এবারই প্রথম বিদেশি ফুটবলার রেজিস্ট্রেশন নিয়ে দুই রকম নিয়ম করেছে বাফুফে। দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলারদেরকে দেশি ফুটবলার হিসেবে খেলানো যাবে। দক্ষিণ এশিয়ার বাইরের ফুটবলারদেরকে বিদেশি হিসাবে গণ্য করা হবে। গতকাল রাতে খেলোয়াড় রেজিস্ট্রেশনের শেষ সময় চলে গেছে। দেশি এবং বিদেশি দুটোরই সময় শেষ হয়েছে।
উপমহাদেশের ৫ জন, বাইরের ৫ জন ফুটবলার রেজিস্ট্রেশনের পাশাপাশি জুনিয়র লেভেলে ৫ জন ফুটবলার রেজিস্ট্রেশন করার নিয়ম করা হয়েছে। ভিন্ন মত রয়েছে বিদেশি কোটা নিয়ে। মোহামেডান আর আবাহনী দুই মেরুতে দাঁড়িয়েছে। মোহামেডানের ফুটবল কোচ আলফাজ আহমেদ জানিয়েছেন, কাজটা ভালো হয়নি। আর আবাহনীর কোচ মারুফুল হক জানিয়েছেন এটা ঠিক হয়েছে।
এবারের মৌসুমে প্রতিকূল পরিবেশে আবাহনী লিগ রানার্সআপ হয়েছে। ফেডারেশন কাপ ফুটবলে রানার্সআপ হয়েছে। ২৩ বছর পর মোহামেডান প্রথমবারের মতো প্রিমিয়ার লিগের ট্রফি জয় করেছে। দেশের ফুটবলে এই দুটি দলের গ্রহণযোগ্যতা আজও ম্লান হয়নি। দর্শকপ্রিয়তার ক্ষেত্রে তারাই শীর্ষে এবং তাদের জনপ্রিয়তার ধারে-কাছে কেউ আসতে পারেনি।
১০ জন ফুটবলার রেজিস্ট্রেশন করার নিয়ম হলেও বিদেশি কোটায় ৪ জন ম্যাচের দিন তালিকায় থাকবেন, আর ৩ জন একাদশে খেলতে পারবেন। বিদেশির বদলে বিদেশি খেলতে পারবেন। অন্যদিকে সাফ অঞ্চলের ফুটবলার যদি দলে থাকে তারা বাংলাদেশি হিসেবে একাদশে খেলতে পারবেন।
মোহামেডান-আবাহনী উপমহাদেশের ফুটবলারদের দলে নেয়নি। আবাহনী নিয়েছে মোহামেডান থেকে আসা সুলায়মান দিয়াবাতেকে। এই ফুটবলার ৬ মৌসুম মোহামেডানে খেললেও তার আফসোস ছিল তিনি এএফসির টুর্নামেন্টে খেলতে পারছিলেন না। মোহামেডানের এবার লিগ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পরও এএফসির টুর্নামেন্টে খেলেনি। আবাহনীতে গিয়ে সুলায়মান এএফসির টুর্নামেন্টে খেলার স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। মুরাসের বিপক্ষে সুলায়মান দিয়াবাতে অসাধারণ পারফরম্যান্স করেছেন। তার এই পারফরম্যান্স মোহামেডানে খুব কমই দেখা গেছে। কিছু একটা করার চেষ্টা করেছেন। মুরাসের রক্ষণ কাটিয়ে বার বার ঢুকে পড়েছেন সুলায়মান। মোহামেডানে মোজাফফরভ যেভাবে দিয়াবাতেকে সাপোর্ট দিয়েছেন সেটি আবাহনীতে পাননি। তাকে সাপোর্ট দিতেই দুজন বিদেশি চেয়েছেন কোচ মারুফুল।
গতকাল রাতে আবাহনী আরও দুজন বিদেশি ফুটবলার দলে নেওয়ার জন্য দর কাষাকষি করছিল। এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগের প্লে-অফ ম্যাচে কিরগিজ ক্লাব মুরাস ইউনাইটেডের কাছে ২-০ গোলে আবাহনী হারলেও তারা বুঝতে পারছে দলের কোথায় কোথায় দুর্বলতা রয়েছে। কোচ মারুফুল হক মুরাসের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে অসহায়ত্ব প্রকাশ করছিলেন। তার দলে রিসোর্স কম। তিনি ক্লাবের কাছে আরও দুজন বিদেশি ফুটবলার দাবি করেছেন। পাবেন কি না, সেটা তিনি নিজেও জানেন না।
