ডোপ টেস্টে পজিটিভ শিক্ষক নিয়োগ প্রার্থীর পোস্টের স্ক্রিনশট চবি উপ উপাচার্যের ফেসবুকে

আপডেট : ১৬ আগস্ট ২০২৫, ২১:০৮

শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বারংবার সমালোচনার মুখে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া চরম বিতর্কে। এরপর আবারও সেই নিয়োগ প্রক্রিয়ার প্রার্থীকে কেন্দ্র করে বড় বিতর্কের মুখে পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রশাসন।

একই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হয়েও ডোপ টেস্টে পজিটিভ এক প্রার্থীর পোস্ট দেওয়া স্ক্রিনশট বিশ্ববিদ্যালয়টির উপ উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিনের ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে গত বৃহস্পতিবার রাতে কাভার ফটো হিসেবে আপলোড করা হয়। শিক্ষক নিয়োগ প্রার্থীর মাদকাসক্তের বিষয়টি প্রচার হওয়ার পর সেই প্রার্থীরই গত বছর জুলাইয়ে ফেসবুকের প্রোফাইলে লাল ফ্রেম দেওয়ার স্ক্রিনশট বিশ্ববিদ্যালয়টির দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে আপলোড হওয়ার পরপরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে। এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীদের মাঝেও প্রশাসনের প্রতি বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। একই সাথে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়টির নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। 

গত ২৮ জুলাই নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ার জন্য অনুষ্ঠিত লিখিত পরীক্ষার পর থেকেই নানান অসংগতির কারণে বিতর্কিত হতে থাকে নিয়োগ প্রক্রিয়াটি। ইতিমধ্যেই অবিলম্বে উক্ত শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার ফলাফল স্থগিত করার দাবি তুলে বিবৃতিও দিয়েছে বিভাগটির শিক্ষক থেকে শুরু করে বিভাগীয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন এবং নিয়োগ পদপ্রার্থীরা। 

এত বিতর্কের মুখেও গত ৮ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়টির সিন্ডিকেটে নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষক নিয়োগের তিন ধাপের পরীক্ষার পর তিনজন প্রার্থীকে চূড়ান্ত করে নিয়োগের অনুমোদন দেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়টিতে সম্প্রতি চালু হওয়া নিয়ম অনুযায়ী যেকোনো পদে যোগদানে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে ডোপ টেস্ট। পরবর্তীতে চুড়ান্ত ভাবে মনোনীত উক্ত তিন নিয়োগ প্রার্থীর ডোপ টেস্ট চবি মেডিকেল সেন্টারে করা হলে তার মধ্যে দুইজনের ফলাফল পজিটিভ আসে। যার ফলে তাদের নিয়োগ প্রক্রিয়া আটকে যায়। এরই মধ্যে একজন হলো ড. ইমরুল আসাদের (তুহিন ইমরুল)। যার ফেসবুকের প্রোফাইলে দেওয়া লালা ফ্রেমের স্ক্রিনশট বিশ্ববিদ্যালয়টির উপ উপাচার্য (প্রশাসন) এর ব্যক্তিগত ফেসবুক একাউন্ট থেকে কাভার ফটো হিসেবে আপলোড হয়েছিল। তবে আপলোড হওয়ার ঘন্টাখানেকের মধ্যেই তা একাউন্টটি থেকে সরিয়ে ফেলা হয়। 

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নাট্যকলা বিভাগে শিক্ষক নিয়োগে চূড়ান্ত হওয়া তিন প্রার্থীর মধ্যে দুজনের ডোপ টেস্ট পজিটিভ আসায় তাদের নিয়োগ প্রক্রিয়া আটকে যায় এবং এর পর থেকে তারা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। এবং তাদের পক্ষে তারা জুলাই বিপ্লবের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা থাকার প্রমাণও দেখাচ্ছেন একইসঙ্গে তারা মাদকাসক্ত নয় বলেও দাবি করছেন। 

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন গণমাধ্যমে জানান, ‘স্ক্রিনশটটি কীভাবে তার ফেসবুক আইডিতে আপলোড হয়েছে তিনি জানেন না। তিনি ওই সময় একটি বেসরকারি হাসপাতালের অস্ত্রোপচারকক্ষে ছিলেন। তাঁর হাতের অস্ত্রোপচার হয়েছে। এ কারণে ফোন তার হাতে ছিল না।’

নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে সমালোচনার বিষয়ে তিনি জানান, ‘ওই প্রার্থীর ডোপ টেস্টের ফলাফল পজিটিভ এসেছে। তাই তার পক্ষে অনেক শিক্ষার্থী আমাকে হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ দিয়ে ওই প্রার্থী যে জুলাই আন্দোলনের পক্ষে ছিলেন, সেটি জানিয়েছেন। হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো সবকিছুই স্বয়ংক্রিয়ভাবে মোবাইলে ডাউনলোড হয়। সেখান থেকেই আপলোড হয়েছে। নিয়োগে প্রভাব বিস্তারের কোনো সুযোগ নেই।’

ইত্তেফাক/এমএএস