গাছ পাচারের সংবাদ প্রচার করায় হামলার শিকার সাংবাদিকের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা

আপডেট : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১৭:২৩

হবিগঞ্জের সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে কোটি টাকা সমমূল্যের সেগুন গাছ পাচারের তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে বন কর্মকর্তাদের হামলার শিকার হওয়া সাংবাদিকের বিরুদ্ধে এবার পাল্টা চাঁদাবাজির অভিযোগে মামলা দায়ের করেছেন অভিযুক্ত বন বিভাগের কর্মকর্তারা।

বন বিভাগের পক্ষ থেকে সাতছড়ি রেঞ্জের ভারপ্রাপ্ত রেঞ্জ কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ স্থানীয় চুনারুঘাট থানায় এই মামলাটি দায়ের করেন। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর থেকে স্থানীয় সাংবাদিক ও সচেতন মহলে তীব্র সমালোচনার ঝড় বইছে।

এর আগে গাছ পাচারের ভিডিও ধারণের সময় হামলার শিকার হন দৈনিক কালবেলা-এর সাংবাদিক ও ওয়াইল্ডলাইফ অ্যাক্টিভিস্ট মুজাহিদ মসি এবং বাংলা টাইমস পত্রিকার হবিগঞ্জ প্রতিনিধি ত্রিপুরারী দেবনাথ। তারা হামলার ঘটনায় মামলা দায়ের করলে, এরপরই বন বিভাগ থেকে পাল্টা মামলা করা হয়।

গত শনিবার, সাতছড়ি উদ্যানে গোপনে সেগুন গাছ পাচারের আলামত ভিডিও করতে যান ওই দুই সাংবাদিক। এ সময় রেঞ্জ কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ, জুনিয়র ওয়াইল্ডলাইফ স্কাউট নূর মোহাম্মদসহ আরও কয়েকজন কর্মকর্তা তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালান।

এই ঘটনার পর, সাংবাদিকেরা থানায় মামলা দায়ের করলে বন মন্ত্রণালয়ের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা ও হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক সরেজমিনে পরিদর্শন করে ঘটনার সত্যতা পান। তারা হামলার শিকার সাংবাদিকদের সমবেদনা জানান এবং অভিনন্দনও জানান সাংবাদিকতা সাহসিকতার জন্য।

পরে সিলেটের বিভাগীয় বন কর্মকর্তার উদ্যোগে অভিযুক্ত দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কিন্তু এরপরই বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আবুল কালামের নির্দেশে, গত বুধবার, রেঞ্জ কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ সাংবাদিক মুজাহিদ মসির বিরুদ্ধে ৫০ হাজার টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগে চুনারুঘাট থানায় মামলা দায়ের করেন।

এ ব্যাপারে সাংবাদিক মুজাহিদ মসি বলেন, সেগুন গাছ পাচারের বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার জন্য তারা আমাকে বিভিন্ন ধরনের লোভ দেখিয়েছেন। আমি তাতে সম্মত না হওয়ায় তারা ক্ষিপ্ত হয়েছেন। বনের লোকদের নানা অপকর্মের আরও চাঞ্চল্যকর প্রমাণও রয়েছে আমার কাছে। এ ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেছেন তিনি। 

মামলা দায়েরকারী রেঞ্জ কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ বলেন, আমি আমার ডিএফও মহোদয়ের নির্দেশনাক্রমে মামলা দায়ের করেছি। ঊর্ধ্বতনে স্যারের পরামর্শ ছাড়া আমাদের কিছু করার নিয়ম নেই। আমাদের সীমিত লোকবল দিয়ে বিশাল বন পাহারা দেয়া অত্যন্ত কষ্টকর। সেজন্য কিছু সেগুন গাছ চুরি বা পাচার হলেও হতে পারে। 

এ ব্যাপারে সিলেটের বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) আবুল কালাম জানান, রেঞ্জ কর্মকর্তা আমার সঙ্গে আলোচনা করে মামলা দেয়নি। সাংবাদিকের ওপর তাদের হামলার বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক ছিল। সেটির আইনগত ব্যবস্থা নেয়া প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। চুনারুঘাট থানার ওসি নূর আলম বলেন, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলাটি রেকর্ড করা হয়েছে। একজন এসআই সেটি তদন্ত করছেন।

ইত্তেফাক/এএইচপি