উপমহাদেশের ফুটবলারদেরকে বাংলাদেশি হিসেবে খেলার যে আইনটি করা হয়েছে সেটি নিয়ে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তিনি মনে করেন এই নিয়মটি দেশের ফুটবল উন্নয়নে সহায়ক হবে।' মারুফুল হক ব্যাখ্যা করলেন এভাবে-এ নিয়মটি দেশি ফুটবলারদের জন্য বড় একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। দেশি ফুটবলাররা বিনা চ্যালেঞ্জে যেতে পারবে না। এখন অনেকেই মনে করেন সামনে কেউ নেই। যখন নিজের পজিশন নিয়ে টানাটানি পড়বে তখন বাধ্য হয়ে আরও ভালোর চেষ্টা করবে। আরও শেখার চেষ্টা করবে। তখন আরও ভালো খেলবে। আর তাতে দেশের ফুটবলের উন্নয়ন হবে।'
মুরাসের বিপক্ষে আক্রমণে আবাহনীর ইব্রাহিম যদি এক সেকেন্ড আগে দৌড় শুরু করতেন তাহলে গোল পেতেন তিনি। ইব্রাহিম বল পেয়েছেন তবে দেরিতে। মারুফুল হক বললেন, 'ইব্রাহিম ট্যালেন্টেড ফুটবলার। সে যদি আরেকটু চেষ্টা করে আরও ভালো খেলতে পারে।'
মারুফুল হকের উলটো পথে হাঁটলেন মোহামেডান কোচ আলফাজ আহমেদ। উপমহাদেশের ফুটবলারদের বাংলাদেশি হিসেবে খেলানোর সিদ্ধান্তটি নিয়ে আলফাজ বললেন, 'বাজে একটা কাজ হয়েছে। ভবিষ্যৎ বলবে এটা ভালো হলো কি হলো না।' মোহামেডান উপমহাদেশের ফুটবলার নেয়নি। তারা এবার নিয়েছে ঘানার ডিফেন্ডার কেকে, এটাকিং মিডফিল্ডার মরিসনকে।
গত মৌসুমে রহমতগঞ্জে খেলা ঘানার স্যামুয়েল বোয়েটাংকে নিয়েছে মোহামেডান। তার কাছ থেকে ভালো সার্ভিস পাবে। লিগে ২১ গোল করেছেন। দিয়াবাতের জায়গায় বোয়েটাং আরও ভালো করতে পারবেন বলে মোহামেডানের বিশ্বাস। আর উজবেক ফুটবলার মোজাফফরভ তো আছেই। এছাড়াও জুনিয়র দলের ৫ জন ফুটবলার নিয়েছে মোহামেডান। কমে বেশি আগের দলটাই রাখার চেষ্টা করেছে মোহামেডান।
ব্রাদার্স ইউনিয়নের ফুটবল ম্যানেজার আমের খান মনে করেন বিদেশি সংখ্যটা এত বাড়ানো ঠিক হয়নি। তিনি বলেন, 'এই সময়টাই এটা করা ঠিক হয়নি। বর্তমান সময়টা ভালো না। সবাই একটা ভিন্ন পরিস্থিরি মধ্যে রয়েছে।' ব্রাদার্স আবারও জামাল ভূঁইয়াকে দলে নিয়েছে। তারা গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত বিদেশি তালিকা চূড়ান্ত করতে পারেনি।
বিদেশি রেজিস্ট্রেশন সংখ্যাটা ১০ জন হচ্ছে। দেশি হিসেবে যাদেরকে ধরা হবে তারা বিদেশি হিসেবে পেমেন্ট নেবেন। সুযোগ-সুবিধাও সেভাবে দিতে হবে। এসব কথা জানিয়েছে একাধিক ক্লাব। মুখে মুখে দেশি আর কাগজে-কলমে তারা বিদেশি হিসেবে খেলতে আসবেন। তাদের জন্য আলাদা রুম, বিমান টিকিট, পারিশ্রমিক হবে ডলারে। তাহলে কেন বিদেশি। ফর্টিস এফসি নেপাল ও শ্রীলঙ্কা থেকে ফুটবলার নিয়েছে। শ্রীলঙ্কার জাতীয় দলের গোলরক্ষক সুজন পেরেইরা এবং নেপালের জাতীয় দলের অনন্ত তামাংকে নিয়েছে। গাম্বিয়ান দুজন ফুটবলার খেলবেন। দলের ম্যানেজার রাশেদুর রহমান মনে করেন, বিদেশি সংখ্যাটা বেশি হয়ে গেছে। আরেকটু কম হলে ভালো হতো।'
মারুফুল হক একটা পরামর্শ দিয়ে বলেছেন, 'বিদেশি যারা বাংলাদেশি হিসেবে খেলবেন তাদের ব্যাপারে বাফুফে এবং সাফ অফিস একটা সমঝোতামূলক চুক্তি করলে ভালো হতো। তাহলে বাংলাদেশের ফুটবলারদের জন্য দুয়ার খুলতো।'

