তিন দফা দাবি আদায় ও ডিপ্লোমা সিন্ডিকেটের অব্যাহত ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে ক্লাস পরীক্ষা বর্জন করে শাহাজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) বিক্ষোভ সমাবেশ করছে প্রকৌশলী অধিকার আন্দোলনের ব্যানারে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থীরা। কয়েকটি বিভাগ পূর্ণদিবস ও কয়েকটি বিভাগ অর্ধদিবস ক্লাস পরীক্ষা বর্জন করেছে বলে জানা যায়। দ্রুত তিনদফা মেনে না নিলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
রোববার (২৪ আগস্ট) দুপুর দেড়টায় কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার ভবনের সামনে একটি মানববন্ধন করে একটি বিক্ষোভ বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক হয়ে সিলেট-সুনামগঞ্জ মহাসড়কে গিয়ে ‘প্রতীকী ব্লকেড’ হিসেবে ১০মিনিটের সড়ক অবরোধ করে রাখেন।
বিক্ষোভ চলাকালে শিক্ষার্থীরা ‘চব্বিশ এর বাংলায়, বৈষম্যের ঠাঁই নাই’, ‘সাস্টিয়ান সাস্টিয়ান, এক হও, এক হও’, ‘বৈষম্যের কালো হাত, ভেঙে দাও, গুঁড়িয়ে দাও’, ‘অ্যাকশন টু অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, ‘বৈষম্যের বিরুদ্ধে ডাইরেক্ট অ্যাকশন, ‘কোটা না মেধা, মেধা মেধা’, ‘সবার মুখে এক বয়ান, ডিপ্লোমারা টেকনিশিয়ান’ ইত্যাদি স্লোগান দেন।
মানববন্ধনে ইলেকট্রিক এন্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী তানভীর রহমান বলেন, এই ডিপ্লোমাধারীরা এইচএসসি সমমান পাশ করে নিজেদেরকে ইঞ্জিনিয়ার দাবি করছে। তারা কোন ইঞ্জিনিয়ার নয়। তারা টেকনেশিয়ান। ওরা ১৯৭৮ সালে মব সৃষ্টি করে এই অযৌক্তিকভাবে এটি আদায় করেছিল। বিএসসি পাশ ছাড়া কেউ ইঞ্জিনিয়ার নামের পাশে ব্যবহার করতে পারবে না। এই ডিপ্লোমাধারীরা আগে রাস্তায় মব সৃষ্টি করতো। এখন তারা বিভিন্ন অফিস আদালতে অফিসারদের জিম্মি করে দাবি আদায় করছে।
তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশে নবম গ্রেডে জব পাইতে গেলে একজনকে কমপক্ষে অনার্স পাশ করতে হয়। কিন্তু এই ডিপ্লোমাধারীরা এইচএসসি সমমান পাশ করে নবম গ্রেডে চলে যাচ্ছে। পরবর্তীতে বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তারা আপগ্রেডেশন করে আরো উপরের গ্রেডে চলে যাচ্ছে। এটা আমাদের বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারদের সাথে এক প্রকার প্রহসন। আমরা কখনই এটি মেনে নিতে পারি না।
এসময় আরো বক্তব্য রাখেন প্রকৌশলী অধিকার আন্দোলন শাবিপ্রবির আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল মাছুদ ও ইন্ডাসট্রিয়াল ও প্রডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী পলাশ বখতিয়ার।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের তিন দফা দাবি হলো:
১. ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ৯ম গ্রেড বা সহকারী প্রকৌশলী বা সমমানের পদে প্রবেশের জন্য সবাইকে নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে এবং ন্যূনতম বিএসসি ইন ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি থাকতে হবে। কোটার মাধ্যমে কোনো পদোন্নতি নয়, এমনকি অন্য কোনো নামে সমমানের পদ তৈরি করেও পদোন্নতি দেওয়া যাবে না।
২. টেকনিক্যাল ১০ম গ্রেড বা উপ-সহকারী প্রকৌশলী বা সমমানের পদের নিয়োগ পরীক্ষা ডিপ্লোমা এবং একই ডিসিপ্লিনে উচ্চতর যোগ্যতাসম্পন্ন বিএসসি ইন ইঞ্জিনিয়ারিং উভয় স্নাতকের জন্য উন্মুক্ত করতে হবে।
৩. বিএসসি ইন ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি ছাড়া প্রকৌশলী পদবি ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে অন্যান্য দেশের মতো যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নিতে হবে। নন-অ্যাক্রিডিটেড বিএসসি ইন ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সগুলোকে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে IEB-BATE অ্যাক্রিডিটেশনের আওতায় আনতে হবে।

