মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নিকটতম সহযোগীদের একজন সার্জিও গোরকে ভারতে পরবর্তী মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসেবে পাঠাবেন। ওয়াশিংটন শুল্ক দ্বিগুণ করার ফলে নয়াদিল্লির সঙ্গে আরও খারাপ হওয়া হিমশীতল সম্পর্কের তদারকি করবেন তিনি।
শুক্রবার (২৩ আগস্ট) ট্রাম্প বলেন, বর্তমানে হোয়াইট হাউসের প্রেসিডেন্সিয়াল পার্সোনেল অফিসের পরিচালক সার্জিও গোর দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক বিশেষ দূত হিসেবেও দায়িত্ব পালন করবেন।
নিজের ট্রুথ সোশ্যালে একটি পোস্টে ট্রাম্প বলেছেন, মার্কিন সিনেটে এটি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত গোর আপাতত তার বর্তমান পদে বহাল থাকবেন।
ট্রাম্প বলেন গোরের কাজের প্রশংসা করে বলেন, সার্জিও আমার একজন ভালো বন্ধু। বহু বছর ধরে আমার পাশে ছিলেন। তিনি আমার ঐতিহাসিক প্রচারণায় কাজ করেছেন, আমার সর্বাধিক বিক্রিত বই প্রকাশ করেছেন।
ট্রাম্প তার পোস্টে আরও লিখেছেন, 'বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল অঞ্চলের (ভারত) জন্য, এটা গুরুত্বপূর্ণ যে, আমার এমন একজন ব্যক্তি আছেন - যার ওপর আমি সম্পূর্ণরূপে নির্ভর করতে পারি। তিনি আমার এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে এবং আমেরিকাকে আবারও মহান করে তুলতে আমাদের সাহায্য করতে পারেন।'
রয়টার্সের প্রতিবেদনে অনুসারে, বাণিজ্যযুদ্ধের কারণে মার্কিন-ভারত সম্পর্কে টানাপোড়েন দেখা দিয়েছে। বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ ভারত তার বিশাল কৃষি ও দুগ্ধ খাত খোলার বিরোধিতা করার পর শুল্ক কমানোর আলোচনা ভেস্তে গেছে। দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য প্রতি বছর ১৯০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি।
এদিকে, এক্স-পোস্টে সার্জিও গোর তাকে মনোনয়নের জন্য ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, নতুন ভূমিকায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করা 'আমার জীবনের সম্মান' হবে।
ট্রাম্প প্রথমে ভারত থেকে আমদানির ওপর ২৫% শুল্ক আরোপ করেন। তারপর তিনি বলেন, রাশিয়ান তেল ক্রয়ের বর্ধিত শাস্তি হিসেবে ২৭ আগস্ট থেকে শুল্ক দ্বিগুণ করে ৫০% করা হবে। তবে রাশিয়ান তেলের আরেক বৃহত্তম ক্রেতা চীন থেকে আসা পণ্যের ওপর ট্রাম্প একই রকম শুল্ক আরোপ করেননি।
গত মঙ্গলবার মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট ইউক্রেন যুদ্ধের সময় রুশ তেল ক্রয় তীব্রভাবে বৃদ্ধি করায় ভারতকে 'মুনাফাখোর' বলে অভিযোগ করেন। বেসেন্ট সিএনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ভারতের মোট তেল ক্রয়ের ৪২ শতাংশই এখন রুশ তেলের অংশ, যা যুদ্ধের আগে মাত্র এক শতাংশেরও কম ছিল। অন্যদিকে রুশ তেলের বৃহত্তম ক্রেতা চীন ১৩% থেকে বাড়িয়ে ১৬% করেছে।
এরপর গতকাল শুক্রবার ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল বলেন, ভারত উভয় দেশের সম্পর্কের ফলস্বরূপ এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রকৃতির ওপর জোর দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভবিষ্যৎ বাণিজ্য সম্পর্ক 'খুব খোলা মনে' নিয়ে আলোচনা করছে।
প্রসঙ্গত, ২৫-২৯ আগস্ট নয়াদিল্লিতে মার্কিন বাণিজ্য আলোচকদের পরিকল্পিত সফর আকস্মিকভাবে বাতিল হয়ে যায়। এর পরপরই নতুন রাষ্ট্রদূত মনোনীত করেছেন ট্রাম্প।
