বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার ট্রলার ডুবে নিখোঁজ ৫, উদ্ধার ১৫

আপডেট : ২২ আগস্ট ২০২৫, ১৬:২০

বঙ্গোপসাগরের পটুয়াখালীর কুয়াকাটা উপকূলসংলগ্ন এলাকায় মাছ ধরার ট্রলার এফবি মায়ের দোয়া ডুবে যাওয়ার ঘটনায় এখনো ৫ জেলে নিখোঁজ রয়েছেন। তিন দিনের উদ্ধার অভিযানে ১৫ জেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে, যাদের মধ্যে কয়েকজন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

ট্রলারটি গত সোমবার (১৭ আগস্ট) ভোররাতে শেষ বয়া থেকে প্রায় ৯০ কিলোমিটার গভীর সমুদ্রে ডুবে যায়। উদ্ধারপ্রাপ্ত জেলেদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রচণ্ড সাগর উত্তাল থাকায় ট্রলারটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ডুবে যায়।

উদ্ধার হওয়া জেলেরা জানান, চট্টগ্রামের বাঁশখালী থেকে গত শনিবার তারা মাছ ধরতে রওনা হন। ট্রলার ডুবে যাওয়ার পর প্লাস্টিকের ড্রাম ও কাঠের অংশ আঁকড়ে ধরে টানা দুই দিন সাগরে ভেসে ছিলেন তারা। পরে আশপাশের দুটি মাছ ধরার ট্রলার ও পায়রা বন্দরের নিকটবর্তী একটি ট্রলার তাদের উদ্ধার করে।

উদ্ধারকৃত জেলেরা: তৌহিদ ইসলাম (১৮), মো. মোরশেদ (২০), মো. হেলাল (২২), সাজ্জাদ (২২), শেখ অপু (২২), মো. নুরুল হাসান (২৫), আলী (২৬), আনসার (২৭), ফয়সাল (২৮), আনিস (২৮), বাদশা মাঝি (৩২), আবুল কাশেম (৪০), কবির (৪৫), নুরুল আলম (৬০) ও সোহাগ (২০)।

নিখোঁজ জেলেরা: আবু তাহের (৫৫), কামাল (৩৫), রিয়াজ উদ্দিন (২২), তমিজ (১৮) ও শাহাবুদ্দিন (৪৫) — এরা সবাই চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার বাসিন্দা।

উদ্ধার হওয়া হেলাল ও নুরুল আলম বলেন, আমরা আবহাওয়ার অবস্থা খারাপ দেখে উপকূলে ফিরে আসার পরামর্শ দিয়েছিলাম, কিন্তু তা শোনেনি মাঝিরা। এর ফলেই এই ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উদ্ধারপ্রাপ্ত জেলেদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসক ডা. শংকর প্রসাদ অধিকারী জানান, তাদের শরীরে পানিশূন্যতা ও শারীরিক দুর্বলতা দেখা দিলেও সবাই বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত।

কুয়াকাটা নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ বিকাশ মন্ডল জানান, নিখোঁজদের সন্ধানে কোস্টগার্ডকে জানানো হয়েছে এবং উদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

ইত্তেফাক/এএইচপি