রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘পোষ্য কোটা’ ইস্যুতে শিক্ষক-কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীদের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি

আপডেট : ১৯ আগস্ট ২০২৫, ১৬:৫৬

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ভর্তি পরীক্ষায় ‘পোষ্য কোটা’ নিয়ে শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) উভয় পক্ষই পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি পালন করেছেন।

সকাল ৯টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পূর্ণদিবস কর্মবিরতি পালন করেন। এর আগে টানা তিন দিন তারা অর্ধদিবস কর্মবিরতি পালন করেন। কর্মসূচির অংশ হিসেবে পরীক্ষা ও জরুরি সেবা ছাড়া অধিকাংশ বিভাগ ও দপ্তরের কার্যক্রম বন্ধ ছিল। দাবি আদায় না হলে ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধের হুঁশিয়ারি দেন আন্দোলনকারীরা।

অন্যদিকে দুপুর ১২টার দিকে শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। প্রায় এক ঘণ্টা চলা এ কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা বলেন, পোষ্য কোটা অন্যায্য এবং বৈষম্যমূলক। এটি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হলে তারা প্রতিহত করবেন।

এ সময় উর্দু বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের দাবিতে কোনো অস্পষ্টতা নেই। আমরা কোটার জন্য আন্দোলন করছি না। বিশ্ববিদ্যালয়ে পোষ্য কোটা শেষ হয়ে গেছে। আমরা প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধার দাবিতে দাঁড়িয়েছি।’

অফিসার সমিতির সভাপতি মোক্তার হোসেনও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে বলেন, ‘আমাদের আন্দোলন আরও কঠিন হবে। দাবি পূরণ না হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হবে।’

অন্যদিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক ফজলে রাব্বি মো. ফাহিম রেজা বলেন, ‘শিক্ষক-কর্মকর্তারা পোষ্য কোটাকে প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা বলছেন। যে নামেই এটিকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হোক না কেন, তা হতে দেওয়া হবে না। ইতিমধ্যে এটি বাতিল হয়েছে। এখন সেটিকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয় অচল করার ঘোষণা আসলে ষড়যন্ত্র ছাড়া কিছু নয়।’

দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী আশিকুল্লাহ মুহিব অভিযোগ করে বলেন, ‘শিক্ষক-কর্মকর্তারা অন্যায্য সুবিধা নিতে নিতে সেটিকে অধিকার বানিয়ে ফেলেছেন। সাধারণ শিক্ষার্থীরা ৬৭–৬৮ নম্বর পেয়েও চান্স পান না, অথচ তাদের সন্তানেরা ৩১ নম্বর পেয়েও ভর্তি হয়। এটা সুস্পষ্টভাবে অন্যায্য।’

ইত্তেফাক/এএম