ইরানের বিরুদ্ধে জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা পুনরায় আরোপের প্রক্রিয়া শুরু করেছে তিন ইউরোপীয় দেশ ফ্রান্স, জার্মানি এবং যুক্তরাজ্য। নিরাপত্তা পরিষদে পাঠানো এক যৌথ চিঠিতে দেশগুলো জানিয়েছে, অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে তারা তথাকথিত 'স্ন্যাপব্যাক প্রক্রিয়া' সক্রিয় করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তির আওতায় এসব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়েছিল। মূলত ইরানের সঙ্গে যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ফ্রান্স, রাশিয়া এবং চীনের মধ্যে একটি পারমাণবিক চুক্তি, যাকে জয়েন্ট কম্প্রিহেনসিভ প্ল্যান অফ অ্যাকশন (JCPOA) বলা হয়। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পূর্ববর্তী মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্র এটি থেকে বেরিয়ে যায়।
নিষেধাজ্ঞার আওতায় ইরানের আর্থিক, ব্যাংকিং, হাইড্রোকার্বন এবং প্রতিরক্ষা খাতকে লক্ষ্য করা হয়। তারা নতুন করে প্রক্রিয়াটি শুরু করতে ৩০ দিন সময় নেবে। অতএব ইউরোপীয় গোষ্ঠী ৩০ দিন আলোচনা বা চুক্তির কূটনৈতিক সমাধানের জন্য উন্মুক্ত।
চিঠিতে বলা হয়, ইরান স্পষ্ট ও ইচ্ছাকৃতভাবে ২০১৫ সালের চুক্তি ভঙ্গ করেছে। তাদের অভিযোগ, ইরান সামরিক পর্যায়ের কাছাকাছি মাত্রায় বিশুদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুদ করছে, যার কোনো বেসামরিক যুক্তি নেই এবং এটি আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি।
দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান
এই সিদ্ধানের পর ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, ইউরোপীয়দের এই সিদ্ধান্তকে ইরান দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান এবং নিন্দা জানিয়েছে। এটি অযৌক্তিক পদক্ষেপ।
আরাঘচি স্মরণ করিয়ে দেন, তিনটি ইউরোপীয় দেশের এই প্রক্রিয়া অবলম্বন করার 'কোনো আইনি বা নৈতিক অবস্থান' নেই এবং তাই তাদের ঘোষণার 'বৈধতা নেই'।
তিনি বলেন, 'তাদের ঘোষণা ইরানের বিরুদ্ধে পক্ষপাতদুষ্ট রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এই প্রস্তাবটি কাজে লাগানোর একটি আইনত ত্রুটিপূর্ণ প্রচেষ্টার প্রতিনিধিত্ব করে। বার্লিন, লন্ডন এবং প্যারিস উভয় নথিতে প্রদত্ত বিরোধ নিষ্পত্তি প্রক্রিয়ার প্রয়োজনীয়তাগুলো মেনে চলেনি।'
তিনি আরও বলেন, মার্কিন হামলার পর ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সময় এই ব্যবস্থার অপব্যবহার কেবল 'অসৎ বিশ্বাস' প্রদর্শন করে। এই তিনটি ইউরোপীয় দেশের সিদ্ধান্ত ইরান এবং আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার মধ্যে সহযোগিতা এবং মিথস্ক্রিয়ার বর্তমান ধারাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
ইরানের শীর্ষ কূটনীতিক উল্লেখ করেন, 'এই দেশগুলো যে পথ বেছে নিয়েছে, তা যদি সংশোধন না করা হয়, তাহলে নিরাপত্তা পরিষদের বিশ্বাসযোগ্যতা এবং কাঠামোর জন্য গুরুতর পরিণতি বয়ে আনবে।'
তবে তিনি আশ্বস্ত করেছেন, ইরান বছরের পর বছর ধরে সর্বোচ্চ সংযম এবং আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খুঁজে বের করার প্রতিশ্রুতি প্রদর্শন করে আসছে। তারা নিরাপত্তা পরিষদের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে গঠনমূলক সংলাপ বজায় রাখতে ইচ্ছুক।
একজন জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেছেন, দেশটি ইউরোপীয় দেশগুলোর চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না, তবে কূটনীতির পথ অব্যাহত থাকবে।

