সাতক্ষীরার তালা থেকে খুলনার পাইকগাছা হয়ে কয়রা পর্যন্ত প্রায় ৬০ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের কাজে চরম ধীরগতি দেখা দিয়েছে। ৫৩৫ কোটি টাকার এই প্রকল্পের কাজের সময় তিন দফা বাড়ানো হলেও এখনো অর্ধেক কাজ শেষ হয়নি। চলতি বছরের ডিসেম্বরে কাজ শেষ করার সময়সীমা থাকলেও তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে গভীর সংশয় দেখা দিয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, তালার ১৮ মাইল থেকে খুলনার কয়রা পর্যন্ত জনসাধারণের চলাচলের পথ ঝুঁকিমুক্ত করতে বিগত সরকারের সড়ক ও জনপথ বিভাগ বাঁক সোজা ও সড়ক প্রসস্ত করতে এ প্রকল্পটি দেয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মোজাহার এন্টারপ্রাইজ। বাঁক সোজা করার কাজ শেষ হলেও সড়ক প্রসস্ত করার কাজ হয়েছে মাত্র ৪০ ভাগ। অনেক এলাকায় ১০ ভাগ কাজও হয়নি। ফলে সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। শুকনো মৌসুমে ধুলাবালি ও বর্ষায় কাদা–পানিতে যানবাহন চলাচল কঠিন হয়ে পড়েছে।
স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, বারবার সময় বাড়ানো হলো ততবার ব্যয়ও বাড়ানো হলো কিন্তু কাজের গতি বাড়েনি। এখন তালা থেকে কয়রা যেতে চার ঘণ্টার বেশি সময় লাগছে, যেখানে আগে লাগত দেড় ঘণ্টা। এতে তেল খরচ বেড়েছে, পাশাপাশি যাত্রীদের ভাড়াও গুনতে হচ্ছে বেশি। স্কুল–কলেজগামী শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে রোগী পরিবহনে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে সবাইকে।
খুলনা সড়ক ও জনপথ (সওজ) দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালের জানুয়ারিতে একনেকে প্রকল্পটি অনুমোদন হয়। প্রথমে ৩৩৯ কোটি টাকার প্রকল্প পরে তিন দফায় সময় ও ব্যয় বাড়িয়ে দাঁড়ায় ৫৩৪ কোটি ৫৮ লাখ টাকায়। জমি অধিগ্রহণ জটিলতা ও মামলা–মোকদ্দমার কারণে দীর্ঘ সময় কাজ বন্ধ ছিল।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা বলেন, প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল ৩০টি ঝুকিপূর্ণ বাঁক সোজা করা। এতে ১১.২৪ হেক্টর জমি অধিগ্রহণে ৭১ কোটি ৮২ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। কিছু জমি জায়গা নিয়ে মামলা মকদ্দমার ঝামেলা পোহাতে যেয়ে অনেক সময় নষ্ট হয়েছে। আবার বেশ কিছু দিন কাজ বন্ধ ছিলো। গত নভেম্বর থেকে আবার পূর্ণ গতিতে কাজ শুরু হয়েছে।
মাইক্রো ড্রাইভার আক্তার হোসেন বলেন, ‘আগে তালা থেকে কয়রা যেতে দেড় ঘন্টা সময় লাগতো আর এখন রাস্তায় কাজ করার কারণে ৪ ঘন্টা সময় লাগে। তেল বেশি লাগছে। ভাড়াও বেশি দিতে হচ্ছে যাত্রীদের।’
ভ্যানে চলাচলকারি তালার ভায়ড়া গ্রামের বিপ্লব হোসেন বলেন, ‘এক রাস্তা সংস্কার করতে আর কত বছর লাগবে। ৩ বছর তো হয়ে গেলো। শুকনো কালে ধুলোবালি আর বৃষ্টিতে কাদা পানিতে নাকানি-চুবানি খেতে হচ্ছে। আমরা পড়েছি মহা বেকায়দার মধ্যে। কারো কিছু বলতেও পারছি না সইতেও পারছি না।’
তালা সদর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শেখ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘এই সড়কটি আমাদের দীর্ঘদিনের দাবি। কাজটি দ্রুত শেষ হলে সময় ও অর্থ সাশ্রয় হবে, মানুষের কষ্টও কমবে। তবে কাজে ধীরগতির অভিযোগ রয়েছে, আমি খোঁজ নিয়ে দেখছি।’
খুলনা সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী আনিসুজ্জামান মাসুদ বলেন, ‘চলতি ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। জমি অধিগ্রহণের কারণে সময় বাড়ানো হলেও এখন দ্রুত গতিতে কাজ চলছে।’
অন্যদিকে স্থানীয়রা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, কাজের বর্তমান গতিতে নির্ধারিত সময়ে প্রকল্প শেষ করা সম্ভব হবে না। ফলে তালা–কয়রা সড়কের ভোগান্তি আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে।
