৌকা তৈরি শুরু করলেও, এখন তারা ক্রেতার অভাবে দিশেহারা। কেউ কেউ নির্মাণসামগ্রী সংগ্রহ করেও কাজ বন্ধ রেখেছেন।

শাহজাদপুর উপজেলার কৈজুড়ী গ্রামের কাঠমিস্ত্রি আব্দুল হাফিজ বলেন, মে মাস থেকে কয়েকটি ডিঙ্গি নৌকা তৈরি করেছি। খরচ হয়েছে প্রায় ১ লাখ টাকা। কিন্তু এখনও কেউ কিনতে আসেনি। পানি না থাকায় লোকজনের প্রয়োজনও নেই।

প্রতিটি ডিঙ্গি নৌকা আকারভেদে বানাতে খরচ হয় ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা। বিক্রির সময় এক থেকে দেড় হাজার টাকা লাভ থাকে। তবে বিক্রি না হলে এই বিনিয়োগটাই হয়ে দাঁড়ায় লোকসান।

উল্লাপাড়া উপজেলার বাঙ্গালা গ্রামের নৌকা কারিগর আব্দুল ব্যাপারী জানান, বর্ষার জন্য ১০টি নৌকা তৈরি করেছিলাম, মাত্র একটি বিক্রি হয়েছে। গত বছর একই সময়ে ২৫টি নৌকা বিক্রি করেছি। এবার পানি না থাকায় অবশিষ্টগুলো নিয়ে বিপাকে পড়েছি।

নৌকা কারিগরদের মতে, চলনবিল এলাকায় বর্ষায় নৌকা ব্যবহার করে মাছ ধরা, বাজারে যাওয়া, শিশুদের স্কুলে যাতায়াতসহ নানান কাজে। কিন্তু এবছর চলনবিলে পর্যাপ্ত পানি না থাকায় এসব প্রয়োজনই পড়ছে না।

পানির ঘাটতির কারণ জানতে চাইলে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মোখলেছুর রহমান বলেন, চলনবিল অঞ্চলের পানির মূল উৎস যমুনা নদী। এরপর করতোয়া, ফুলজোর, হুরাসাগর, মুক্তাহার, সরস্বতীসহ কয়েকটি নদী হয়ে পানি আসে। কিন্তু এ বছর যমুনা নদীতেই বর্ষায় স্বাভাবিক পানি দেখা যায়নি। আমাদের পূর্বাভাস অনুযায়ী সামনে কিছুটা পানি বাড়তে পারে।

ইত্তেফাক/এএইচপি