কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার মাতামুহুরী নদীতে গোসল করতে নেমে পানিতে ডুবে নিখোঁজ পিংকি মনি (১৫) নামে এক স্কুল ছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (২৯ আগস্ট) বিকাল ৫টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল তল্লাসি চালিয়ে ওই ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করে। এর আগে অপর দুইবোনকে স্থানীয়রা নদী থেকে জীবিত উদ্ধার করে চকরিয়া উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করে।
মারা যাওয়া পিংকি মনি চকরিয়া কোরক বিদ্যাপীঠের ৯ম শ্রেণীর ছাত্রী বলে জানা যায়। এছাড়া জীবিত উদ্ধার হওয়া আছমা (১০ম শ্রেণী) ও তাসফিয়া (৬ষ্ট শ্রেণী) একই স্কুলের ছাত্রী।
শুক্রবার দুপুর সাড়ে বারোটার দিকে কক্সবাজার চট্টগ্রাম মহাসড়কের চকরিয়া উপজেলার চিরিঙ্গা মাতামুহুরী ব্রীজের পাশে নদীতে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তিন বোন চকরিয়া পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ড মৌলভীরচর এলাকার আবছার উদ্দিনের মেয়ে আছমা আক্তার (১৬), তার বোন তাসফিয়া (১২) ও খালাতো বোন একই এলাকার আনোয়ার হোসেনের মেয়ে পিংকি মনি মাতামুহুরী ব্রীজের পাশে নদীতে গোসল করতে যায়। এ সময় তিনজনই একইসাথে গোসল করতে নেমে তলিয়ে যাওয়ার সময় নদীর অপরপাশ থেকে লোকজন সাঁতরে এসে দুই বোনকে উদ্ধার করলেও পিংকি পানিতে ডুবে নিখোঁজ হয়।
এ সময় স্থানীয় লোকজন মাছ ধরার জাল দিয়ে তাকে উদ্ধারের চেষ্টা চালায়। পরে চট্টগ্রাম থেকে ফায়ার ও সিভিল ডিফেন্সের ডুবুরীর দল চট্টগ্রাম থেকে এসে বিকাল ৫টার দিকে একই স্থান থেকে পিংকি আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করে।
এদিকে বিগত ২০১৮ সালে ফুটবল খেলে গোসল করতে নেমে মাতামুহুরী নদীর একই স্থানে চোরাবালিতে আটকে চকরিয়া গ্রামার স্কুলের ৫ ছাত্র পানিতে ডুবে মারা যায়। ওই এলাকায় ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালি উত্তোলন করায় সৃষ্ট চোরাবলিতে পড়ে প্রতিনিয়ত মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানায়, স্থানীয় কিছু দুর্বৃত্ত রাতের আধাঁরে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালি উত্তোলন করে। এতে নদীর বিভিন্ন স্থানে গভীর গর্তের সৃষ্ট হয়। এসব গর্তে পড়ে সর্বশেষ পিংকির মৃত্যু হয়েছে। তারা এসব বালুখেকোদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
চকরিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন মাস্টার দিদারুল হক জানান, দুপুরে গোসলে নেমে তিন বোনের মধ্যে ২ জনকে স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করলেও পিংকি নিখোঁজ ছিল। পরে সিভিল ডিফেন্স কর্মীদের সহায়তায় ডুবুরী দল চট্টগ্রাম থেকে এসে পিংকির লাশ উদ্ধার করে।
চকরিয়া বদরখালী নৌ পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কাশেম বলেন, কোন অভিযোগ না থাকায় পানিতে ডুবে মারা যাওয়া স্কুল ছাত্রীর লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
