শরীয়তপুর জেলা শহরের দুটি ঐতিহ্যবাহী সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট দেখা দিয়েছে। শিক্ষক সংকটের কারণে ভেঙে পড়েছে বিদ্যালয় দুটির শিক্ষা ব্যবস্থা। শিক্ষার্থীরা বাধ্য হচ্ছে কোচিং সেন্টার ও প্রাইভেট নির্ভর হতে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে বারবার চাহিদাপত্র পাঠালেও এখনো সমাধান আসেনি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৮৯৯ সালে প্রতিষ্ঠিত পালং তুলাসার গুরুদাস সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় এবং ১৯৭৮ সালে প্রতিষ্ঠিত শরীয়তপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়— দুটি প্রতিষ্ঠান ১৯৮১ সালে জাতীয়করণ হয়। প্রতিটি বিদ্যালয়ে প্রভাতি ও দিবা শাখা মিলিয়ে ৫০ জন সহকারী শিক্ষক, দুই জন সহকারী প্রধান শিক্ষক ও একজন প্রধান শিক্ষকের পদ অনুমোদিত রয়েছে। এর মধ্যে শরীয়তপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৫৩টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ২৭ জন শিক্ষক।
এর মধ্যেও শারীরিক শিক্ষার সীমা মণ্ডল, ভূগোলের মো. সানাউল্লাহ ও বাংলার তানিয়া নাজনীন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে অনুপস্থিত রয়েছেন। ইংরেজি শিক্ষক নাজমা সুলতানাও অন্যত্র দায়িত্ব পালন করছেন। এ অবস্থায় বিদ্যালয় চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন প্রধান শিক্ষক।
এমতাবস্থায় ক্রমাগত বিদ্যালয়ের পড়াশোনার মান খারাপ হচ্ছে। চলতি বছর এই বিদ্যালয় থেকে ২৫১ জন শিক্ষার্থী মাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশ নিলে উত্তীর্ণ হয় মাত্র ১৬৬ জন। যা গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে কম।
বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে গিয়ে দেখা গেছে, শিক্ষক সংকটের কারণে অনেক সময় ক্লাস ফাঁকা থাকে।
শিক্ষার্থীরা জানান, গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ক্লাস না হওয়ায় তাদের প্রাইভেট টিউটর ও কোচিং সেন্টারের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। অভিভাবকেরাও অভিযোগ করেছেন, সরকারি বিদ্যালয়ে সন্তানকে ভর্তি করিয়েও তাদের অতিরিক্ত খরচ বহন করতে হচ্ছে।
শরীয়তপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বলেন, '২৪ জন সহকারী শিক্ষক দিয়ে দুই শিফটের বিদ্যালয় চালানো প্রায় অসম্ভব। একজন শিক্ষককে সপ্তাহে ২৫ থেকে ৩০টি ক্লাস নিতে হয়। এতে শিক্ষার মান রক্ষা করা যাচ্ছে না।'
অন্যদিকে পালং তুলাসার গুরুদাস সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। মঞ্জুরিকৃত ৫০টি সহকারী শিক্ষকের পদের মধ্যে কর্মরত আছেন মাত্র ৩৬ জন। এর ফলে এই বিদ্যালয়ের এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েছে ৫৮ শতাংশ শিক্ষার্থী।
বিদ্যালয়টির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ফিরোজ মাতুব্বর বলেন, শিক্ষক সংকটের কারণে ফলাফল আশানুরূপ হয়নি। আমরা মন্ত্রণালয়ে চাহিদাপত্র পাঠাবো এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে চেষ্টা চালিয়ে যাব।
ভারপ্রাপ্ত জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম জানান, ২০২২ সালে নন-ক্যাডার বিসিএস থেকে কিছু শিক্ষক দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরে অনেকে শিক্ষা ক্যাডারে যোগ দিয়ে অন্যত্র চলে যান। অনেকে বদলিতেও গেছেন। ফলে এ সংকট তৈরি হয়েছে। এখন জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে মন্ত্রণালয়ে আবারও চাহিদাপত্র পাঠানো হবে।
শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি তাহসিনা বেগম বলেন, শিক্ষক সংকট মেটাতে আমরা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে চাহিদাপত্র পাঠাচ্ছি। বিস্তারিত ছক আকারে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। পদ পূরণ হলে বিদ্যালয় দুটির শিক্ষা ব্যবস্থার মান বজায় রাখা সম্ভব হবে।
