দুমকিতে বেওয়ারিশ কুকুরের আতঙ্কে শিক্ষার্থীরা, হাসপাতালে নেই ভ্যাকসিন

আপডেট : ২৬ আগস্ট ২০২৫, ১৮:০০

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশেপাশে বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রব চরম আকার ধারণ করেছে। এতে আতঙ্ক বাড়ছে স্কুল ও কলেজগামী শিক্ষার্থীদের মাঝে। আবার কুকুর কামড়ালে প্রতিষেধক ভ্যাকসিনও নেই দুমকি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।

সরেজমিনে জানা যায়, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা, পীরতলা বাজার, নতুন বাজার, পাগলার মোড়, বগা ফেরিঘাট, দুমকি হাসপাতাল রোড, বোর্ড অফিস বাজার, পাতাবুনিয়া বাজার, আংগারিয়া বাজার, সাতানী কালভার্ট বাজারসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশপাশে দলবেঁধে ঘোরাফেরা করছে বেওয়ারিশ কুকুর। সরকারি জনতা কলেজ, দুমকি টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট মহিলা কলেজ, একে মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়, এন কে মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, দেবীরচর সরকারি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয় ও দুমকি ফাজিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা প্রতিদিনই আতঙ্ক নিয়ে যাতায়াত করছে।

শিক্ষার্থী ইসরাত জাহান বলেন, প্রায়ই ১০-১২টি কুকুর একসঙ্গে হাঁটে। দেখলেই ভয় লাগে।

অভিভাবক হোসনেয়ারা রিমু বলেন, কয়েকদিন ধরে ছেলেকে স্কুলে পাঠাতে পারছি না। রাস্তায় এত কুকুরের আনাগোনা যে যেকোনো সময় কামড়াতে পারে। গত সপ্তাহে ছেলে ভয়ে অন্য বাড়িতে গিয়ে ফোন করার পরে নিয়ে আসতে হয়েছে। কুকুরের অনেক আতঙ্কে আছি।

শিক্ষক শহিদুল ইসলাম জানান, গত বছর পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় কর্মচারী স্কুলের শিক্ষার্থীদের ওপর কুকুরের আক্রমণের ঘটনা ঘটেছিল। তিনি আরও বলেন, এখনই পদক্ষেপ না নিলে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

অভিভাবক এবাদুল হক বলেন, সন্তানকে স্কুলে পাঠালেই টেনশনে থাকতে হয়। কুকুরে কামড়ালে ভ্যাকসিনও নেই। তখন বাধ্য হয়ে বরিশাল বা পটুয়াখালী যেতে হবে। এতে আর্থিক ও মানসিক ভোগান্তি বাড়ছে।

দুমকি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা মীর শহীদুল হাসান শাহীন জানান, বর্তমানে হাসপাতালে কুকুরে কামড়ানোর ভ্যাকসিন নেই। যা ছিল তা শেষ হয়ে গেছে। নতুন করে ভ্যাকসিন চাওয়া হয়েছে পেলেই রোগীদের সেবা দেওয়া হবে।

লুর্থান হেলথকেয়ার বাংলাদেশের কর্মরত ডা. অমিতাভ বলেন, এগুলো সরকারিভাবে দেওয়া হয় কিন্তু আমাদের হসপিটালে এখন নেই। 

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা জানান, বেওয়ারিশ কুকুর নিধনের বিষয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত নিয়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ইত্তেফাক/এসজেএস/এমএএস