বসুন্ধরা কিংসের আচরণে বিব্রত বাফুফে

আপডেট : ১৮ আগস্ট ২০২৫, ১৬:২০

জাতীয় দলের জন্য কোনো ক্লাব তার ফুটবলার ছাড়ছে না বলে সেই ইস্যুতে বাফুফে জরুরি সভায় বসে যাবে-দেশের ফুটবলে এমনটা হয়নি আগে। কিন্তু এবার তার ব্যতিক্রম ঘটলো। আগামী মাসে, ৬ ও ৯ সেপ্টেম্বর নেপালের বিপক্ষে বাংলাদেশের ফুটবল ম্যাচ। ফিফা প্রীতি ম্যাচ। জাতীয় দলের অনুশীলনও শুরু হয়েছে। অন্যান্য ক্লাবের ফুটবলাররাও যোগ দিয়েছেন ক্যাম্পে। শুধু বসুন্ধরা কিংসের ফুটবলাররা ক্যাম্পে যোগ দেননি। 

কিংস কর্তৃপক্ষ চিঠি দিয়ে জানিয়ে দিয়েছে তারা খেলোয়াড় ছাড়তে পারবে না। ইনজুরি হওয়ার আশঙ্কা করছে ক্লাবটি। আগেও নাকি এরকম হয়েছে। এক জন ফুটবলার ইনজুরির কারণে সে পুরো সিজন মাঠের বাইরে কাটিয়েছে। এসব কারণে এবার তারা খেলোয়াড় না ছাড়ার ব্যাপারে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছে। আর এই চিঠিতে দুঃখ পেয়েছে বাফুফে। দেশের ফুটবলের স্বার্থটাকে গুরুত্ব দিচ্ছে না বলে মনে করছে বাফুফে।

গতকাল বাফুফের সভাপতি তাবিথ আউয়াল সভায় বসে ছিলেন, সেখান থেকে মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান আমিরুল ইসলাম বাবু জানালেন সভায় কী আলোচনা হয়েছে। কেন জাতীয় দলে খেলোয়াড় দিচ্ছে না, বাফুফে বিষয়টি নিয়ে কথা বলার জন্য ফোন দিয়েছিল বসুন্ধরা কিংসের কর্মকর্তাদের। কিন্তু তারা নাকি কেউ ফোন ধরেননি। ক্লাবের চিঠিতে স্বাক্ষর ছিল দিপক কুমার ভৌমিকের, তিনি ফোন ধরেননি। ম্যানেজার ওয়াসিমুজ্জামানও ফোন ধরেননি। 

ন্যাশনাল টিমস কমিটির ডেপুটি চেয়ারম্যান এবং বাফুফের সিনিয়র সহ-সভাপতি ইমরুল হাসান। তিনি সভায় যোগ দেননি। অন্য লাইনে সভায় যোগ দেওয়ার জন্য বাফুফে থেকে সব ভাবে চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু ইমরুল হাসানকে পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, 'আমি নিজে ইমরুল ভাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছি পাইনি। ইমরুল ভাইকে ভার্চুয়াললি সভায় যোগ দেওয়ার ব্যাপারে সবকিছু করা হয়েছে। কিন্তু তিনি যোগ দেননি। তাদের ফোনে রিং হওয়া সত্ত্বেও তারা ফোন রিসিভ করেননি। আমরা কেউ তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারিনি। যার কারণে জরুরি সভা হয়েছে।'

সভায় না আসা প্রসঙ্গে বাবু বলেন, 'হয়তো ইমরুল ভাই বিদেশে আছেন, উনার কাজ আছে আসেননি। তবে এটাও ঠিক উনি (ইমরুল হাসান) বাফুফের দ্বিতীয় ব্যক্তি। উনি-ই তো আমাদের এসব নিয়ে চিন্তা করবেন।'

বাফুফে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা বসুন্ধরা কিংসের কাছে আজই চিঠি পাঠাবে। আবারও খেলোয়াড় চেয়ে চিঠি দেবে। প্রশ্ন উঠছে ফোন ধরছে না, বসুন্ধরা কিংস চিঠি গ্রহণ করবে কি না। আর চিঠি পেয়েও যদি খেলোয়াড় না ছাড়া হয় তাহলে কী করবে বাফুফে। আমিরুল ইসলাম বাবু জানিয়েছেন বসুন্ধরা কিংসের চিঠির উত্তর পাওয়ার পর তারা পুনরায় সভায় বসবেন। বাবুর প্রশ্ন আপনারা (বসুন্ধরা কিংস) বাংলাদেশের ফুটবলের স্বার্থে খেলোয়াড় ছাড়বেন না? আপনাকে (বসুন্ধরা কিংস) তো ক্ষতি করে আমরা কিছু করতেছি না। এমনকি কোনো খেলোয়াড় যদি ব্যথা পায়, ধরুন মাসুক মিয়া জনি ব্যথা পেয়েছিল। ফিফার কাছ থেকে ১৮ লাখ টাকা বাফুফে ব্যবস্থা করে দিয়েছিল।'

কোচ হ্যাভিয়ের কাবরেরার ক্যাম্পে বসুন্ধরা কিংসের ফুটবলার ১০ জন। তারা যদি কেউ না আসেন তখন বিকল্প ভাবনা কী? বাফুফে জানিয়েছে আমরা বিশ্বাস করি তারা আসবেন। বাবু জানিয়েছেন, ৭২ ঘণ্টা আগে জাতীয় দলের জন্য খেলোয়াড় ছাড়ার যে নিয়মটির কথা বলা হচ্ছে সেটি সঠিক নয়। বাবু বলেন, 'আমরা ফিফার কাগজপত্র ঘেটে দেখেছি। ৭২ ঘণ্টার কথাটা সঠিক না। এটা আরও বেশি। কিন্তু সেটি প্রকাশ করতে চাইছি না।' ইনজুরির কারণ দেখিয়ে বসুন্ধরা কিংস জাতীয় দলের জন্য খেলোয়াড় দিচ্ছে না, অনূর্ধ্ব-২৩ দলের জন্য বসুন্ধরা তারা ৪ জন ফুটবলার পাঠিয়েছে ক্যাম্পে। কিংসের ফুটবলার আসুক না আসুক ফুটবল ক্যাম্প চলবে। ১২ জন ফুটবলার নিয়ে অনুশীলন চলবে এবং নেপালেও খেলতে যাবে বলে জানিয়েছেন বাফুফের মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান।

বাফুফে মনে করে জাতীয় দলে খেলোয়াড় পাঠানো নিয়ে বসুন্ধরা কিংসের তালবাহানা নতুন কিছু নয়। এর আগে কবে কখন এ ধরনের আচরণ করা হয়েছিল, তারও একটা ফিরিস্তি পকেট থেকে বের করে সভা পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরেছেন আমিরুল ইসলাম বাবু।

২০১৯ সালে এস এ গেমস, ২০২০ সালে নেপালের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ, ২০২১ সালে তৃতীয় দেশীয় প্রীতি টুর্নামেন্ট, ২০২৩ সালে এশিয়ান গেমস, সাফ অনূর্ধ্ব-২০ এবং এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবল ক্যাম্পের সময় অনুশীলন ক্যাম্পে খেলোয়াড় পাঠাতে নানা তালবাহানা করেছে বলে জানানো হয়।

ইত্তেফাক/জেডএইচ