দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরে গত সাত দিন ধরে শুল্ক জটিলতায় আটকে থাকা ভারতীয় চালের চালান অবশেষে খালাস কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) রাত সাড়ে এগারোটায় দুই শতাংশ শুল্ক পরিশোধ করে আমদানিকারকরা কাস্টমস থেকে আমদানি করা ভারতীয় চাল খালাস করে নিচ্ছেন। ফলে ভারত থেকে চাল আমদানিতে শুল্ক নিয়ে আর কোন বাধা থাকলো না।
এদিকে বন্দরের আমদানিকারকরা জানিয়েছেন, আমদানি করা ভারতীয় চাল বাজারে আসলে দাম কমে আসবে।
হিলি স্থলবন্দরের উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের তথ্য মতে, প্রায় চার মাস বন্ধ থাকার পর গত ১২ আগস্ট থেকে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে চাল আমদানি শুরু হয়।
বন্দরের আমদানিকারক ললিত কেশরা জানান, দেশে চালের দাম স্বাভাবিক রাখতে সরকার চাল আমদানিতে অনুমতি দেয়। তাই আমরা গত ১২ আগস্ট থেকে ভারত থেকে চাল আমদানি শুরু করি। আমদানি করার পর কাস্টমসে চাল খালাস কার্যক্রম শুরু করতে গেলে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ জানায় ৬৩ দশমিক ৫০ শতাংশ শুল্ক দিয়ে চাল খালাস করে নিতে হবে। বেশি শুল্কের কারণে আমরা চাল খালাস কার্যক্রম বন্ধ রাখি। এ অবস্থায় গত সাত দিন ধরে পানামা হিলি বন্দরে ভারতীয় চাল বোঝাই ট্রাকগুলো আটকে থাকে। গতকাল জাতীয় রাজস্ব বোর্ড থেকে চাল আমদানির উপর ২ শতাংশ শুল্ক কর ধার্য করায় আমরা চাল খালাস কার্যক্রম শুরু করেছি।
তিনি আরও জানান, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১ টার দিকে ২ শতাংশ শুল্ক পরিশোধ করে চাল খালাস করে নেওয়া হয়েছে। ফলে চাল আমদানিতে শুল্ক নিয়ে আর কোনো বাঁধা থাকছে না।
হিলি স্থলবন্দরের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট এনামুল হক খান জানান, বুধবার থেকে পুরোদমে ভারত থেকে আমদানি করা চাল খালাস শুরু হবে। দুই একদিনের মধ্যেই বাজারে ভারতীয় চাল সরবরাহ হলে কমে আসবে।
হিলি স্থল শুল্ক স্টেশনের রাজস্ব কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন বলেন, মঙ্গলবার রাত থেকে আমদানিকারকরা ২ শতাংশ শুল্ক দিয়ে চাল খালাস করে নিচ্ছেন। আর কোনো বাধা নেই। বাজার স্থিতিশীল রাখতে দ্রুত চাল ছাড়করণ করা হচ্ছে।
জানা গেছে, বিগত প্রায় চার মাস বন্ধ থাকার পর গত ১২ আগস্ট থেকে চাল আমদানি শুরু হলেও শুল্ক জটিলতার কারণে হিলি স্থলবন্দরে ৬৪টি ট্রাকে থাকা ২ হাজার ৮১৪ টন চাল আটকে ছিল। অবশেষে শুল্ক জট কেটে যাওয়ায় চাল খালাস শুরু হয়েছে।

