শি ও পুতিনের কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের প্রতিশ্রুতি

আপডেট : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১৩:৩১

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) বেইজিংয়ে এক বৈঠকে তাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও মজবুত করার অঙ্গীকার করেছেন। ক্রেমলিনের ভাষ্য অনুযায়ী, উভয় নেতা রাজনৈতিক বিশ্বাস ও সহযোগিতার নজিরবিহীন গভীরতার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন। খবর আনাদোলুর।

বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপল-এ অনুষ্ঠিত বৈঠকে শি জিনপিং পুতিনকে ‘দীর্ঘদিনের বন্ধু’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, চীন-রাশিয়ার সম্পর্ক বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে এবং আজ তা আন্তঃরাষ্ট্রীয় সম্পর্কের জন্য একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে। শি আরও বলেন, দুই দেশ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অর্জনকে সমুন্নত রাখতে এবং একটি 'আরও ন্যায়সঙ্গত ও ভারসাম্যপূর্ণ বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থা' গড়তে একসঙ্গে কাজ করে যাবে।

পুতিন তার বক্তব্যে বলেন, রাশিয়া-চীনের সম্পর্ক বর্তমানে ‘অভূতপূর্ব উচ্চতায়’ পৌঁছেছে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে যুদ্ধকালীন সময়ে ভ্রাতৃত্ব ও পারস্পরিক সহযোগিতার যে অভিজ্ঞতা রয়েছে, সেটিই আজকের এই অংশীদারিত্বের ভিত্তি গড়ে তুলেছে। পুতিন বলেন, 'তখন আমরা একসঙ্গে ছিলাম, এখনও আমরা একসঙ্গেই আছি।' তিনি শি-কে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে আশা প্রকাশ করেন যে আলোচনার ফলাফল হবে ফলপ্রসূ।

ক্রেমলিন জানিয়েছে, আলোচনায় মূলত কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদার, ব্যবহারিক সহযোগিতা বাড়ানো এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ইস্যুতে সমন্বয় শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বহুপাক্ষিক প্ল্যাটফর্মে একসঙ্গে কাজ করার বিষয়টিও আলোচনার কেন্দ্রে ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, বৈঠকে ইউক্রেন যুদ্ধ এবং সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে আলাস্কার অ্যাঙ্করেজে পুতিনের সাক্ষাৎ নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) ২৫তম শীর্ষ সম্মেলনে যোগদান শেষে পুতিন বেইজিং পৌঁছান। বুধবার বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিতব্য সামরিক কুচকাওয়াজে তিনি উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনসহ ২৬টি দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে উপস্থিত থাকবেন। এর আগে মঙ্গলবার শি জিনপিং, পুতিন এবং মঙ্গোলিয়ার প্রেসিডেন্ট উখনা খুরেলসুখের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়।

ইত্তেফাক/টিএইচ