মৌলভীবাজার সদর উপজেলার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মৌলভীবাজার-কাগাবলা এবং মৌলভীবাজার-শমশেরগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল সড়কের বেহাল দশার কারণে তিনটি ইউনিয়ন ও আশপাশের আরও চারটি ইউনিয়নের হাজারো মানুষ চরম ভোগান্তির মধ্যে রয়েছেন। এই রাস্তাগুলো দিয়ে প্রতিদিন সদর, শ্রীমঙ্গল ও নবীগঞ্জ উপজেলার মানুষ মৌলভীবাজার শহরের সঙ্গে যাতায়াত করে থাকেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে রাস্তাগুলোর সংস্কার না হওয়া এবং নিয়মিত ভারী যানবাহন চলাচলের ফলে বিভিন্ন অংশ ভেঙে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এতে যান চলাচলে ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছে, বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি।
জানা গেছে, জেলা সদর থেকে কাগাবলা ও শমশেরগঞ্জ বাজার পর্যন্ত সড়কের দৈর্ঘ্য প্রায় ১৬ কিলোমিটার। এই রাস্তাগুলোর বিভিন্ন অংশ দীঘিরপাড়, অলহা, সূর্যপাশা, আথানগিরি ও ধনদাশ এখন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। আমতৈল, কাগাবলা ও নাজিরাবাদ ইউনিয়নের একাংশ ছাড়াও শ্রীমঙ্গলের মির্জাপুর ও ভুনবী ইউনিয়ন এবং নবীগঞ্জের গজনাইপুর ও পানিউমদা ইউনিয়নের মানুষ মৌলভীবাজার শহরে যাতায়াতের জন্য এই রাস্তাগুলো ব্যবহার করেন।
দীঘিরপাড় বাজারের পল্লি চিকিৎসক জগদীশ চন্দ্র দে বলেন, গত এক বছর ধরে রাস্তাগুলোর এই বেহাল অবস্থা চলছে। বিশেষ করে, গুরুতর রোগী নিয়ে আসা-নেওয়ার সময় সমস্যাটা আরও প্রকট হয়ে ওঠে। ডেলিভারি রোগী হলে দুর্ভোগ সীমাহীন হয়।
একই কথা বলেন টেম্পু চালক মিলন মিয়া। তিনি বলেন, যেখানে আধা ঘণ্টায় মৌলভীবাজার পৌঁছানো যেত, এখন রাস্তার খারাপ অবস্থার কারণে তা এক ঘণ্টা বা তার চেয়েও বেশি সময় লাগে। প্রতিদিনই গাড়ির কোনো না কোনো যন্ত্রাংশ নষ্ট হচ্ছে।
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র জীবন দে পলাশ বলেন, রাতদিন ভারী ট্রাক, ইটবাহী গাড়ি এবং ফিডবাহী কাভার্ডভ্যান চলাচলের ফলে রাস্তার এই অবস্থা হয়েছে। এলজিইডিকে দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নিতে হবে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) মৌলভীবাজার সদর উপজেলার প্রকৌশলী শাহেদ হোসাইন জানান, গত জুলাই মাসে সড়ক দুটি সরেজমিন পরিদর্শন করে জরুরি সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা নিরূপণ করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত একটি প্রকল্প ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত সংস্কার কার্যক্রম শুরু করা হবে।
