আগামী সেপ্টেম্বর ফিফার উইনডোতে বাংলাদেশ ফুটবল দল দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে। ৬ এবং ৯ সেপ্টেম্বর কাঠমান্ডুতে নেপালের বিপক্ষে বাংলাদেশের ম্যাচ দুটি অনুষ্ঠিত হবে। আর এই ম্যাচগুলোকে সামনে রেখে এরই মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের ক্যাম্প শুরু হয়েছে। কিন্তু বসুন্ধরা কিংস তাদের খেলোয়াড়দের ক্যাম্পে পাঠাতে রাজি না। তারা হয়তো ম্যাচের আগে খেলোয়াড়দের ছাড়বে, তবে সেটিও এখনো নিশ্চিত না, কেননা শুক্রবার তাদের বাফুফেতে পাঠানো চিঠিতেও উল্লেখ করেনি সেটি।
বসুন্ধরা কিংসের ফুটবলার জাতীয় দলে খেলা বিশ্বনাথ ঘোষ ইনজুরিতে পড়েছেন অনেক আগে। যার জন্য বসুন্ধরা কিংস দায়ী করছে বাফুফেকে। সরাসরি দায়ী না করা হলেও বসুন্ধরা কিংস তাদের চিঠিতে উল্লেখ করেছে, ফুটবল মৌসুম শেষ হওয়ার পর খেলোয়াড়রা দীর্ঘদিন অনুশীলনের বাইরে থাকেন।
দীর্ঘদিন প্রস্তুতির বাইরে থাকলে প্রাক-মৌসুমের প্রস্তুতি না থাকলে খেলোয়াড়দের মধ্যে ইনজুরি পড়তে পারেন, এমন সম্ভাবনা থাকে। উদাহরণ হিসেবে বলা হয়েছে বিশ্বনাথ ঘোষের কথা। কিংসের এই ফুটবলার ইনজুরির কারণে গত মৌসুমে মাঠে নামতে পারেননি। যে কারণে দলের অনেক ক্ষতি হয়েছে। ইনজুরি কমিয়ে আনতে কিংস তার ফুটবলারদের জাতীয় দলের ক্যাম্পে পাঠাতে পারছে না বলে দুঃখ প্রকাশ করেছে।
যদিও বসুন্ধরা কিংসের সাধারণ সম্পাদক বিদ্যুৎ কুমার ভৌমিক জানিয়েছিলেন, তিনি এ ধরনের কোনো চিঠির কথা জানেন না। স্বাক্ষরও করেননি। কিন্তু বাফুফেতে বিদ্যুৎ কুমারের স্বাক্ষর করা চিঠিতে খেলোয়াড় না ছাড়া এবং বিশ্বনাথের ইনজুরির কথা বলা হয়েছে। এ কারণে তারা খেলোয়াড় পাঠাবে না বলে এমন একটি চিঠি পেয়ে আপত্তি করছে বাফুফে।
এদিকে বাফুফের পক্ষ থেকে বিশ্বনাথের চোটের বিষয়ে দ্বিমত করছে। বাফুফের নীতিনির্ধারণী কর্মকর্তাদের দাবি বিশ্বনাথ ঘোষ চোট পেয়েছিলেন তার ক্লাবের খেলায়। বাফুফে বিশ্বনাথের বিষয়টি খতিয়ে দেখেছে। খোঁজ-খবর নিয়েছে, বিশ্বনাথ কবে, কোথায়, কখন চোট পেয়েছিলেন। এসব নিয়ে তখন বিশ্বনাথের সঙ্গে বসুন্ধরা কিংসের কর্মকর্তাদের কী কথা হয়েছিল, সেসব জেনে নিশ্চিত হয়েছে বিশ্বনাথের চোটের বিষয়টির সঙ্গে জাতীয় দলের সম্পর্ক নেই।
বিশ্বনাথ খেলতে না পারলে পারিশ্রমিক পাবেন কিনা, সেটা নিয়ে শঙ্কায় ছিলেন তিনি। একটা সময় ব্যাপারটা আড়াল করার চেষ্টা করেও বিশ্বনাথ তার চোট ঢেকে রাখতে পারেননি বলে বাফুফের কাছে খবর আছে। সেই বিষয়টি এখন গুরুত্ব দিয়ে জাতীয় দলে খেলোয়াড় না ছাড়তে চাওয়ার চিঠি পেয়ে বিব্রত বাফুফে।
জাতীয় দলের জার্সি গায়ে ফিফার খেলায় চোট পেলে চিকিৎসার জন্য অর্থ পাওয়া যায়। বাফুফেও চোট পাওয়া খেলোয়াড়কে সহযোগিতা করে। কিন্তু বিশ্বনাথ বাফুফের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন কিনা, সেটা নিয়ে একটা প্রশ্ন উঠছে। বাফুফের কথা হচ্ছে একজন ফুটবলার যে কোনো মুহূর্তে চোট পেতে পারেন। দেশের প্রয়োজনে ক্লাব তার খেলোয়াড়কে জাতীয় দলের জন্য ছেড়ে দেয়। খেলোয়াড় না ছাড়ার বিষয়ে কিংসের অবস্থানের কারণে জাতীয় দলের প্রস্তুতিটাও সঠিকভাবে করা কঠিন হয়ে যাচ্ছে বলে বাফুফে জানিয়েছে। ৭২ ঘণ্টা আগে খেলোয়াড় ছাড়া হলে কোচ তার পরিকল্পনা কীভাবে করবে।
নেপালের বিপক্ষে ম্যাচে কিংসের খেলোয়াড় না পেলে স্কোয়াডের বাহিরে থাকা যে কোনো ফুটবলার দিয়ে খেলিয়ে দেওয়া যায়। কিন্তু বাফুফে ভাবছে এশিয়ান কাপে হংকংয়ের বিপক্ষের ম্যাচ নিয়ে। ঐ ম্যাচ টার্গেট করে জাতীয় দলের স্প্যানিশ কোচ হ্যাভিয়ের কাবরেরা তার পরিকল্পনা করতে পারছেন না। এখন একজন দিয়ে নেপালের বিপক্ষে খেলানো হলো, তবে যখন হংকংয়ের বিপক্ষে ম্যাচ তখন তপু, তারিক কাজীরা চলে আসবেন-এভাবে জাতীয় দল নিয়ে পরিকল্পনা করা যায় না। কোচ সঠিকভাবে কাজ করতে পারেন না। বসুন্ধরা কিংস সহযোগিতা করলে এ ধরনের বিব্রতকর পরিস্থিতি এড়ানো যায় এবং দেশের ফুটবলের স্বার্থে কাজ করতে সুবিধা হয়। কিন্তু বসুন্ধরা কিংস যেভাবে চিঠি পাঠিয়েছে, তাতে ফেডারেশন মনে করছে কিংস-বাফুফে মুখোমুখি হয়ে যাচ্ছে।
ন্যাশনাল টিমস কমিটির ডেপুটি চেয়ারম্যান ইমরুল হাসান। তিনি ক্লাব লিগের কমিটির চেয়ারম্যান। বাফুফের সিনিয়র সহ-সভাপতি। তার ক্লাব থেকে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে বাংলাদেশের ফুটবল উন্নয়নে বসুন্ধরা কিংস সব সময় বাফুফের সঙ্গে আছে এবং থাকবে। কিন্তু কাজকর্মে সেটি দৃশ্যমান মনে হচ্ছে না বাফুফের কাছে।
