দেশের প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের জন্য কম্বাইন্ড ডিগ্রি (বিএসসি ইন ভেটেরিনারি সায়েন্স অ্যান্ড এএইচ) চালু করা এখন সময়ের দাবি মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ভেটেরিনারি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. বাহানুর রহমান।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি টিচিং হাসপাতাল অনুষদের আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ড. বাহানুর রহমান বলেন, ‘বর্তমান বাস্তবতায় একজন ভেটেরিনারি গ্র্যাজুয়েটের ওয়ান-স্টপ সার্ভিস দেওয়ার সক্ষমতা থাকা জরুরি। সরকারি চাকরিতে প্রবেশ বা ডিএলএসে (ডিপার্টমেন্ট অব লাইভস্টক সার্ভিসেস) যোগ দিতে হলে এ ডিগ্রি প্রয়োজন। দেশের স্বার্থে, শিক্ষার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের স্বার্থেই আমরা কম্বাইন্ড ডিগ্রির পক্ষে।’
তিনি আরও জানান, দেশে ভেটেরিনারি গ্র্যাজুয়েটদের জন্য সরকারি-বেসরকারি খাতে কম্বাইন্ড ডিগ্রির সুস্পষ্ট চাহিদা রয়েছে।
বিদেশি শিক্ষার্থীদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভর্তিকৃতদের মধ্যে ৯৮ শতাংশ দেশীয় এবং ২ শতাংশ বিদেশি। দেশীয় শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান দায়িত্ব।
সংবাদ সম্মেলনে সাবেক ডিন অধ্যাপক ড. মো. মকবুল হোসেন বলেন, ‘১৯৬৩ সালে বাকৃবিতে ভেটেরিনারি ডিগ্রি ভেঙে ডিভিএম ও অ্যানিমেল হাজবেন্ড্রি করা হয়েছিল। কিন্তু ভারত ও পাকিস্তান পরে আবার একীভূত ডিগ্রিতে ফিরে যায়। বাংলাদেশেও দীর্ঘদিন ধরে একাধিক কমিটি কম্বাইন্ড ডিগ্রির সুপারিশ করেছে।’
অধ্যাপক ড. মো. মাহবুব আলম বলেন, মাঠ পর্যায়ে কর্মরত অ্যানিমেল হাজবেন্ড্রি গ্র্যাজুয়েটদের মধ্য থেকেও এই দাবি উঠেছে। তিনি বলেন, ‘দেশের প্রয়োজনেই এই ডিগ্রি চালু করতে হবে। এতে শিক্ষার্থীরা যেমন উপকৃত হবে, তেমনি প্রাণিসম্পদ খাতেও উন্নয়ন আসবে।’
ফিজিওলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহা. ইলিয়াছুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, বিদেশি কাউন্সিল কোনো ডিগ্রিকে স্বীকৃতি দেওয়ার সময় নাম নয়, বরং পাঠ্যক্রম বিবেচনা করে। ডিভিএম ডিগ্রিতে বর্তমানে কিছু ঘাটতি থাকায় ভবিষ্যতে স্বীকৃতি নিয়ে সমস্যা হতে পারে।
উল্লেখ্য, কম্বাইন্ড ডিগ্রি চালুর দাবিতে গত ২৭ জুলাই থেকে পশুপালন অনুষদের শিক্ষার্থীরা ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে আন্দোলন চালাচ্ছেন। ৩০ জুলাই থেকে অনুষদটিতে তালা ঝুলছে। একই দাবিতে গত ২৫ আগস্ট থেকে আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন ভেটেরিনারি অনুষদের শিক্ষার্থীরাও।

