বছরের বেশিরভাগ সময়ই ঢাকার বাতাসে দূষণের মাত্রা বেশি থাকে, যা শুধু বর্ষাকালে বৃষ্টির কারণে কিছুটা কমে আসে। রোববার বৃষ্টি হওয়ায় সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) ঢাকার বাতাসে দূষণের পরিমাণ কিছুটা কমলেও তা এখনও শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিদের জন্য অস্বাস্থ্যকর পর্যায়ে রয়েছে।
বায়ুমান নিয়ে কাজ করা সুইস প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সকাল ৮টা ৫০ মিনিটের রেকর্ড অনুসারে ঢাকার বায়ুমান ১৪০, যা সতর্কতামূলক বা সংবেদনশীল মানুষের (শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তি) জন্য অস্বাস্থ্যকর বাতাসের নির্দেশক। আজ দূষিত শহরের তালিকায় ঢাকার অবস্থান চতুর্থ। রোববার সকাল ৮টা ৩০ মিনিটের রেকর্ড অনুযায়ী, ঢাকার বায়ুমান ছিল ১৫৩, যা অস্বাস্থ্যকর বাতাসের নির্দেশক এবং দূষিত শহরের তালিকায় ঢাকার অবস্থান ছিল পঞ্চম।
আজ বায়ুদূষণের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে উজবেকিস্তানের তাশখন্দ। শহরটির বায়ুমান ১৮০, যা সবার জন্য অস্বাস্থ্যকর বাতাসের নির্দেশক। দূষিত শহরের শীর্ষ পাঁচে থাকা অন্যান্য শহরগুলো হলো—কাতারের দোহা (১৫৯), আজারবাইজানের বাকু (১৪৯) এবং ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর কিনশাসা (১৩৭)।
সুইজারল্যান্ডভিত্তিক এই প্রতিষ্ঠানটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, ঢাকার বাতাসে অতিক্ষুদ্র বস্তুকণা (পিএম ২.৫) দূষণের প্রধান উৎস। বেশি মাত্রার এই দূষণ শ্বাসতন্ত্রের রোগ, হৃদ্রোগ এবং দীর্ঘ মেয়াদে ক্যানসারের মতো মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে। আইকিউএয়ারের বায়ুমান সূচক (একিউআই) অনুযায়ী, ৫০-এর নিচে থাকলে বিশুদ্ধ বাতাস, ৫১-১০০ হলে সহনীয়, ১০১-১৫০ হলে সংবেদনশীলদের জন্য অস্বাস্থ্যকর, ১৫১-২০০ হলে সবার জন্য অস্বাস্থ্যকর, ২০১-৩০০ হলে খুব অস্বাস্থ্যকর এবং ৩০০ ছাড়ালে তা দুর্যোগপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়।
২০২৩ সালের নভেম্বরে ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নালে (বিএমজে) প্রকাশিত একটি সমীক্ষা অনুযায়ী, জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সৃষ্ট বায়ুদূষণ প্রতি বছর বিশ্বব্যাপী ৫২ লক্ষ মানুষের মৃত্যুর কারণ। এছাড়া, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, গৃহস্থালি ও পারিপার্শ্বিক বায়ুদূষণের সম্মিলিত প্রভাবে বছরে ৬৭ লক্ষ মানুষ মারা যায়।
দীর্ঘদিন ঢাকার বাতাসে অতিমাত্রায় দূষণের কারণে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় বাইরে বের হলে সবাইকে মাস্ক পরার পরামর্শ দিয়েছে। সংবেদনশীল ব্যক্তিদের অতি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যেতে অনুরোধ করা হয়েছে। এছাড়া বায়ুদূষণ কমাতে ইটভাটা, শিল্পকারখানার মালিক এবং সাধারণ মানুষকে কঠিন বর্জ্য পোড়ানো বন্ধ রাখা, নির্মাণস্থলে ছাউনি ও বেষ্টনী স্থাপন করা, নির্মাণসামগ্রী ঢেকে রাখা, পরিবহনের সময় ট্রাক বা লরি ঢেকে নেওয়া এবং পুরোনো ও ধোঁয়া তৈরি করা যানবাহন রাস্তায় বের না করার জন্য বলা হয়েছে।
