রাজশাহীর পবায় নিজ বাড়ি থেকে উদ্ধার হয় মিনারুল, তার স্ত্রী মনিরা, দেড় বছরের শিশুকন্যা মিথিলা ও স্কুলপড়ুয়া ছেলে মাহিমের মরদেহ। ফ্যানে ঝুলন্ত অবস্থায় ছিলেন মিনারুল, একই ঘরের বিছানায় ছিল ছেলের মরদেহ। অন্য ঘরের বিছানায় পাওয়া যায় স্ত্রী ও মেয়ের মরদেহ।
পুলিশের ধারণা, জুয়ায় আসক্তি ও বিপুল অংকের আর্থিক দেনার চাপ থেকে মুক্তির পথ না পেয়ে স্ত্রী, স্কুলপড়ুয়া ছেলে ও শিশুকন্যাকে হত্যার পর আত্মহত্যা করেছেন মিনারুল।
শুক্রবার (১৫ আগস্ট) সকালে পুলিশ মরদেহগুলো উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছে।
পুলিশের ধারণা, প্রথমে স্ত্রী ও মেয়েকে, পরে ছেলেকে শ্বাসরোধে হত্যা করে মিনারুল আত্মহত্যা করেন। ঘটনাস্থল থেকে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার হয়েছে, যেখানে অভাব ও ঋণের চাপকে এ হত্যাকাণ্ড ও আত্মহত্যার কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, বছর দুয়েক আগে জুয়া খেলে বিপুল ঋণে জড়িয়ে পড়েন মিনারুল। তিনি বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নেন, সপ্তাহে ২ হাজার ৭৪০ টাকা কিস্তি দিতে হতো। সেই হিসেবে মাসে ১০ হাজার ৯৬০ টাকা শোধ করতে হতো। কৃষিকাজ করে সেই টাকা শোধ করা সম্ভব হচ্ছিল না। তার বাবা রুস্তম আলী জমি বিক্রি করে কিছু ঋণ পরিশোধ করলেও বাকি দেনা শোধ হয়নি। আর্থিক সংকটে আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকেও তেমন সাহায্য পাননি মিনারুল, যা তাকে হতাশাগ্রস্ত করে তোলে।
মিনারুলের চাচি জানান, আগে থেকেই জুয়ার আসক্ত ছিলেন মিনারুল। প্রায় দেড় বছর আগে তার বাবা রুস্তম আলী দেড় লাখ টাকায় জমি বিক্রি করে আংশিক ঋণ শোধ করেন। তবে পুরো ঋণ শোধ না হওয়ায় বাবার প্রতি ক্ষোভ ছিল মিনারুলের। এ কারণে বাবা-মায়ের সঙ্গে কথা বলতেন না, যদিও সন্তানদের দাদা-দাদির সঙ্গে ভালো সম্পর্ক ছিল।
ঘটনার দিন সকালে রুস্তম আলী খড়খড়ি হাট থেকে মাছ কিনে এনে স্ত্রী আঞ্জুময়ারাকে বলেন মিথিলাকে ডাকতে। কিন্তু বারবার ডাকেও কোনো সাড়া মেলেনি। পরে পাশের ঘরে গিয়ে তারা দেখতে পান মিনারুল ঝুলছে। চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে আসে এবং পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে।
রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) কমিশনার আবু সুফিয়ান বলেন, ‘ধারণা করা হচ্ছে, স্ত্রী, ছেলে ও মেয়েকে হত্যার পর মিনারুল আত্মহত্যা করেছে। মরদেহগুলো শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। একটি চিরকুট উদ্ধার হয়েছে যেখানে ঋণগ্রস্ততার কথা লেখা রয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে, মামলা হবে।’
পুলিশ জানায়, প্রাথমিকভাবে অপমৃত্যুর মামলা হবে। তদন্তে আত্মহত্যায় প্ররোচনার প্রমাণ পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। ঘটনাটি পিবিআই, সিআইডি ও র্যাব ছায়া তদন্ত শুরু করেছে।
