রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অচল ‘গরিবের অ্যাম্বুলেন্স’

আপডেট : ২২ আগস্ট ২০২৫, ১৩:৫২

নাটোরের বাগাতিপাড়ায় দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য চালু হওয়া এক সময়ের বহুল আলোচিত স্বাস্থ্যসেবা প্রকল্প ‘গরিবের অ্যাম্বুলেন্স’ এখন সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়েছে। সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিকল্পনার অভাবে ব্যাটারি ও ইঞ্জিন বিকল হয়ে যানবাহনগুলোতে মরিচা ধরেছে। ফলে উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের তৃণমূল পর্যায়ের মানুষ জরুরি স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

২০১৮-১৯ অর্থবছরে স্থানীয় সরকারের উদ্যোগে এবং জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা)-এর অর্থায়নে ‘গরিবের অ্যাম্বুলেন্স’ প্রকল্পটি চালু করা হয়। উপজেলার পাঁকা, জামনগর, বাগাতিপাড়া, ফৌয়াড়দিয়াড় ও দয়ারামপুর ইউনিয়নে পাঁচটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাকে রোগী পরিবহনের উপযোগী করে ব্যবহার উপযোগী করা হয়। প্রতিটি গাড়ির জন্য ব্যয় হয় ১ লাখ ৮৮ হাজার ৭৬৪ টাকা করে, মোট ব্যয় দাঁড়ায় ৯ লাখ ৪৩ হাজার ৮২০ টাকা।

প্রকল্পের শুরুতে ২৪ ঘণ্টা স্বাস্থ্যসেবা চালু থাকায় সুবিধাভোগীরা স্বস্তি পেলেও মাত্র দুই বছরের মাথায় যানবাহনগুলোর ব্যাটারি ও যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে একে একে অচল হয়ে পড়ে। বর্তমানে এগুলো বিভিন্ন স্থানে পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে।

জামনগর ইউনিয়নের ভিগরভাগ গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ আলী বলেন, গরিবের অ্যাম্বুলেন্স থাকায় আগে দিনে-রাতে সহজে হাসপাতালে পৌঁছানো যেত। এখন সেগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় একটি অ্যাম্বুলেন্স দিয়ে পুরো উপজেলা কাভার করা সম্ভব নয়। ব্যক্তিগত গাড়িও সব সময় পাওয়া যায় না, আবার ভাড়া অনেক বেশি, এতে ভোগান্তি বেড়েছে।

পাঁকা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হেলাল উদ্দিন জানান, প্রথম দিকে কিছুটা সাড়া পাওয়া গেলেও পরে এটি কার্যকর ছিল না। প্রকল্প পরিচালনার জন্য কোনো সুনির্দিষ্ট গাইডলাইন বা দায়িত্ব নির্ধারণ না থাকায় তা কার্যকরভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হয়নি।

বাগাতিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মারুফ আফজাল রাজন বলেন, আমি এ প্রকল্প সম্পর্কে অবগত নই। তবে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইত্তেফাক/এএইচপি